Chat
Support
Popular Posts
  • Nikhil Ranjan Sen

    AR 0.00 of 5.0
    AT সার্থক মিলন
    Category কবিতা
  • Sukanta pal

    AR 0.00 of 5.0
    AT গুরুস্মরণ
    Category গীতি কবিতা
  • Chaitali Das majumder

    AR 0.00 of 5.0
    AT আজ কোন কবিতা না
    Category গদ্য কবিতা
  • Badaruddoza Shekhu

    AR 0.00 of 5.0
    AT পরী ও পেয়ালা ( ৪ ) // বদরুদ্দোজা শেখু
    Category ছন্দের কবিতা
  • MD RayhanKazi

    AR 0.00 of 5.0
    AT বন্ধু মানেই
    Category আধুনিক কবিতা
  • Apurba Ray

    AR 0.00 of 5.0
    AT মানুষের গন্ধ নেই ।
    Category অনু কবিতা
E-books
Best Writer
  • 1
    1

    Poran Majhi

    5.00
  • 1
    2

    MD RayhanKazi

    5.00
  • 4
    3

    Sukanta pal

    4.75
  • 7
    4

    Apurba Ray

    4.71
  • 1
    5

    মুহাম্মদ মাসুদ

    4.00
Notice
সুখবর...... সুখবর...... আপনি কি গল্প, কবিতা, ছড়া, উপন্যাস ইত্যাদি লিখছেন? কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারছেন না বা কোন মাধ্যম খুজে পাচ্ছেন না? তবে আর কোন চিন্তার কারন নাই। সামান্য শর্ত সাপেক্ষে কবিকথা প্রকাশনী প্রকাশ করবে আপনার কাঙ্খিত গ্রন্থটি। তাই এখনি যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে ফেসবুকঃ https://web.facebook.com/kobikotha365 ইমেইলেঃ kobikotha24@gmail.com । কবিকথা ডট কম এর পক্ষথেকে সবাই কে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। কবিকথা ডট কম এর ২য় ভার্সনের কাজ চলতেছে, তাই সাময়ীক কোন অসুবিধা হলে আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। সাহিত্য চর্চায় অন্যকে আগ্রহী করি এবং নিজে বেশি বেশি পোষ্ট করি। ধন্যবাদ                    
Recent Post
শুধু শরীর খোঁজে  ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
অধিকারহীন অন্ধকারে  ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
নীল হদয় ⸻  Sukanta pal  Sukanta pal
গুরুস্মরণ ⸻  Sukanta pal  Sukanta pal
সন্ধ্যা  ⸻  Sukanta pal  Sukanta pal
আজ কোন কবিতা না  ⸻  Chaitali Das majumder  Chaitali Das majumder
ভোরের শিশির ⸻  Nikhil Ranjan Sen  Nikhil Ranjan Sen
MD RayhanKazi

MD RayhanKazi

Star Point: 3.99 of 5.00

আধুনিক কবিতা

দিগন্ত-চক্রে নদী ভাসে

দিগন্ত-চক্রে নদী ভাসে
মোঃ রায়হান কাজী 
__________________

সংকীর্ণ দিগন্ত-চক্রের পরিমন্ডলের মাঝে, 
মেঘেদের আনাগোনা বাড়ে সময় অসময়ে। 
অবলুপ্ত নিকট গগনবিহারীতে, 
বজ্র চমকায় বিকট শব্দ করে তীব্রতার সাথে। 

প্রলয়ের হুংকারের সাথে পুষ্পবুকে,
কেন জানি অশ্রু ভরে ওঠে নয়ন জুড়ে?
পরিপ্লুত সিক্ত নদীর কাছে কুটিরদ্বার,
ভাঙ্গন ধরেছে নিমজ্জিত প্রহরে বৃতি হয়ে৷ 

শিহরিত লোকজন উষার সন্ধ্যায়, 
পথস্থ ভয়ে পান্থ নিয়েছে আশ্রয়।
না-জানি ঝড়ে লন্ডভন্ড হয় সবকিছু, 
কুঁড়েঘরে আছে যত আসবাবপত্র আরকিছু।

আষাঢ়ের ক্লান্তি কালে জলের যৌবন আসে,
নদীর দুকোল ভাসেডুবে সন্ধ্যা সকাল নিয়ম করে।
প্রলয়ের হুংকারে মাঠেঘাটে বর্ষার কবলে,
কৃষকের ক্ষতিতে প্রাণ যায় শুকিয়ে। 

নিষিক্ত স্তব্ধতা ভেদি স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, 
কতকিছু যায় তলিয়ে বিকট শব্দের সাথে। 
উন্মাদ শ্রাবণবন্যা ছুটে আসে উজান থেকে, 
অবরুদ্ধ পরান-পল্বলে নিঃস্বনে কল্লোলে। 
 
 

 

 

 

Aug 07, 20
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.57 of 5.00

অনু কবিতা

কলের বাঁশির মতো

তোমার আমার সবার একটা একান্ত ব্যক্তিগত আকাশ থাকা চাই 

সম্পর্কের বেড়াজালে সে আকাশ চুরি হয়ে যায় 

প্রেমহীন হয়ে ওঠে মানুষ 

জটিল হয়ে আসে সব সম্পর্ক 

শুধু কলের বাঁশির মতো বেজে চলে অন্যের সুরে 

নিজের আকাশের সব সীমা রেখা ভেঙে!

Aug 07, 20
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.57 of 5.00

অনু কবিতা

এই শ্রাবণে

অধিকার দেয়নি 

আমি অযাচিত ভিজে যাই 

তার আকাশে যখন বৃষ্টি নামে;

আয় বৃষ্টি আয় ! 

ভাসিয়ে নিয়ে যা তার শূন্য বনে 

মিলবো তার সাথে এই শ্রাবণে  !

Aug 07, 20
0
0
কবিতা-Poem
অদৃশ্য পাখি  ⸻  Poran Majhi  Poran Majhi
অন্ধকূপের কবলে ⸻  Nikhil Ranjan Sen  Nikhil Ranjan Sen
স্বপ্ন স্বাদ  ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
তোকে ছুঁয়ে দেখি  ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
ভাঙার আনন্দ । ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
স্বাধীন স্বাদ নেই । ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
রাখি বন্ধন ⸻  মৃণাল কান্তি রায়  মৃণাল কান্তি রায়
Sukanta pal

Sukanta pal

Star Point: 4.43 of 5.00

কবিতা

নীল হদয়


আমার হৃদয় নীল
নীলাভ হৃদয় জুড়ে বেদনার ফুল
ফুটে আছে হিম সাদা তুষারের গায়
যেখানে সবুজ হাওয়া লীন হয়
আকাশের নীলাভ জলে।
এখানে শিশির কাঁদে
কুয়াশার-ধোঁয়াশার
শিউলির রঙে রঙ মেখে।

Aug 06, 20
0
0
Sukanta pal

Sukanta pal

Star Point: 4.43 of 5.00

কবিতা

সন্ধ্যা


আলোর বসন পরেছে আজিকে
গোধূলি শেষের সন্ধ্যা
কেতকী কামিনী জাগিবে যামিনী
ফুটিল রজনীগন্ধা ।
ঝিল্লিরসুর বাজিছে সানাই
মধূপ গুঞ্জে মন্দে
অঙ্গ সকল বিভোর হল
বকুল চাঁপার গন্ধে।
জোনাকি খচিত কবরীর বেণী
নাচিছে তটিনী ছন্দে
লক্ষ হীরার দীপ্ত আভায়
মেতেছে মন আনন্দে।
মধুর মন্দে বাউল বাতাস
বাজায় আপন সুর
সেই সুরেতে উঠল মজে
সন্ধ্যামনি নুপুর।
নদীর কূলে বিছায় দিয়ে
সবুজ আঁচলখানি
সূর্যের স্তব গাইছে সন্ধ্যা
ছায়ার ঘোমটা টানি।

Aug 05, 20
0
0
Nikhil Ranjan Sen

Nikhil Ranjan Sen

Star Point: 4.08 of 5.00

কবিতা

ভোরের শিশির

কবিতা
ভোরের শিশির
নিখিলরঞ্জন সেন 
============
                           
পায়ের তলা থেকে সরে গেছে মাটি
আছে চোরাবালি।
অন্ধকারে ডোবে ধীরে ধীরে
পায়নিকো টের!

এখন এই চোরাবালি
                           অন্ধকারে দেশটাকে
                           নিয়ে যাবে কোন্ অজানায়
সাধ্য কার তাকে মানায়!

দিনের আলোয় জেগে ওঠা লোকজন
                           আশ্চর্য ভয়ংকর দৃশ্যে অবাক
কোথাও আশ্রয় নেই
মানুষ বড় অসহায়!

সরযূনদীর গর্ভে নিমজ্জিত হয়ে যায় বুঝি
                           রামরাজ্যের রাজধানী
নির্বাণ আসন্ন দেখে পড়ে গেছে সাড়া!

ঘাসের আগায় চকচক করে ওঠে
                           কুয়াশার অন্ধকার কেটে
                           ভোরের শিশির!

©  Nikhil Ranjan Sen : 05082020

Aug 05, 20
257
0
0
0
Poran Majhi

Poran Majhi

Star Point: 4.24 of 5.00

কবিতা

অদৃশ্য পাখি


ঝুঁকে পড়া রক্তের ওপর দিয়ে চলে যায় পরিপাটি প্রেম

বুকের ধ্বংসাবশেষে শীর্ণকায় যে নর্তকী নেচে যায়
তার পালন করা আঁধারে কত সত্যি লুকিয়ে থাকে

এঁকে যায় সে ছবি; লিখে যায় সে কবিতা; গেয়ে যায় সে গান

রূপ বদলাইনি
হৃদয়ের ঘর ছাওয়া তার-ই উদ্বৃত্ত খড়ে

মাঝে মাঝে ঝড় আসে; সে ঝড়ে
সব চিহ্ন মুছেও যায়

তবুও

তার কম্পিত মিঠেল ঠোঁটের মিঠুন রোদে
তার কেটে যাওয়ার আঙুলের ব্যথায়
একা একা অদৃশ্য ঘাসপাখি হয়ে যাই

সে পাখির ডানায় শুধু পূজো পূজো সুবাস

কপিরাইট--পরাণ মাঝি/240920191133

Aug 05, 20
0
0
Nikhil Ranjan Sen

Nikhil Ranjan Sen

Star Point: 4.08 of 5.00

কবিতা

অন্ধকূপের কবলে

কবিতা
অন্ধকূপের কবলে
নিখিলরঞ্জন সেন
            
চলছে অতিমারি সারাবিশ্বজুড়ে
আসল রহস্য নেই জানা!
সারাদেশজুড়ে লকডাউন
গরিব মানুষ কর্মহীন।

ওরা দিনে দিনে হয় নির্জীব-অস্থিচর্মসার
খাটার শক্তি নেই
মৃত্যুমুখে দিন গোনে।
ত্রাণের মাল যত চলে যায় 
                                    মরুসাগরে হাঙরের পেটে!

নির্জীব মানুষেরা খিদের তাড়নে
                                     করে ছোটাছুটি
হয়ে পড়ে আরো নির্জীব
মরুসাগরের তলে আশ্রয় পায়
                                     চোখের মানিক
জীবন্ত প্রেতেরা জন্ম নেয়!

মহাশূন্যে  পৃথিবী ছুটছে অন্ধকারে
অন্ধকূপেরা দেখা দেয় ক্রমে ক্রমে
ওরা গিলে খায় সবকিছু
নির্জীব জীবেরা আজ ওদের খাদ্যতালিকায়।

মাকড়সার জাল চারিধারে
একবার হলে কুক্ষিগত
                                     পারে না ফিরতে
বুভুক্ষুর খিদে স্থান পায়
                                      অন্ধকূপের গহ্বরে!

Copyright : Nikhil Ranjan Sen : 04082020

Aug 04, 20
276
0
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.57 of 5.00

কবিতা

স্বপ্ন স্বাদ

            স্বপ্ন স্বাদ
অপূর্ব রায়
ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে গুলো আজ বড় ক্লান্ত
নিথর হয়ে আসে শ্বেত শ্বাস
নিথর হয়ে আসে শরীর
ইচ্ছে গুলো জীবনের জটিল পাঁকে ঘুরপাক খায়
অবাঞ্ছিত দুই চারটে আশা মিট মিট করে জ্বলে
জীবনের উষ্ণতা নেই
নেই জীবনের গন্ধ
ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন স্বাদ আজ বড় ক্লান্ত ।

Taste the dream
Apurba Ray
The desire to touch is very tired today
White breath becomes frozen
The body becomes frozen
Desires revolve around the complex mud of life
Unwanted two or four hopes flicker
There is no warmth of life
No smell of life
The dream taste of touching is big tired today.

Aug 04, 20
294
0
0
0
অনু কবিতা-Anukobita
অধিকারহীন অন্ধকারে  ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
মানুষের গন্ধ নেই । ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
এবং ভিজে যেতাম  ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
পূজা ⸻  Nikhil Ranjan Sen  Nikhil Ranjan Sen
কবিতা হবি? ⸻  Harunur Rashid  হারুনুর রশীদ
মাথায় তুলে রাখা। ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
পাগল ⸻  Harunur Rashid  হারুনুর রশীদ
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.57 of 5.00

অনু কবিতা

কলের বাঁশির মতো

তোমার আমার সবার একটা একান্ত ব্যক্তিগত আকাশ থাকা চাই 

সম্পর্কের বেড়াজালে সে আকাশ চুরি হয়ে যায় 

প্রেমহীন হয়ে ওঠে মানুষ 

জটিল হয়ে আসে সব সম্পর্ক 

শুধু কলের বাঁশির মতো বেজে চলে অন্যের সুরে 

নিজের আকাশের সব সীমা রেখা ভেঙে!

Aug 07, 20
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.57 of 5.00

অনু কবিতা

এই শ্রাবণে

অধিকার দেয়নি 

আমি অযাচিত ভিজে যাই 

তার আকাশে যখন বৃষ্টি নামে;

আয় বৃষ্টি আয় ! 

ভাসিয়ে নিয়ে যা তার শূন্য বনে 

মিলবো তার সাথে এই শ্রাবণে  !

Aug 07, 20
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.57 of 5.00

অনু কবিতা

শুধু শরীর খোঁজে

তার হাতে হাত রেখে প্রেম জাগে না 

দেহে দেহ রেখেও প্রেম জাগে না  

কিছু উষ্ণ সময় 

শুধু জেগে ওঠে দেহ !

সেখানে কোন প্রেমিকা প্রেমিকের গন্ধ নেই 

শুধু শরীর খোঁজে শরীরে সঙ্গ 

এই ভোগবাসনার পৃথিবীতে ।

Aug 07, 20
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.57 of 5.00

অনু কবিতা

অধিকারহীন অন্ধকারে

রাত ভোর 

জেগে আছে সবুজ বাসনা গুলো 

রহস্যময় এক আগুন  

সবাই ভালোবেসে পুড়তে চায় অধিকারহীন অন্ধকারে !

Aug 07, 20
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.57 of 5.00

অনু কবিতা

মানুষের গন্ধ নেই ।

ওদের শরীর মানুষের গন্ধ নেই  

শুধু চেনে অর্থ  -

আর সুখ অন্ধকার! কিছু সম্পর্ক হীন গরম দেহ !

ওদের শরীর মানুষের গন্ধ নেই!

Aug 01, 20
319
0
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.57 of 5.00

অনু কবিতা

এবং ভিজে যেতাম

         এবং ভিজে যেতাম
অপূর্ব রায় ।

যদি জানতাম তুই বৃষ্টি হয়ে আসবি
আমি খোলা জানালায় দাড়াতাম
কিছু অপেক্ষা ,কি অসহিষ্ণুতা !
ধৈর্যের বাধ ভাঙে ।
হঠাত্ খিড়কিতে আওয়াজ
মন ওঠে কেঁপে
ভিতরে ভিতরে চঞ্চল হয়ে উঠি
উদ্বাস্তু কিছু ভাবনা নিয়ে যায় সম্পর্কহীন এক অসীম সুখের পাড়ে
যেখানে নিরাভরণা এক সুখ পাখি আমি
ভিজে যাই তোর বৃষ্টি জলে।

Jul 30, 20
0
0
গদ্য কবিতা-Prose poetry
আষাঢ়ের দিনে  ⸻  MD RayhanKazi  MD RayhanKazi
বদলে যাওয়ার বাগান জুড়ে  ⸻  Poran Majhi  Poran Majhi
স্মৃতির এক টুকরো পাহাড় ⸻  Chaitali Das majumder  Chaitali Das majumder
জানলা খুলে ⸻  Poran Majhi  Poran Majhi
খুঁজে পেলাম নিজেকে ⸻  Chaitali Das majumder  Chaitali Das majumder
নির্জলা চুম্বন ⸻  Shibani Bagchi  Shibani Bagchi
আমার_মায়ের_চুপ_কথারা  ⸻  Shibani Bagchi  Shibani Bagchi
Chaitali Das majumder

Chaitali Das majumder

Star Point: 4.11 of 5.00

গদ্য কবিতা

আজ কোন কবিতা না


আজ আর কোন কবিতা নয় মনের ঘরে আঁকবো ধূসর কালো রঙের ছবি ,
যেমন ভাসা মেঘে আঁকা রয়েছে এক নির্লিপ্ত
জননীর মুখ........
তিনি ছিলেন কারোর প্রিয় মা ,কারোর সহধর্মিনী, কারোর বা সহচরী।
আজ এক মুহূর্তে বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গিয়ে
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে এক নিমিষে হয়ে গেলেন শুধু ডেড বডি।
অপেক্ষায় শ্মশান ঘাট আর সাজানো চিতা।
কত সাধের সাজানো সংসার। সব মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন সেই না ফেরার দেশে ।
ফেলে রেখে গেলেন এক নিথর দেহ। তাতে কোনো স্বপ্ন নেই ,প্রেম নেই ,ভালোবাসা নেই.........
সব কিছু দাউ দাউ করে আগুনে জ্বলা চিতার মধ্যে বিসর্জন দিয়েছে।
কিন্তু একদিন ওই মানুষটি কে নিজের চোখে দেখেছিলাম ।
তিনি যেমন রুপে ছিলেন সরস্বতী, গুণে মা লক্ষ্মী ,রন্ধনে মা অন্নপূর্ণা......

তার হাতের রান্না খেয়ে সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম।
আর আজ মুগ্ধ হলাম তার অদ্ভুত চলে যাওয়া
দেখে সাবলীল ভাবে ...শরীরে সেই মা লক্ষ্মীর শ্রী।

মৃত্যুর শব্দ আগে থেকে শুনে ছিল কিনা জানা নেই হয়তো দুর্যোগে কানে আসেনি সে শব্দ.......
একদিন বিশ্বাসের চোখে এঁকেছিল বাড়ির সদর দরজায় আলপনা। সেই আল্পনায় দেখা যাচ্ছিল মা লক্ষ্মীর বিদায়ের দুখানি পদচিহ্ন।
আজ আর কোন কবিতা না ক্ষতবিক্ষত হৃদয় আর নয়নে অস্রু প্লাবন।

Aug 05, 20
0
0
Poran Majhi

Poran Majhi

Star Point: 4.24 of 5.00

গদ্য কবিতা

চন্দ্রগ্রহণ


যে পাখিটি একদিন যাবতীয় মেঘ সরিয়ে আকাশ দেখবে বলে,মেলেছিল ডানা অনন্ত উড়ানে।

দূর থেকে শ্রেয়সী চাঁদও বলেছিল গোপনে---
এসো একদিন আমার বাড়ি
দেখে যেও চন্দ্রিমা
একা আমি, ভীষণই একা।

মেঘের পর্দা সরাতে সরাতে পাখিটি যখন
পৌঁছে গেল চাঁদের কক্ষপথে
তখন ঘোর চন্দ্র গ্রহণ -----

কোনো পাখি মানুষ হয় না তবে কোনো কোনো মানুষ একা হলে পাখি হয়।

কপিরাইট -- পরাণ মাঝি/050520202343

Jul 20, 20
0
0
Chaitali Das majumder

Chaitali Das majumder

Star Point: 4.11 of 5.00

গদ্য কবিতা

পারিনি আজও বলতে


চাঁদের বুকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে
দেখেছি সেদিন রাতে।
তাই চাঁদকে এত ভালোবেসেও ওকে জড়িয়ে
ধরতে পারিনি ......
কাছে গিয়ে বলতে পারিনি .....................
চাঁদ ভালোবাসি তোমায়।
চাঁদের আলোয় আলোকিত হয় এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড!
চাঁদ সবার কাছে প্রিয়.....
মেঘের আড়াল দিয়ে কোন এক দিন চাঁদ চলে এসেছিল জোৎসনা মাখা রাতে আমার এক টুকরো বারান্দায়, শুধু আমাকে দেখার জন্য।
তখনো বুঝিনি ওর জ্বলজ্বলে চোখ দুটো কি বলতে চায়।
তাকে দেখেও না দেখার ভান করে বসে ছিলাম বারান্দার দরজা বন্ধ করে ঘরের ভেতরের একান্তে।
চাঁদ অভিমান করে বসে ছিল ফাঁকা বারান্দায় অনেকক্ষণ প্রায় সারারাত...........................
শুধু আমাকে দেখার আশায়।
ভোর হবার আগেই চলে গিয়েছিল কিছু না বলে।
তখন ভোরের আলোয় চোখ মেলে চাঁদকে খোঁজার চেষ্টা করি।
ওকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করি ,দিনের আলোয় খুঁজি সারা আকাশটাতে বোকার মত।
দিনের আলোয় চাঁদ হারিয়ে যায় আকাশের কোন এক স্বপ্নাদেশে।
দিন কাটাই আলো-আঁধারি জোৎসনা মাখা আকাশে চাঁদের অপেক্ষায়........।

Jul 20, 20
0
0
MD RayhanKazi

MD RayhanKazi

Star Point: 3.99 of 5.00

গদ্য কবিতা

আষাঢ়ের দিনে

আষাঢ়ের দিনে
মোঃ রায়হান কাজী 
--------------------------
আষাঢ় গগণে বাড়ছে মেঘেদের আনাগোনা, 
আকাশ ছেয়ে আছে ঘন অন্ধকারে অবেলাতে।
অঝোরে ঝরছে বৃষ্টি বাতাস বেয়ে পুলকে দুলিয়া,
হৃদয় আমায় বেজে ওঠে পুরোনো স্মৃতি স্মরণ করিয়া।

বিস্তৃত মাঠঘাট জুড়িয়া বিদুৎ চমকায় আগুনে ঝলসিয়া,
নব তৃনদলে বাদলের সুর ভাসে মুক্ত পরিবেশে।
আবার এসেছে সবুজের আগমন বৃষ্টি ফোঁটার সাথে, 
নতুন করে অরণ্য সাঁজে, এই কথা বলে মোর প্রাণ।

কৃষকের কন্ঠে প্রতিধ্বনিতে জেগেছে দেখ,
সংস্কৃতির আর পল্লীগীতির নিদর্শনের গান।
মাঠে গিয়েছে রাখাল কৃষক ফিরেছে কী তারা? 
নাকি ঝরে আটকা পড়েছে মাঝপথে রহিয়াছে থমকিয়া। 

গগণ জুড়িয়া শব্দের তীব্রতা বাড়ে পলকে, 
হৃদয়ে মোর কম্পন লাগে ওঠি শিহরিয়া। 
এই ভয়ে কোনঠাসা হয়ে লোকজন বসে আছে, 
আজি নাহি আর বাহির হয় ঘর থেকে।

আষাঢ়ের দিনে নদীর দুকূল ভাসে জোয়ারের টানে, 
মাঝির বুক কাঁপিয়া ওঠে থরথরিয়া ঢেউয়ের তালে।
ঘাটে যেতে পথ হয়েছে পিছল কাদামাখা, 
না জানি পড়ি পা পিছলিয়া ভাঙ্গি হাঁড় তীরে গিয়া। 

বেলা হতে শেষ নাহি আছে প্রহর আর বেশিরে,
তোরা আছিস কারা বাহিরে আয় ফিরে আয় ঘরেতে। 
একটু পড়ে নামবে বুঝি ঝড় প্রকট আকারে দুমড়িয়ে, 
উড়বে গাছপালা বৃষ্টির সাথে আষাঢ়ের হাওয়াতে। 
 

 

 

 

 

Jun 17, 20
0
0
Poran Majhi

Poran Majhi

Star Point: 4.24 of 5.00

গদ্য কবিতা

বদলে যাওয়ার বাগান জুড়ে


সত্যি কী কিছু বলার কিম্বা করার ছিল না ?
হয়ত ছিল ----
ভেতরে ভেতরে যে খেলাটা চলে তা কী কেউ বলতে পারে ?

যেখানে এসে প্রতিদিন দাঁড়াও
ক্লান্তি মুছে অন্য ক্লান্তিতে ঘুমাও

সেই নীরব সময়ে ---
আমি স্তূপ ঠেলে ঠেলে গভীর রাতকে দিনমান করে তুলি।

বদলে যাওয়ার বাগান জুড়ে প্রখর রোদ্দুর
কঠিন ব্যামো ছায়াতে -- কোন পথে যাবো ?

যেখানেই দাঁড়াই না কেন এক অনাথ বৃষ্টি এসে ভেজায়।ভিজে যায় শুকনো অনাদরি ঠোঁট।

প্রাচীন স্তম্ভের মতো কিছু জিজ্ঞাসা পাহাড় হলে
শিরা - উপশিরার গহীন গাঙে ভাসতে ভাসতে
দাবানল ছড়িয়ে পড়ে রক্তমাংসের পরিছন্ন বনে।

তবুও

দুহাতে কচুরিপানা সরিয়ে আরও সামনের দিকে সাঁতরাতে থাকি---
সেই চিরন্তন খেলার খোলা মাঠের দিকে।

কপিরাইট-- পরাণ মাঝি/140520201722

Jun 09, 20
0
0
Chaitali Das majumder

Chaitali Das majumder

Star Point: 4.11 of 5.00

গদ্য কবিতা

স্মৃতির এক টুকরো পাহাড়


খোলা জানালায় দাঁড়িয়ে বারবার মনে পড়ছিল তোর সেই দিনের চলে যাওয়াটা.........
কিছুতেই ছেড়ে যেতে চাস নি।
পিছন ফিরে বারবার করুন চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছিলিস।
আমি কিন্তু কঠিন থেকে আরো কঠিন হয়ে সেদিন দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম ।

তোর আর আমার একটা ধুসর সন্ধ্যার কথা মনে পড়ে গেল , হাতটা ধরে সেদিন কত কি বলতে চেয়েছিলিস।

পাওয়া না পাওয়ার ইতিহাস সবটুকু বলে হয়তো হালকা হতে চেয়েছিলিস।

আমি কিন্তু সে দিন ও নিরব ছিলাম, জানতে চাইনি তোর ছোট্ট পৃথিবীর কথা।
আমার চোখে উচ্চ আকাঙ্ক্ষা শুধু তোকে নিয়ে, তোর গরিবি আনায় আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল।

তাই তোকে একপ্রকার জোর করেই আর্মির চাকরিটা করতে পাঠিয়েছিলাম ।
কোনদিন মনে ভাবিনি তুই হারিয়ে যাবি।

প্রথম যেদিন আর্মিতে গিয়ে জয়েন করলি তারপর থেকে একটা দিনও কথা বলিসনি আমার সাথে ।

বড্ড অভিমানী ছিলিস আমিতো জানি সেটা ।আমি ফোন করলেই বলতিস ছুটিতে ওখানে গিয়ে কথা বলব।
মনের মধ্যে অভিমানটা যত্ন করে রেখে দিয়েছিলিস।
কত রাত আকাশের দিকে তাকিয়ে জোনাকির মেলবন্ধন দেখেছি আর চোখের পাতায় তোকে নিয়ে স্বপ্ন এঁকেছি ।
দূর থেকে ভেসে আসা জুঁই ফুলের গন্ধ নিজের গায়ে মেখে নিয়ে তোর আলিঙ্গন উপভোগ করেছি।

সেদিন মধ্যরাতে হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো। মনে একরাশ অজানা সংকেত তাড়াতাড়ি ফোনটা রিসিভ করলাম।

সব নিশ্চুপ হয়ে গেল, ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে জানিয়ে দিল তুই নাকি না ফেরার দেশে চলে গেছিস চিরতরে।
হাত থেকে রিসিভারটা পড়ে গেল ,চোখের কোনে কোথা থেকে যেন জলপ্রবাহ এসে জমা হল।
চোখটা বুজে তোকে দেখলাম মনে হল যেন তুই আমায় বলছিস ভালো থাকিস।
মনের বুকে এঁকে দিয়ে গেলি স্মৃতির এক টুকরো পাহাড়। সেখানে সারা জীবন নির্বাসনে রেখে গেলি আমাকে।

Jun 03, 20
0
0
উপন্যাস-Novel
আরতী ( পর্ব ৩৬) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতী ( পর্ব ৩৫) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতী ( পর্ব ৩৪) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতি (পর্ব ৩৩ ) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতি (পর্ব ৩২ ) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতি (পর্ব ৩১ ) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতি (পর্ব ৩০ ) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতি ( অন্তিম পর্ব )


১লা জানুয়ারী আরতীর জীবনের একটি স্মরণীয় দিন । পিকনিকের চিন্তায় রাতে ঘুমাতেই পারল আনন্দে।
ছোটবেলায় দু'একবার চরুইভাতি খেলেও, এমন করে পিকনিকে আজই প্রথম যাওয়া তার ।
ভোরবেলা শীতের পোশাক পরে নরেশের সাথে রওনা হলো বড় রাস্তায় । প্রায় আধাঘন্টা পথ হেঁটে এসে দেখল তাদের বাসগাড়িটা দাঁড়িয়ে রয়েছে রাস্তার ধারে । সনাতন আগেই চলে গেছে , কারণ সে চায় না 'গ্রামের মানুষ আরতিকে ঘিরে কিছু বলুক'।
গাড়ির পেছনদিকে গিয়ে জানালার পাশে বসে একটা জায়গা রেখে দিয়েছে সে ।
নরেশ গাড়িতে উঠে সীট খুঁজতে খুঁজতে সনাতনের পাশে আরতিকে বসিয়ে সামনের দিকে গিয়ে বসল। আরতি তাকে কিছু বলতে উদ্যত হতেই গাড়ি ছেড়ে দিলো।
মনেমনে সামান্য আপত্তি করলেও হয়তো খুশিই হয়েছে এখানে বসে আরতি । সে লক্ষ্য করল মাত্র দু'জন বিবাহিতা অচেনা মহিলা ছাড়া আর কোনো মেয়েমানুষ নেই গাড়িতে ।
গাড়ি দ্রুতবেগে এগিয়ে যাচ্ছে তার গন্তব্যে । বাদিকে ঘুরে হাসিমুখে সনাতনের দিকে তাকিয়ে আরতি বলল , " এখানে জায়গা রেখেছ কেন ? " সনাতন মুখে কিছুই না বলে এমনভাবে তাকিয়ে রইল যেন , কিছুই শোনেনি সে।
আরতি বিরক্তির হাসি হেসে জানালার দিকে চেয়ে রইল ।
অনেকক্ষন পর আবার চোখ ফিরিয়ে সনাতনকে তার দিকে অপলকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরতি বলল , " সনাতন দা , ছিঃ ! আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকলে,মানুষ কী ভাববে বলতো ! "
সনাতন যেন সম্বিত ফিরে পেল এবার ।
সনাতন হেসে বলল --- সত্যিই তো! আসলে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম ।
ঘন্টা দুয়েক পরেই গাড়ি থেমে গেল একটা ফাঁকা জায়গায় । দু'টি ছেলে সবার হাতে হাতে একটি করে প্যাকেট তুলে দিয়ে বলল , " নিন সবাই টিফিন করে নিন । আর এক ঘন্টা পরেই আমরা টো-টো পাড়ায় পৌঁছে যাবো । সনাতন তার টিফিনটা আরতির হাতে দিয়ে বলল ---- এটা তোমার হাতে রেখে দাও , আমি একটু দেখে আসি , কোথায় এলাম । সাউন্ড বক্সে সুন্দর রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজছে, গাড়ির যাত্রীরা সবাই গান শুনছে ।
আবার দ্রুতবেগে চলতে শুরু করল জঙ্গলের বুক চিরে গাড়িটি । আরতি মৃদু হেসে সনাতনকে চিমটি কেটে হাতে টিফিন দিয়ে বলল --- এই যে মশাই , এগুলো কে খাবে ?
সনাতন সামান্য কিছু নিয়ে জোর করে তার হাতে দিয়ে বলল , " তুমি খাবে সব "
আরতি কথা না বাড়িয়ে টিফিন মুখে তুলেই লজ্জা পেয়ে রাগতসুরে বলে উঠল , " তুমি ভীষণ হ্যাংলা তো , শুধুই মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকো; বলিএমন করে দিকে তাকিয়ে থাকলে আমি খাবো কী করে ? সনাতন লজ্জা পেয়ে মাথানীচু করে বলল ---আমার কী দোষ , আমার চোখ দুটোই যত নষ্টের গোড়া ।
আরতি ইশারা করে বলল গাড়ির লোকেরা কী ভাববে বলতো ? সনাতন বলল ----আমাদের সিটে ভাগ্যিস কেউ নেই ।
জানালা দিয়ে তাকিয়ে সুন্দরী ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক দৃশ্যে নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলেছে আরতি । সবুজে সাজানো বন-জঙ্গলে ছোট ছোট মাটির ঘর , কোথাও আবার বানরের দলেদের রাস্তার ধারে দলবদ্ধ বিচরণ, বড় অপূর্ব লাগছে তার । ইচ্ছে করছে কারো হাতধরে ঘুরে বেড়াতে এই জঙ্গলে তার।
একটু পরেই গাড়িটি চা বাগানের মধ্যদিয়ে ছুটতে শুরু করল ----- বিস্তীর্ণ চা-বাগানের শোভা তাকে আকৃষ্ট করছে বারবার । সে সনাতনের হাতধরে যেন বাগানের সুরু রাস্তা দিয়ে যেন দৌড়ে যাচ্ছে মনেমনে ।
হঠাৎ গাড়ি থেমে যতেই চমকে উঠে দেখল সবাই গাড়ি থেকে নেমে যাচ্ছে । সনাতন তাকে ধাক্কা দিয়ে বলল ---- চলো , টোটো পাড়া এসে গেছি আমরা ।
খুব সুন্দর পিকনিক-স্পট এই টোটো পাড়া । তাদের মতো আরো চারটি বাস দাঁড়িয়ে রয়েছ এখানে । সুন্দর একটা ঝরনা নদী বয়ে গেছে, তার দুদিকে দুটো উঁচু পাহাড় । পাহাড়ের উপরে একটা বাজারের মতো দেখা যাচ্ছে । পাশেই একটা বড় এলাকা জুড়ে কমলা বাগান। তাদের টিমের কয়েকজন উঠে যাচ্ছে বাগানের দিকে । প্রাকৃতিক দৃশ্যে অভিভূত আরতি তন্ময় হয়ে দেখছে সবকিছু দু'চোখে । নরেশ তার সামনে এসে বলল ------ আরতি , কেমন লাগছে দেখতে ?
---- ব্যাপক লাগছে আমার , ইচ্ছে করছে পাহাড়ে উঠি একটু ।
---- তুই তাহলে সনাতনের সাথে পাহাড়ে উঠে ঘুরে দ্যাখ সব ।
---- দাদা , তুই ?
-"আমি শঙ্করের সাথে কমলা বাগানে গেলাম " বলেই নরেশ চলে গেল ।
আরতি লক্ষ্য করল , সনাতনের মুখে একটা উজ্জ্বল হাসি খেলছে ।
আরতি তার চকচকে হাসি দেখে সামান্য আতঙ্কিত হলেও মুখে কিছু না বলে পাহাড়ে উঠতে শুরু করল। একটা সরু রাস্তা এঁকেবেঁকে উপরে উঠে গেছে পাহাড়ের চূড়ায় । এই চাপা রাস্তা ধরে দু'জনে উপরে উঠতে নিয়ে দেখল আরো কয়েকজন তাদের আগে আগে উঠে যাচ্ছে । তাদের পোশাক দেখে মনে হলো ---- এরাও তাদের মতো ঘুরতে এসেছে ।
কিছুদূর উঠতেই দু'জনেই গায়ের শোয়েটার খুলে ফেলল । আসলে পাহাড়ে উঠা বড় পরিশ্রম । তারা ঘেমে যাচ্ছে দু'জনেই ।
হঠাৎ সনাতন আরতিকে বলল , " আরতি , চল আমরা বাদিকের রাস্তায় একটু উঠে দেখি " ।
দুজনে বাদিকের রাস্তায় কিছুদূর উঠে আর রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না । এখান্ থেকে উপরে ওঠা খুবই মুস্কিল , কারণ রাস্তা বড়ই চড়াই-উতরাই ।
আরতি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল ---- বাপ রে ! এদিকে আর ওঠা যাবে না সনাতন দা ।
সনাতন চট করে সেখানে বসে পড়ে বলল," বসো এখানে , বিশ্রাম করি একটু " ।
--- একদম লোকজন নেই এখানে , আমার কিন্তু ভয় লাগছে সনাতনদা ।
--- কাকে ভয় করছ আরতি ? আমাকে ?
" জানি না ! " বিরক্তির সুরে উত্তর দিয়ে আরতি বলল ----- একদম মিথ্যেবাদী তুমি ।
---- কেন ?
--- সেদিন তো খুব বললে ---- অনীশ বাবুর সাথে পরিচয় করাবে , কোথায় তোমার অনীশ বাবু ?
---- অনীশ বাবুকে দেখলে চিনবে তুমি ?
--- হয়েছে তোমার লেকচার , এই জঙ্গলে অনীশ বাবুর খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই তো , এসে দেখা করবে ।
--- অনীশ বাবু এসেছে আরতি ।
--- হয়েছে , আর দরকার নেই কষ্ট করার ।
--- কেন , দেখবে না তাঁকে ?
--- আসলে আমি বুঝে গেছি সব ।
---কী বুঝেছ ?
-- একটা সুন্দরী মেয়েকে কাছে পেতে , মানুষ কত মিথ্যে বলে । বেশ তো পেয়েছ আমাকে একাএকা নির্জনে । খুব মজা লাগছে না ?
নরেশ কাছেই গাছের একটা ফুল তুলে হাতে নিয়ে একদম অন্যমনস্ক হয়ে কিছুক্ষণ বসে রইল । আরতি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে ভাবছে ---- হায়রে একদম দু'জনে একা আমরা । সনাতন যদি বাজে কোন মতলব এঁটে থাকে মনে মনে ? আমি কী করব তখন ?
একটু পরেই সনাতন গম্ভীর গলায় বলল -----
আরতি , তোমার অনীশ বাবুকে দেখবে ?
--- আমার অনীশ বাবু ? সবারই তো অনীশ বাবু তিনি । কোথায় সে?
---- আরতি , অনীশ বাবু আর কেউ নয় । আমি সেই উপন্যাসিক অনীশ , ছদ্মনামে সব বইগুলি প্রকাশ করেছি ।
আরতির সুন্দর মুখটি আরো সুন্দর হাসিতে ভরে উঠল । সে নিজেকে মূহুর্তে হারিয়ে ফেলল , সনাতনকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে বলল ----- অনীশ ! তুমি যে আমার মনের কোথায় জায়গা পেয়েছ জানো না । কী অপূর্ব তোমার লেখা ! তোমার প্রতিটি উপন্যাসেই আমি নিজেকে খুঁজে পাই ! আমি প্রথমেই সন্দেহ করেছিলাম ----- আমার জীবনের এতকথা তুমি ছাড়া কে লিখতে পারে আর ?
সনাতন নিজেও ভাবাবিষ্ট আরতির হাত জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলল ------ আরতি ,আমার মনের জগতে তুমি কতটা জায়গা করেছ , তা তুমি জানো না । তোমাকে ভেবেই ' স্কুলে পেছন বেঞ্চে বসা ' সেই সনাতন আজ অনীশ হয়েছে ।
চরম ভাবাবেগে আপ্লুত সনাতনের চোখের জল মুছিয়ে আরতি বলল ----- ছিঃ ! ছেলেমানুষ কখনো কাঁদে ? কান্না তো আমার মতো অভাগীর জন্যই দিয়েছে ভগবান ।
আর কাঁদবে না সনাতন , তোমার আরতি তোমার কত কাছে আজ ! তাকে পেয়েও কাঁদবে ? " বলেই নিজের চোখ মুছে সনাতনের মুখের দিকে চেয়ে রইল আরতি।
সনাতন হঠাৎ তৃপ্তির হাসি হেসে বলল ---- আরতি , আমরা কি আবার নতুন করে শুরু করতে পারি না ?
কাঁদো কাঁদো আরতি সনাতনের মাথায় হাত দিয়ে বলল ---- না! সনাতন , আর তা হয় না। তুমি আমার জীবনে অনীশ হয়েই বেঁচে থাকবে চিরকাল । আমি সনাতন হিসেবে তোমাকে পেতে চাইনা আর কোনদিনও ।
--- কেন , আরতি ?
---- আরতির জীবনের সাথে আর নিজেকে যোগ করতে চেয়ো না সনাতন । এই পোড়াকপালির জীবনটা যে শুধু দুঃখ দিয়েই গড়া!
তুমি যে আরতিকে পাশে চাইছ, সে তোমার যোগ্য নয় সনাতন ।
যৌবনের স্বপ্ন দেখার আগেই সে আরতি গণধর্ষিতা হয়ে পেয়েছে সমাজের লাঞ্ছনা । ভালোবাসার স্বপ্নে মসগুল হওয়ার আগেই বাবা তাকে এক অমানুষের পরিবারে বিয়ে দিয়ে সমাজের বুকে কলঙ্কিত করল । আজ যে কেউ তার দিকে আঙুল তুলে বলবে ---- মেয়েটি ভালো নয় , সে স্বামীর ঘর থেকে চলে এসেছে । কি লজ্জার জীবন তার , বলো !
আমি জানি সনাতন ,আবার যদি আরতি নতুন করে ঘর বাঁধে ---- সেই ঘরেও বিধাতা নিজের হাতেই আগুন জ্বেলে পুড়িয়ে দেবে তার সমস্ত সুখ ।
সনাতন অধীর আগ্রহে তার কথাগুলো শুনে যাচ্ছিল শুধুই । তার মনের উজ্জ্বল আকাশ অন্ধকারে ভরে গেল।
সে অস্ফুট কান্নায় বলল ---- আরতি ! আমার ভালোবাসার গঙ্গাজলে তোমার সমস্ত কালিমা ধুয়ে দেবো আমি । সমাজ তোমাকে যতই ঘৃণা করুক , তোমার স্থান আমার বুকেই থাকবে । আর না কোরো না আমাকে ।
আমি আমার পবিত্র আরতিকে সারাজীবনের জন্য কাছে পেতে চাই।
-- তা হয় না সনাতন, আমি একটা নিষ্পাপ শিশুর মা হয়ে তার ভরসা আজ। আমি আমার সন্তানের কাছে ওর মাকে আর ছোট করতে পারব না গো! এই কথাগুলো বলতে বলতে গভীর কান্নায় আচ্ছন্ন আরতি সনাতনের হাত ধরে বলল--'তুমি আমার একটা কথা রাখবে সনাতন? বলো রাখবে!
--' তুমি কাউকে বিয়ে করে সংসার শুরু করো।
আমার কোনদিনই ঘর বাঁধার স্বপ্ন নেই আর; আমি যে একজনের মা এখন; সেই নিষ্পাপ শিশুটি তার মায়ের মুখ চেয়ে বসে আছে ।
তাছাড়া ভালোবাসলেই কী ঘর বাঁধতে হবে ? বলো ?
ভালোবাসার কি কখনো মৃত্যু আছে ?
আমি সারাজীবন তোমাকে ভালোবেসেই
যাবো । আর ভগবানের কাছে কামনা করব ---- হে ভগবান !তুমি যদি মানুষ কুলে আবার আমায় পাঠাও , তাহলে আমার ভালোবাসার মানুষ সনাতনের বুকে স্থান দিও। এ জন্মে তোমার সাথে আমার একসাথে হাত ধরে চলা হবে না সনাতন! আমাকে ক্ষমা কোরো।

দজনেই কথা বলতে বলতে হঠাৎ অর্ধউলঙ্গ কুত্সিত দর্শন কয়েকজন টোটোকে দেখে চমকে উঠল ।
" সনাতন দেখ জঙ্গলিরা একটু দূরেই ঘুরে বেড়াচ্ছে । এখানে থাকা মোটেই নিরাপদ নয় আর ।
জঙ্গলিরা কুত্সিত হেসে আবার দলবেঁধে নিজেদের মধ্যে কি কি শব্দে কথা বলতে বলতে চলে গেল । তারা চলে গেলে দুজনেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো । হাতের ঘড়ি দেখে চমকে উঠে আরতি বলল ---- দেখো কয়টা বাজে ! এবার চলো । সনাতন তার হাতধরে এগিয়ে যেতে যেতে গম্ভীর সুরে বলল ---- আরতি আমি আমরণ তোমার অপেক্ষায় থাকব , মনের দরজা খোলাই থাকবে তোমার জন্য আমার ।
যদি কখনো ইচ্ছে হয় , চলে আসবে নির্দ্বিধায় । আমি শরৎ বাবুর দেবদাস হয়ে তোমার অপেক্ষায় বসে রইলাম। আমাদের আর সামনা সামনি দেখা হওয়ার প্রয়োজন নেই , দু'জনে মনের রাজ্যে ঘুরে বেড়াব হাতে হাত ধরে । সেখানে কেউ আমাদের দেখতে পাবেনা , কেউ বলতে পারবে না ---- এই দেখো তোমরা ! এরা কত নির্লজ্জ , কত বেহায়া ।
আরতি তার মুখ চেপে ধরে বলল ---- সনাতন , আমাকে আর দুর্বল কোরো না প্লিজ, আমার মতো অপয়াকে আজ অনেক দিলে তুমি ; অন্ততঃ একটা তৃপ্তি তো পেলাম- - এই পৃথিবীতে কেউ আমাকে ভালোবাসে।
এর চেয়ে বেশি কিছু আর চাই না গো আমি। তুমি ভালো থেকো; আমার মনের পৃথিবীতে তুমি অনীশ হয়ে বেঁচে থেকো।
বেচারা সনাতন নিজেকে আর থামিয়ে রাখতে পারছে না , তার চোখের জল যেন বাঁধ ভেঙ্গে ফেলেছে ।
শেষবারের মতো দু'জনে দুজনকে চোখের জলের মিলনে গাড়ির কাছে এসে দেখল-' সবাই অপেক্ষায় রয়েছে তাদের জন্য ।

---------------------- যবনিকা
( পাঠক বন্ধুরা আমার এই ধারাবাহিক উপন্যাস কেমন লেগেছে বলুন )

Mar 04, 20
0
1
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতী ( পর্ব ৩৮)


সনাতনের লেখালেখিতে হঠাৎ ভাঁটা পড়ে গেছে । তার দশ নং উপন্যাস শেষ পর্যায়ে এনে খেই হারিয়ে ফেলেছে । কিছুতেই শেষ পরিচ্ছেদ আর লিখতে পারছে না সে ।
কাহিনির নায়ক অনিরুদ্ধ তার প্রেমিকার কাছে প্রত্যাখ্যিত হওয়ার পর প্রচণ্ড আঘাতে জীবনটাকেই ছন্নছাড়া করে ফেলেছে । মনের জ্বালা মেটাতে নেশার জগতে ডুবে গেছে এই যুবক । অত্যধিক নেশা এবং অনিয়মের ফলে সে আজ এমন একটা কঠিন রোগে আক্রান্ত যে , কোনোদিনই ভালো হবার সম্ভাবনাই নেই আর।
এদিকে নায়িকা অনুসুয়া বড়োলোক দুশ্চরিত্র স্বামীর ঘরে দিনের পর দিন আঘাতে বিপর্যস্ত , জীবনটাই বিষাদগ্রস্ত আজ তার।
স্বামীর প্রচণ্ড অবহেলা এবং শারীরিক নির্যাতনের চোটে সে ফিরে এসেছে পিত্রালয়ে। এখানে এসেও তার জুটেছে সকলের ধিক্কার; ধীরে ধীরে সে বেঁচে থাকার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলছে।
তার এই দুর্দিনে এসেও একদিন সে তার অনিরুদ্ধের সব কথা জানতে পেরে অত্যন্ত দুঃখ পেল মনে । নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়ারও সাহসও নেই আজ অনুরুদ্ধের কাছে ।
অথচ অনুরুদ্ধ কয়েক দিনের মধ্যেই চিরবিদায় নিতে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে ।
ঠিক এখানে এসে সনাতন কিছুই লিখতে পারছে না । যখনি সে লিখতে চেষ্টা করে ---- তখনি তার চোখ ঝাপসা হয়ে যায়।
সে ভাবল ---- না , কিছুদিন একটু এই জগতের বাইরে গিয়ে মনটাকে ফ্রি করে লেখাটা অন্যভাবে এনে শেষ করে দেবো ।
এখন রোজ বন্ধুদের সাথে বসে নানা আড্ডায় সময় কাটিয়ে দিচ্ছে এখন সে।
আজ ২৫ শে ডিসেম্বর , পাশের গ্রামের একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করেছে সনাতন। এই অনুষ্ঠানে নিজের লেখা একটা কবিতা মঞ্চে উঠে আবৃত্তি করল সে।
আবৃত্তি এত সুন্দর হয়েছে যে --- অনেক হাততালিতে হলঘর মুখরিত হয়ে গেল । হঠাৎ দর্শকদের মধ্যে আরতি এবং নরেশকে দেখে সনাতন অবাক হয়ে ভাবল ---- যাক , আরতি উপন্যাস পড়তে পড়তে সাহিত্যানুরাগীও হয়ে উঠেছে আজকাল ।
মনের আবেগেরা আবার তাকে নতুন করে বাঁচতে শেখাবে এবার।
আঃ ! মেয়েটার কী দুঃখের জীবন ! আজ যদি নরেশের বাড়িতে আশ্রয়টা না পেতো , কোথায় দাঁড়াত সে ?
যদিও ওকে আমি পাইনি , তবুও ওর উপরে আমার কোনো ক্ষোভ নেই , কারণ সেদিন ওর কোনো ক্ষমতা ছিল না আমার ডাকে সাড়া দেওয়ার। বাবার কথাই ছিল শেষ কথা এই মেয়েটির জীবনে।
অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরতে গিয়ে সনাতন দেখল , আরতি মৃদুহাস্যে তার দিকে এগিয়ে আসছে ।
" সনাতনদা , তুমি বাড়ি যাচ্ছ?
--হ্যাঁ , নরেশ কোথায় আরতি?
" দাদা একটি জরুরী কাজে চলে গেছে; আমি তোমার সাথেই বাড়ি যাবো "
বলে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল আরতি ।
সনাতন যেন হাতে স্বর্গ পেয়ে গেল । সে ভাবল, ' যাক প্রায় আধাঘন্টা সময় দুজনে একসাথে পথ চলতে পারব আজ , তাছাড়া চিঠিটাও ওর হাতে দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।
তাকে নীরব দেখে আরতি বলল --- কী সনাতন দা, বিপদে পড়লে বুঝি ?
---- কীসের বিপদ ? এ তো আমার সৌভাগ্য। চল তাহলে, সন্ধ্যা হয়ে এল যে " ।
দু'জনে পথ চলতে শুরু করল পাশাপাশি এবার । সাঁঝের হালকা আলোতে আরতির সুন্দর মুখটি যেন আরো রোমান্টিক লাগছে সনাতনের কাছে। সে আস্তে করে বলল ,
---- আরতি ।
--- বলো সনাতনদা ।
---- পিকনিকে তো যাচ্ছ ?
--- ভাবছি যাবো ।
----- তুমি যাচ্ছ তো ?
--- তোমার জন্যই যাবো আমি ।
ভীষণ লজ্জা পেয়ে আরতি বলল , " সনাতনদা ! বাজে কথা বললে একদম যাবো না কিন্তু আমি " ।
সনাতন জিবকেটে বলল --- ছিঃ ! তুমি কী বুঝলে? আসলে আমি অন্যকথা বলছিলাম ।
" কি কথা ? " বলতেই সনাতন আরতির হাতে তার লেখা চিঠিটা গুঁজে দিয়ে বলল --- বাড়ি গিয়ে দরজা বন্ধকরে পড়বে কিন্তু, দেখবে , কোন বাজেকথা নেই এখানে ।
আরতির হাত-পা থরথর করে কাঁপতে থাকল , সে কী বলবে যেন ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না , শুধুই চিঠিটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল রাস্তায় । আশেপাশে কেউ নেই তাদের , হঠাৎ সনাতনকে যেন তার ভয় ভয় লাগছে এখন ।
সনাতন নিজেও বোকা সেজে গেল আরতির চেহারা দেখে , সে আরতির হাত চেপে ধরে বলল ," তুমি আমাকে ভুল বোঝো না প্লিজ।
চিঠিটা পড়লেই লজ্জা পাবে যদি আমাকে ভুল বোঝো।
চল এবার , এখনো অনেকটা পথ যেতে হবে যে ।
কোন কথার উত্তর না দিয়ে আরতি অত্যন্ত জোরে হাঁটতে শুরু করল আরতি।
সনাতন অনেক পেছন থেকে বারবার বলছে , " আরতি , আমি এত জোরে হাঁটতে পারি না , একটু আস্তে হাঁটো প্লিজ " ।
নদীর ধারের ফাঁকা রাস্তা পার হয়ে আরতি আবার আস্তে হাঁটতে শুরু করল । এবার সনাতন বুঝতে পারল ---- আসলে ফাঁকা রাস্তায় সে আমাকে ভয় পেয়েছে বলেই এত জোরে হাঁটছিল সে । আর কেনই বা পাবে না ভয়, কম তো ধকল যায়নি মেয়েটার উপর দিয়ে !
ঘরে ফিরতেই মা বলল --- আরতি, এত দেরি? আমি তো চিন্তায় পড়েছিলাম, হাতমুখ ধুয়ে খেয়ে না এবার , দাদুভাই তো ঘুমিয়ে পড়েছে । দেয়াল ঘড়ির দিকে চেয়ে অবাক হলো আরতি --- বাবা ! আটটা বাজে ! শীতকালে তো অনেক রাত !
খেয়ে-দেয়ে ঘুমন্ত ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে দ্রুত ঘরের দরজা বন্ধ করে সনাতনের চিঠিটা খুলে পড়তে থাকল অধীর আগ্রহে ।
কয়েকবার চিঠিটা পড়ে আরতি ভাবল --- আরে সনাতন ! কি বলতে চাও তুমি ? তোমার মনের ভাষা কি ? তুমি যদি আমাকে এতই ভালোবাসো , তবে অনীশ বাবুকে কেন টেনে আনছো ? কিন্তু সনাতন ---- আমি যে ভীষণ অসহায় ! আমার যে অভিশপ্ত জীবন ! আমি যখনি কিছু পাওয়ার আশাকরে হাত পাতি , তখনি দুর্ভাগ্য এসে আমার জীবন তছনছ করে দেয় । নাঃ ! আর সম্ভব নয় সনাতন । আমি যে আজ একটি নিষ্পাপ শিশুর মা ! আমার কিছু চাইনা এ জীবনে আর ।
আরতি তার নিষ্পাপ ছেলেটির দিকে চেয়ে কেঁদে ফেলল । আহারে ! কী নিশ্চিন্ত ঘুমিয়ে আছিস বাবা ! আমি কিছু করলে কোথায় দাঁড়াবি তুই ! না রে বাবা না , তোর মা তোর মুখের দিকে চেয়েই বেঁচে থাকবে । সে আর কোনো সুখ চায় না রে । ছেলেকে চেপে ধরে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকল সে ।
সনাতন অধীর আগ্রহে বসে রয়েছে; ভাবছে ---- আরতি চিঠির একটা উত্তর দেবেই দেবে । বারবার কারণে অকারণে নরেশের বাড়ি আসে আর ঘুরে যায় ; কোথায় চিঠির উত্তর ! হতাশ সনাতন নিজেকেই দায়ী করছে । ভাবছে ---- আসলে উপন্যাসে একটা ছেলের সাথে মেয়ের ভালোবাসা করিয়ে দেওয়া যত সহজ , বাস্তবে সত্যিই কঠিন । কতগুলো বছর ধরে যার পথ চেয়ে বসে রইলাম , তার মুখের একটা কথাও আজ আদায় করতে পারলাম কোথায় ? আসলেই আমি একজন অপদার্থ !
একদিন দুপুরবেলা নরেশ স্কুলে চলে গেল, তার নাতি নিয়ে স্কুলে বেরিয়ে গেল নরেশের মা।
এই তো সঠিক সময়, সে হাজির হলো আরতির কাছে ।
তাকে বসতে দিয়ে আরতি কাজের ব্যস্ততা দেখাতেই সে বলল , " আরতি , আমি তোমার কাছে কিছু ফেরত আশা করেছিলাম " ।
আরতি হেসে বলল , " পিকনিকে গিয়ে সব কথা হবে , তুমি যাও এখন ।
--- কেন তাড়িয়ে দিচ্ছ আমাকে ?
---- সনাতনদা , বাড়িতে কেউ নেই , কেউ দেখলে কিছু ভাবতে পারে , বোঝনা তুমি ?
সনাতন লক্ষ্য করল --- আরতি তার দিকে চেয়েই দেখছে না ,সে যেন সত্যিই একটা উৎকণ্ঠায় রয়েছে । তাই ভাবল , " কেন এই উৎকণ্ঠা ওর ? তাহলে কী আমার প্রতি তার মনের দুর্বলতা এসেছে ? নাঃ , আমাকে আর একটা দিন ধৈর্য ধরতেই হবে । কালই তো যাচ্ছি পিকনিকে , কেন তাড়াহুড়ো করছি আমি ? ভাবতে ভাবতে ফিরে গেল সে। আরতি তাকে যাওয়ার পথে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে আর ভাবছে ----- ভগবান , আমাকে তুমি রাস্তা দেখাও ! কাল এই মানুষটাকে কি বলব আমি ! বেচারা শুধুই আমাকে পাওয়ার আশায় আজো যে প্রহর গুণছে । কেমন করে বলব , " সনাতনদা , তোমার পথ আর আমার পথ এক নয়; তোমার ডাকে সাড়া দেওয়া আমার সম্ভব নয় ! আমি যে ভীষণ অসহায় আজ !
চলবে -----

Mar 01, 20
0
0
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতী ( পর্ব ৩৭)


নরেশের বাড়িতে তিন বছর পার হয়ে গেল দেখতে দেখতে ।
কোর্টে হাজিরাও হলো অনেঅনেকবার ।
শেষ হাজিরার দিন সরকারি উকিল আরতিকে তার চেম্বারে ডেকে বলল ---- আসামিদের সাজা অবধারিত , কোনো পথ নেই ওদের বাঁচার , তবে আপনি চাইলে ওদের বাঁচাতে পারেন ।
আরতি বলল --- একবার দু'বার নয় , ওরা আমাকে অনেকবার মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে স্যার । ওদের ক্ষমা করার কোনো ইচ্ছে নেই আমার ।
--- আরতি, আপনি সংসার করতে চান কি ?
---- স্যার , কোন মেয়ে না চায় বলুন ?
---- কয়েকদিন আগে আপনার স্বামী এসেছিল ।
--- কি বলল সে?
---- বলল --- আমার মাকে যদি বাঁচিয়ে দেয় , তাহলে আমি সংসার করার কথা ভাবতে পারি ।
---- স্যার , সে আমাকে ভালোবাসে না । ভালোবাসার মধ্যে কোন চুক্তি থাকতে পারে না ।
আমার জীবনে যা কিছু ঘটেছে , শুধুই তার অন্ধ-মাতৃভক্তির জন্যই ।
উকিল বাবু বললেন- --- আমার মনে হচ্ছে আগামী হাজিরায় ফাইনাল রায় বেরোবে । আপনি ভাবুন আবার ।
আরতি চিন্তিত হয়ে বাইরে গিয়ে নরেশের পরামর্শ চাইল । নরেশ বলল--- এটা সম্পূর্ণ তোর নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত , আমি কী বলব ?
অনেক ভেবে উকিলের কাছে গিয়ে বলল ---- স্যার , আমি এমন একজন মানুষের সাথে সংসার করতে চাই না ।
উকিল বাবু আর কোনো কথা না বলে কোর্টে হাজিরা দিতে ডেকে নিলো তাকে।
আজ কোনো রায় হলো না ; তাকে পরবর্তী তারিখের কাগজ হাতে ধরিয়ে দিল উকিল বাবু ।
গৌহাটি থেকে বাড়ি ফিরে নরেশ বলল , " তোকে একটা সারপ্রাইজ দেবো আজ " ।
আরতি ব্যস্ত হয়ে বলল " কি সারপ্রাইজ দাদা?
--- আমরা স্কুলের সবাই পিকনিকে যাচ্ছি ।
-- বেশ তো ঘুরে আয়।
-- তোকেও নিয়ে যাবো আরতি।
আনন্দে লাফিয়ে উঠে আরতি বলল ---- দাদা , সত্যি আমাকে নিয়ে যাবি ? কোথায় যেতে চাস তোরা ?
---- ভাবছি টো-টো পাড়া যাবো এবার ।
---- বাবুকে কী করব ? নিয়ে যাওয়া যাবে ?
হঠাৎ মা এসে বলল --- সে গুড়ে বালি ,তোরা যাবি যা , আমার কোনো কথা নেই; তবে
দাদুভাইকে এতদূরে নিয়ে যেতে দেবো না আমি ।
নরেশ মনেমনে হেসে উঠল । যাক যেমন চেয়েছিলাম , তেমনি হলো । পিকনিকে গিয়ে সনাতনের সাথে ছেড়ে দিয়ে দুজনকে একান্তে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া যাবে এবার ।
যদি একজন অপরজনকে পছন্দ করে তাহলে ওদের জীবন নিয়ে ভাবার সুযোগ পাওয়া যাবে ।
জানি দুজনেই দুজনকে ভালোবাসে ওরা , আরতির সাজ-গোজ এবং উপন্যাস প্রিয়তা দেখে , আমার মনেহয় সে কোনো নতুন স্বপ্ন দেখছে আজকাল "
আরতি হাসিমুখে প্রশ্ন করল ---- দাদা , পিকনিক কবে রে ?
---- ১ লা জানুয়ারী ।
--- যা ঠান্ডা পড়েছে .....
---- আমি আজই তোর শীতের পোশাক নিয়ে আসব ।
---- থাক , চাদর তো আছেই আমার ।
---- না , সবার সাথে পোশাক মিলিয়েই তোকে নিয়ে যাবো আমি । কেউ যেন বলতে না পারে ---- তুই গরিব ।
--- দাদা , আমি তো সত্যিই গরিব , আজ যদি তোর কাছে একটু আশ্রয় না পেতাম , পথে পথে ভিক্ষা ছাড়া ....
তার কথা শেষ না হতেই মুখে হাত দিয়ে নরেশ বলল ----- এমন বলিস না আরতি , বড় কষ্ট লাগে আমার ।
আরতির দুচোখে জল এসে গেল , সে আর কোনো কথা বলতে পারল না ; কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল নিজের বিছানায় ।
নরেশ তার দিকে তাকিয়ে দেখে নিজেই ভাবল ---- না , গরিব এই কথাটা বলা বোধহয় ঠিক হয়নি আমার । আসলে কে যে কোন কথায় দুঃখ পায় ..............
সনাতনের উপন্যাস লেখার কাজ যথেষ্ট এগিয়ে এখন । নরেশ তাকে পিকনিকে যাওয়ার কথা বলতেই সে জিজ্ঞেস করল -----
--- কে কে যাচ্ছে নরেশ ?
---- আমার স্কুলের স্টাফ ।
---- আর ?
---- আর কাকে চাই তোর ?
---- আরতিকে নিয়ে চল ।
--- কী রে! আরতিকে কেন ?
---- ঠিকাছে , দরকার নেই তাহলে ।
---- যদি নিয়ে যাই ওকে ?
সনাতনের চোখে-মুখে যেন একটা হাসির আভা ফুটে উঠল । সে নরেশের দিকে তাকিয়ে বলল--- এমনি বলছিলাম । তুই কিছু মনে করলি নাতো ?
নরেশ হেসে বলল , " অনীশ বাবু , আপনার উপন্যাসের প্লট খুঁজবেন তো ?
সনাতন খানিক সময় চুপ করে কি ভেবে আবার বলল , ' ' হ্যাঁ রে , জায়গাটা কেমন ? বন-জঙ্গল আছে নাকি সেখানে ?
--- তা একটু আছে । তবে এই টোটোপাড়া নিয়ে অনেক গবেষণা চলছে ।
এই জঙ্গলে যে আদিবাসীদের বাস, তাদের বলে টোডো। তারা এখনো শিক্ষিত হয়নি, এমনকি , বেশি বয়সী টোটোরা প্রায় পোশাক ছাড়াই থাকে এখনো । গভীর জঙ্গলে এদের ছোট ছোটো ঘর , লোকালয়ে খুব কম আসে এরা ।
সনাতন নরেশের সমস্ত বর্ণনা মন দিয়ে শুনে বলল , " এমন একটা জায়গা আমি মনেমনে খুঁজছিলাম , যাক ভালোই হলো তাহলে " ।
আরতির আজ হঠাত্ বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ে গেল । ভাবছে আজ একটা চিঠি লিখি বাবার কাছে । কি আর লিখি ----- হায়রে !এতকিছু হয়ে গেল আমার জীবনে , অথচ দায়িত্বহীন জন্মদাতার আসার নাম নেই । আগের পত্রে সে লিখেছিল , এখন নাকি সে এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি হয়েছে । বেশ মজাতেই আছে আমাকে জলে ভাসিয়ে। আমার সারাটা জীবন মাটি হয়ে গেল শুধুই এই মানুষটার খামখেয়ালীপনার জন্য । একবার এসে রেখে গেল এক অমানুষের বাড়ি , পরেরবারে এসে বিয়ে দিলো আরেক অমানুষের সাথে । আসলে আমার ভাগ্যটাই খারাপ । তবুও প্রণাম জানাই তাঁকে এই পৃথিবীতে আনার জন্য ।
সামান্য কয়েকটা বাক্যে চিঠি লেখা শেষ করে দাদার হাতে দিয়ে বলল , " দাদা , আমার চিঠিটা একটু পোস্ট করে দিবি ?" ।
নরেশ চিঠিটা হাতে নিয়ে রেখে দিলো তার জামার পকেটে ।
আজ স্কুল থেকে ফিরে আরতিকে ডেকে নরেশ একটু ঝাল মুড়ি খেতে চাইল। সে আরতিকে ডেকে বলল-- আরতি, একটু ঝালমুড়ি মেখে দিবি?
কোন কথা না বলে সুন্দর করে মুড়ি মেখে দাদার হাতে দিতেই দাদা বলল , " বোস আমার কাছে , কথা আছে " ।
আরতি দাদার বিছানায় বসে বলল , " কী বলবি দাদা ?
--- তোর অনেক পরিবর্তন দেখছি আজকাল ।
--- কোথায় ? আমি তো যেমন ছিলাম তেমনি আছি দাদা।
নরেশ মুড়ি চিবোতে চিবোতে বলল
----- স্বামীর ঘরে তো যাবি না বললি । নতুন কোনো স্বপ্ন দেখা যায় কি ?
---- দাদা , আর কেন ? তুই তো আছিস ।
--- আরতি আমি বিয়ে করলে বৌ তোকে মেনে নেবে কিনা জানি না ।
ক্ষণকাল স্তব্ধ হয়ে কী ভাবতে ভাবতে আরতি বলল , "দাদা , কী বলছিস তুই ; আমি এত অনিশ্চিত জীবনে আছি ?
--- না , না অনিশ্চিত নয় রে , কথার কথা
বলছি । আরতি আর কোনো কথা বলতে পারল না , সে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে নরেশ তাকে ডেকে বলল-- যাচ্ছিস কেন?
, " দাদা , অনেক কাজ পড়ে রয়েছে রে , যাই " বলে চলে গেল আরতি ।
সনাতন ঘরে বসে নিজের জীবনে নিয়ে অনেক ভাবনা ভাবছে।
কিন্তু আরতিকে ছাড়া সে কিছুই ভাবতে পারছে না।
আজ মেয়েটা নরেশের বাড়িতে আছে একটা সুন্দর সম্পর্ক নিয়ে , কিন্তু এই সম্পর্ক দাদার বিয়ের পরে কতটা থাকবে , তা ভগবানই জানে । কিন্তু আমার কিছুই করার নেই।
কতবার তো মনের কথা বোঝাতে চেয়েও ব্যর্থ হয়ে গেছি। আরতির যদি আমার কথাটা বুঝতে পারত, তাহলে কী এই দিনগুলি দেখার জন্য আমাকে বাঁচতে হতো? না
কিন্তু সেদিন আরতি বলেছিল- - সে অনীশ বাবুকে ভালোবেসে ফেলেছে । তাহলে পিকনিকে গিয়ে আমি কি অনীশ বাবুর পরিচয় দিয়ে দেবো ? বিশ্বাস করবে কি সে ? ঠিকাছে আমি চেষ্টা তো করি একটু ।
ভাবতে ভাবতে একটা কাগজে সুন্দর চিঠি লিখে ফেলল সে। সে লিখল--" আরতি , তোমার সাথে আমার অনেক কথা আছে । পিকনিকে যাবে তো ? আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাস না । আমি তোমার অপেক্ষায় বসে আছি আজও । ভালো কথা ----- আমি জানি তুমি অনীশ বাবুকে ভালোবাস । অনীশ বাবুর সাথে দেখা করতে চেয়েছিলে তুমি । আমি পিকনিকে গিয়ে তাঁর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো তোমাকে । কাউকে বলবে না কথাটা ।
ইতি -- অবহেলিত
চলবে ------

Mar 01, 20
0
0
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতী ( পর্ব ৩৬)


ইতিমধ্যে মামলার বেশ কয়েকটি হিয়ারিং হয়ে গেল।
শাশুড়ি এখন জামিনে ছাড়া পেয়েছে। হাজিরা দিতে গেলেই দেখা হয়ে যায় শাশুড়ি এবং স্বামীর সাথে। একটিবারও আরতির কাছে আসে না তারা, নিজের ছেলেটা পর্যন্ত দেখতে আসে না কৃষ্ণকান্ত । তাদের অমানবিক ব্যবহারে আরতির মনে সংসার করা ইচ্ছে বিলীন হয়ে গেল।
মাঝে গাওবুড়ো একবার কেস মেটানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শাশুড়ি এবং বরের একটাই কথা-- যে বৌ আমাদের জেলে পাঠাল, তার সাথে আর সংসার করার ইচ্ছে নেই।
দেখতে দেখতে আদালতে আসামিদের সাজা ঘোষণা হলো।
কৃষ্ণকান্ত সমস্ত জমিজমা বিক্রি করে হাইকোর্টে আপিল করল।
কেসের টাকা যোগাড় করতে কৃষ্ণকান্ত একেবারেই নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে; তবুও তাদের দেমাক কমল না।
দেবকী দেবি খামখেয়ালি করে ছেলেকে আবার বিয়ে দিয়ে বসল।
মামলা ক্রমশ জটিল হতে জটিলতর হতে থাকল।
আরতি এবার নতুন করে খোরপোষের মামলা করে বসল।
কয়েকবার আদালত অবমাননা হলেও কৃষ্ণ আরতির খোরপোষের টাকা জমা দিতে পারল না।
সর্বশেষ আরতি উকিলের সাথে পরামর্শ করে ডিভোর্সের মামলা দায়ের করল।
আরতি অনেক চিন্তা ভাবনা করেছে সংসার করা নিয়ে; সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষ্ণকান্তের সাথে আর সংসার নয়।

একদিন কেসের হাজিরা দিতে নরেশ আরতিকে নিয়ে গেল গৌহাটি হাইকোর্টে।
সেদিন ডিভোর্সের মামলার শুনানি।
---- হাকিম অনেকবার বলল , আপনার একটি ছেলে আছে , আপনি সংসার করবেন না কেন ?
আরতি পরিষ্কার বলল , যেখানে নিরাপত্তা নেই , আমি কীভাবে সংসার করব স্যার ?
সর্বশেষ তাদের ডিভোর্সের চুড়ান্ত রায়ের তারিখ ঘোষণা হলো।
কৃষ্ণকান্তকে কয়েক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় হবে বলে উকিল বাবু বললেন।ক্ষতিপূরণের টাকা জমা না দিলে আবার নতুন করে কেস করতে হবে আরতিকে।
কৃষ্ণকান্তের ক্ষমতা নেই এত টাকা দেওয়ার, আরতি তা জানে।
আরতি ভাবল-- যার সাথে সংসার হলো না, তার টাকাপয়সা নিয়ে আর কী হবে? সে মন থেকে টাকাপয়সা পাওয়ার কথা ছেড়েই দিলো
ফেরার পথে নরেশ বলল-' সংসার তো শেষ হলো তোর, এবার নিজের জীবন নিয়ে একটু ভেবে দেখা দরকার আরতি।
---- আর কিছুই ভাবতে পারছি না দাদা । আসলে সুখ আমার কপালে নেই, আমি এইভাবেই ছেলের দিকে তাকিয়ে জীবন কাটিয়ে দেবো।
নরেশ আর তেমন কিছু না বলে ভাবল-- ঠিক আছে, বাড়ি গিয়ে কথা বলা যাবে।

একদিন নরেশ সনাতনের প্রসঙ্গ তুলে বলল--আরতি সনাতন তোকে এখনো ভালোবাসে জানিস?
--- দাদা , আমি যখন প্রথম আসি, তখন বুঝতে পেরেছিলাম; কিন্তু আমি সাড়া দিইনি।
--কেন?
-- দাদা রে ! ভালোবাসা আমার জন্য নয়। আমি এভাবেই কাটিয়ে দেবো ছোট্ট জীবনটা।
-- সনাতন মায়ের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও বিয়ে করছে না।
--- তাই নাকি? কেন বিয়ে করছে না সনাতন বাবু?
-----' তোকে পায়নি বলে।
--- তুই বলিস কী দাদা! লোকটা এত পাগল!
--- হ্যাঁ সে তোকে পাগলের মতো ভালোবাসে। একটাই বক্তব্য তার," আমি আরতিকে ভালোবেসেই জীবন কাটিয়ে দেবো"।
--- বলিস কী রে? এমন অন্ধ ভালোবাসার কী মুল্য আছে তার ?
-- সে তোর ভালোর জন্য প্রয়োজনে সর্বস্ব বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত "।
আরতির মন বোধহয় একটু হলেও দুর্বল হয়ে গেল।
তার চোখে মুখে একটা প্রসন্নের হাসি ফুটে উঠল একঝলক । তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল ---- দাদা , এত কিছুর পরে আবার বিয়ে? মানুষ কী বলবে বল তো ?
আমি বরং সনাতন বাবুকে বুঝিয়ে বলব একদিন।
--- কী বলবি ওকে ?
--- দাদা , আমি ওকে বুঝিয়ে বলব আমার জন্য যাতে ওর জীবনটা নষ্ট না করে, বলব একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিতে।
---- যদি সে একান্তই তোকে চায় ? যদি বলে , " আরতি আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব
না " তাহলে ?
-- দূর বোকা! ওকে আমি বুঝিয়ে বললে নিশ্চয়ই বিয়ে করবে; তুই কথা বলিয়ে দিস আমার সাথে একদিন।
নরেশ লক্ষ্য করল আরতীর মুখটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে; সে মুখে অন্যকিছু বললেও, তার চোখের ভাষা বলছে অন্যকথা।
সে ভাবল আজ আর নয় , পরে আরেকবার কথা বলে দেখব ।
সনাতনকে ও যদি সত্যিই ভালোবাসে তাহলে ওর আদব-কায়দা নিশ্চয়ই পাল্টে যাবে। ওর চাল-চলন প্রমাণ দেবে ওর মনের কথা।

হঠাত্ অনেক পরিবর্তন দেখা দিলো আরতির আচার আচরণে । রাতে একটা উপন্যাস চাই তার । উপন্যাস পড়তে পড়তে তার মন যেন রোমান্টিকতায় ভরে উঠল । এখন বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক এবং সাজ-গোজ করে থাকতে ভালোবাসে সে ।
নরেশের মাঝেমধ্যে মনেহয় ---- এটা সেই আরতিই নয় । মুখে মিষ্টিহাসি , হরিণীর মতো চঞ্চল চোখ , একগুচ্ছ পরিপাটি করে রাখা কালো চুল এবং পরিচ্ছন্ন পোশাকে অপূর্ব লাগে তাকে এখন । মাঝেমাঝে নরেশের মনেও সন্দেহ জাগল, তার জীবনের ছন্দবদলের জন্য । তবে সংসারের কাজকর্মে কোন কমতি নেই তার । মা এখন পুরোপুরি তার উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে ।
আরতির বাচ্চাটির বয়স পাঁচ বছর হয়েছে । একটি রঙিন ছড়ার বই এনে দেওয়ায় অন্য বাচ্চাদের সাথে স্কুলে যায় সে ।
সুন্দর ব্যবহার এই মিষ্টি ছেলেটির । যেমন দেখতে সুন্দর , তেমনি তার মানুষকে ডাক-খোঁজ করা । কোন বয়সের মানুষকে কি সম্পর্ক নিয়ে ডাকতে হবে , আর তাকে শেখাতে হয়না আজকাল ।
বাচ্চাটা নরেশের মায়ের প্রাণ হয়ে উঠেছে ।
রাতে মাঝেমাঝেই দিদার কাছে থাকার বায়না ধরে সে । আরতি দু'একদিন রাতে ঘুমাতেও দিয়েছে দিদার কাছে । নরেশ স্কুল থেকে ফেরার পথে কিছু না কিছু হাতে আনতেই হবে এই ভাগনের জন্য ।
নরেশের বন্ধু শঙ্কর মাঝেমাঝেই চলে আসে অকারণেই নরেশের বাড়িতে । আসলে শঙ্করের খুব ভালো লাগে আরতিকে । আরতির হাসিমুখ দেখলেই তার মনের সমস্ত গ্লানি বিলীন হয়ে যায় , মনটা ফ্রেস হয়ে যায় একেবারে ।
কখনো সে আরতিকে নিয়ে বাজে ভাবনায় মগ্ন নয় যদিও । যখনি তার মনটা নানা দুশ্চিন্তায় হতাশাগ্রস্ত হয় --- তখনি নানা অজুহাতে নরেশের বাড়ি এসে মিষ্টি আরতির হাসিমুখ এবং দুটো কথা শুনে চলে যায় ।
তার চোখের চাহনি দেখেই আরতি বুঝে ফেলেছে তার আসার কারণ । তবুও তার সাথে হাসিমুখে কথা বলে সবসময়ই । কারণ সে জানে --- শঙ্করদা তার চোখের তৃষ্ণা মেটাতেই আমার দিকে চেয়ে থাকে ; অন্যকোনো বাজে মতলব তার নেই ।
কয়েকবার সে আরতিকে তার বাড়ি নেওয়ার কথা বলেছে ,একবার বাড়িতে পূজো একবার তার বোনকে দেখতে আসবে এইসব কথা বলে ।
মা তাকে যেতে দেয়নি । আসলে মেয়েটা মানুষের চোখেধরা রূপসী , তাতে আবার ভাগ্যটা ভালো নয় । কী জানি আবার কারো কুনজরে পড়ে আবার কোন্ আশান্তি আসে ওর জীবনে; তাই নানা অজুহাতে আরতিকে যেতে দেয়নি।
একদিন দুপুরবেলা সনাতন আরেকটা উপন্যাস নিয়ে এসে "আরতি", আরতি " বলে ডাকতেই সে বেরিয়ে এসে বলল , " সনাতনদা এসো, এটাও কি অনীশ বাবুর উপন্যাস তোমার হাতে ?
---- হ্যাঁ আরতি , পড়বে তুমি ?
--- পড়বো না মানে ? দাও আমাকে ।
সনাতন উপন্যাস হাতে দিয়ে বলল বাড়ির সবাই কোথায় ?
--- দাদা স্কুলে , মা গিয়েছে নাতিকে নিয়ে স্কুলে ।
" তাহলে আমি যাই " বলতেই আরতি বলল " কেন ?' আমাকে ভয় লাগে তোমার ?
সনাতন হো হো করে হেসে বলল ," একদিন আমার সাথে একটু কথা বলতে তুমি যেমন আমাকে ভয় পেতে , ঠিক তেমন " ।
--- আচ্ছা সনাতনদা ?
---- বল ।
--- তুমিও আমার মতো অনীশ বাবুর প্রেমে পড়েছ নাকি ? মানে উপন্যাসের প্রেমের কথা বলছি ।
---- হ্যাঁ আরতি , আমি উপন্যাস খুব ভালোবাসি পড়তে ।
--- অনীশ বাবু কি দারুণ লেখে ! যেন কলমে যাদু দেওয়া আছে তাঁর ।
--- তাই ?
--- ঠিক তাই সনাতনদা । আমার লোকটাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে ।
-- ঠিকাছে , আমি একদিন চিনিয়ে দেবো তোমাকে ।
---- সত্যি বলছ ? তুমি চেন তাঁকে ? কোথায় বাড়ি তার ?
সনাতন আবার হেসে বলল --- যাক , আমি তোমার মন না পেলেও অনীশ বাবু পেয়েছে । লোকটা ভীষণ ভাগ্যবান মানতে হবে ।
আরতি লজ্জা পেয়ে নীচের দিকে তাকিয়ে রইল ক্ষণকাল । একটু পরেই উপর দিকে তাকিয়ে দেখল , সনাতন ড্যাব্ ড্যাব করে তার মুখের দিকে চেয়ে রয়েছে , তার চকচকে চোখ থেকে যেন একটা রক্তিম আভা বেরিয়ে তাকে দগ্ধ করছে । নাঃ ! এই চোখের দিকে চোখ ফেলা যাচ্ছে না! আরতির হৃদয় চমকে উঠল; বিলম্ব না করে দৌড়ে চলে গেল ঘরে। সনাতন অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল উদ্দেশ্যহীন ভাবে ।
হঠাৎ " কি সনাতন ! কেমন আছিস ? " মাসিমার ডাক শুনে চমকে উঠল সে ।
---- ," বারান্দায় কেন দাঁড়িয়ে ? আরতি তো বাড়িতেই বসতে বলেনি বুঝি ? আয় ঘরে আয় " বলতেই সনাতন বলল , " মাসিমা , আমি পরে আবার আসব " বলে চলে গেল ।
সনাতন চলে যাওয়ার পর আরতি ভাবনার সাগরে ডুবে গেল ।
হারিয়ে গেল অতীতের নানান স্মৃতির জালে । সত্যি কী এমন বয়স হয়েছে আমার ! এত ঘটনাবহুল আমার জীবন নাটিকা ! কী পেলাম জীবনে ? কেন ঘটল এতকিছু আমার জীবনে ?
আবার কেন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে চায় আমার অবুঝমন ? নাঃ ! আর নয় ! আমার ছেলেটিকে মানুষ করতে হবে । এইভাবেই জীবন কাটিয়ে দেবো আমি । চাইনা জীবনে আর কিছু আমি ।

----- চলবে

Mar 01, 20
0
0
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতী ( পর্ব ৩৫)


রাতে "পল্লিমেয়ে " উপন্যাস এক
নিশ্বাসেই যেন পড়ে ফেলল আরতি ।
ঘটনাবহুল এই উপন্যাসে রয়েছে পল্লিগ্রামের সাধারণ মেয়ে নেহার জীবনগাঁথা। নেহার চরম দুর্দশার কাহিনি পড়তে গিয়ে আরতি অনেকবার চোখের জলে ভেসে গেল।
আশ্চর্যজনক ভাবে নেহার জীবনের সাথে হুবুহু তার মিল । পড়ার সময় ভাবছিল , আমি কি আমার বায়োগ্রাফি পড়ছি?
নেহার জীবনের সাথে আমার জীবন এত মিলে যাচ্ছে কেন?
ঔপন্যাসিক বাস্তব ঘটনাকে একটু রঙ মাখিয়ে জীবন্ত করে লেখে জানি, কিন্তু
কীকরে আমার সাথে হুবহু মিল হলো?পরক্ষণে ভাবল-- হতে পারে আমার মতো কোনো অভাগীর জীবনেও এমন ঘটনা ঘটেছিল?
কারণ,বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তো শুধুমাত্র একজন আরতির জীবনেই এমন ঘটনা ঘটেনি, আমার মতো ঘটনা অনেক ঘটেছিল, হয়তো আমার মতো কমন ঘটনা নিয়েই লিখেছে লেখক।
তবে যাই হোক লেখা পড়ে মনে হয় যেন শরত চন্দ্রের লেখা পড়ছি; বড় সুন্দর রচনাশৈলী এই লেখকের।
চিন্তিত আরতি সকালবেলা বইটা নরেশকে ফেরত দিলো।
নরেশ হাসিমুখে বলল ---- কী রে ? কেমন লাগল পড়ে?
--- দাদা , খুব সুন্দর লেখেন এই অনীশ বাবু; একদম জীবনমুখী লেখা। আচ্ছা দাদা,
এই লেখকের আরো কোনো বই আছে তোর কাছে ?
-- আমার কাছে নেই , একটাই কিনেছিলাম?
--- ইনি তো শুধুমাত্র একটা বই'ই লেখেননি, বাজারে নিশ্চয়ই আছে দাদা।
---- কেন রে আরতি ? তুই একটা বই পড়েই লেখকের ফ্যান হয়ে গেলি?
---- হ্যাঁ রে দাদা , আমি সত্যিই লেখকের ফ্যান হয়ে গেলাম। এমন উপন্যাস পেলে আমি রোজই পড়ব। পারলে আরো এনে দিবি আমাকে, কী দারুণ লেখেন ইনি !।
---- আচ্ছা দেবো ।
নরেশ চিন্তিত হয়ে ভাবল, সনাতন আরো কোন বই প্রকাশ করেছে কি? যদি না করে, তাহলে আরতিকে দেবো কী করে? তাই সে আমতা আমতা করে স্কুলের বেলা হয়েছে বলে চলে গেল স্নানে ।
স্কুল থেকে ফিরে সনাতনকে খোঁজ করেও তার দেখা পেল না নরেশ। তার মা এসে নরেশকে বসতে দিয়ে বলল-- সে একটা জরুরী কাজে কলকাতা গেছে ; দুদিন পর নাকি ফিরে আসবে।
নরেশ অবাক হয়ে ভাবল, তাহলে ছেলেটি আজকাল কোলকাতা যাচ্ছে? তাহলে কী কোলকাতা থেকে ওর উপন্যাস প্রকাশিত হয়?
সে মাসিমার দিকে চেয়ে বলল -- ঠিক আছে মাসিমা, আমি যাই তাহলে।
-- একটু বোস বাবা,তোর সাথে আমার কথা আছে।
নরেশ মাসিমার দিকে তাকিয়ে বলল-- বলো কী বলবে মাসি।
-- বলছি,সনাতন ব্যবসা ট্যাবসা বন্ধ করে দিয়ে , ঘরে বসে শুধু কী যেন লেখে।
আচ্ছা বাবা , ও কি পড়াশোনা করল?
এই বয়সে পড়াশোনা করলে কি তোর মতো চাকরি জুটবে কপালে?
--- মাসি, চাকরি পাওয়ার মতো যোগ্যতা ওর নেই।
-- তাহলে, সংসার কী করে চলবে বাবা?
তুই ওকে বুঝিয়ে লাইনে এনে দে বাবা।
নরেশ হেসে বলল ---- মাসিমা , আমি বুঝিয়ে বলব ওকে ।
" আমি আজ আসি " বলেই নরেশ বাড়ি ফিরে গেল ।
কয়েকদিন পরে সনাতন বাড়ি ফিরল। হাতে দুটি বই নিয়ে বিকেলে চলে এল নরেশের বাড়িতে।
নরেশকে বাড়ি না পেয়ে সনাতন চলে যাচ্ছে দেখে আরতি দৌড়ে এসে তাকে বসতে দিলো।
সে বলল ------ নাহ্ বসব না , নরেশ এলে আবার আসব নাহয় ।
----- কেন? বসো না সনাতন দা ।
----- না , চলি , ও এলে বোলো আমি এসেছিলাম ।
----- তোমার হাতে এগুলি কি বই দেখি ।
---- দুটো উপন্যাস ।
---- অনীশ বাবুর লেখা ?
---- হ্যাঁ , কিন্তু তুমি কিকরে বুঝলে ?
---- আমার প্রিয় লেখককে আমি চিনব না ?
তার লেখা পল্লির মেয়ে পড়েছি তো আমি ।
---- কেমন লেগেছে পড়তে ?
---- তুমি পড়নি সনাতন দা? অসাধারণ ! অসাধারণ উপন্যাস।
কয়েকবার পড়েও তৃপ্তি মেটেনি । ইচ্ছে করছে আরো পড়ি ।
সনাতন হেসে বলল-- পড়েছিলাম আমিও।
-- তোমার কেমন লেগেছে সনাতন দা?
-- ভালো ; আমার হাতে এদুটোও অনীশবাবুর উপন্যাস ; পড়বে তুমি?
--- পড়ব না মানে? দাও না আমাকে?
সনাতন রঙিন মলাট লাগানো উপন্যাস দুটি আরতির হাতে দিয়ে বলল ----- এই নাও, পড়ে নিও অবসরে।
আরতি বই দুটো লুফে নিয়ে কয়েকটা পাতা উল্টে নাম দুটো দেখেই বলল-- সনাতন দা আমাকে এখন রান্না করতে হবে। তুমি বোসো, আমি যাই?
সনাতন হেসে বলল-- আমিও ব্যস্ত, তাহলে চলি আমি।
রান্নাঘরের কাজ শেষ করে আরতি বই দুটো উল্টে দেখল খানিকক্ষণ , একটা উপন্যাস " ছন্নছাড়া " অপরটি " অসহায়া নারী "
রাতে একটা উপন্যাস ছন্নছাড়া পড়ে শেষ করল আরতি।
ছন্নছাড়া উপন্যাসে দেখল-- নায়ক অত্যন্ত প্রেমিক মানুষ। নায়িকাকে স্নানের ঘাটে নিখুঁতভাবে দেখে তার প্রেমে পড়ে , প্রেম নিবেদন করার সাহস নেই নায়কের; নায়িকাকে তার প্রতি আকৃষ্ট করাতে নিজেকে নতুন করে আকর্ষণীয় করে তোলার প্রচেষ্টা করে, নায়িকা তার দিকে চেয়েও দেখছে না; হাজার চেষ্টা করেও নায়িকাকে কাছে পেল না।
আরতি লক্ষ্য করল-- এটাও হুবহু তার জীবনের সাথে মিলে যাচ্ছে!
আরতির মনে পড়ল সনাতনের সেই দিনগুলো কথা ; সত্যিই তো সে আমাকে কাছে পেতে কতই না চেষ্টা করেছে! আমার জীবনের সাথে এটাও দেখি মিলে যাচ্ছে ।
লেখক অনীশ বাবু কি আমার জীবন নিয়েই সব লেখে ? অর্ধশিক্ষিত আরতি সারাদিন ভেবেই চলেছে।
সনাতনকে ইদানিং রাস্তা-ঘাটে একেবারেই দেখা যায় না । নরেশ একটু সময় পেলেই তাকে সঙ্গ দিতে চেষ্টা করে।
আসলে পাড়ায় বন্ধু বলতে তো তার সনাতন ।
নরেশ সনাতনকে জিজ্ঞেস করল-- তুই কী করে এসব লিখিস?
সনাতন হেসে বলল-- জানিস নরেশ, জীবনে পাওয়ার চেয়ে না পাওয়ার আনন্দটাই বেশি; যদি কেউ তার চাওয়া পাওয়ার সবই সহজে পেয়ে যায়, তাহলে সে কোনোদিন কবি বা সাহিত্যিক হতে পারে না।
নরেশ মাথায় নেড়ে সম্মতি জানাতে থাকল আর সনাতন তার আলোচনা চালিয়েই যাচ্ছে ।
সে বলে চলেছে বিভিন্ন সাহিত্যিকের জীবন কাহিনী ।
দ্যাখ নরেশ, সবার জীবনেই ছিল একজন নারী। কাছে পেতে চেয়েও পায়নি, অথচ সেই নারীর প্রেরণায় তৈরি করেছে বিপুল রচনা।
নরেশ হেসে বলল-- ঠিক বলেছিস, তোর জীবনে যেমন আরতি।
-- হ্যাঁ রে নরেশ; আরতিকে কাছে পেলে হয়তো আজ আমি এমন লিখতেই পারতাম না।
ইদানিং আরতিকে নিয়ে কোনো কথাই বলে না সনাতন ।
নরেশ অবাক হয়ে ভাবছে ---- কি হলো ছেলেটার ? দু'দিন আগেও যে আরতি ,আরতি বলে আমার মাথা খারাপ করে দিতো , আজ হঠাৎ কেন তার প্রেমিকার প্রতি এত আগ্রহহীনতা ?
যাক , বেচারা সাহিত্যজগতে ডুবেছে , ভালোই হয়েছে । লেখার হাত খুবই ভালো ওর । আমি ইচ্ছে করে আর কিছুই বলব না ওকে ।
অনীশের লেখা উপন্যাস মার্কেটে প্রচুর চলছে আজকাল । বাজারে সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে এই অজ্ঞাত লেখকের প্রতি ভীষণ কৌতুহল । লেখকের প্রতিটি লেখাই হচ্ছে জীবনমুখী, অতি সাধারণ মানুষের জীবনগাঁথা । তার লেখা কাহিনি পরিবারে সবাই একসাথে বসে পড়ার মতো ;নোংরামীভরা, পঙ্কিলতাপূর্ণ কোনো সাহিত্য নয় । প্রতিটি লেখাই হচ্ছে অসহায় নারীদের সপক্ষে , নারীর জীবনের অসহায়ত্ব এবং সমাজের নারীর প্রতি অবিচারের একটা পরিচ্ছন্ন জেহাদ ঘোষণা করে তার লেখা ।
কথা সাহিত্যিক শরৎ চন্দ্র যে আদলে লিখেছিলেন , অনেকটাই তেমনই ।
আরতি নিজেও এই লেখকের প্রতি অত্যন্ত অনুরক্ত ; কারণ, তার জীবনের সাথে অনেকটা ম্যাচ করে যায় ঘটনাবলী।
ক্রমশ- -'

Mar 01, 20
0
0
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতী ( পর্ব ৩৪)


নিতাই কাকুকে নিয়ে গাওবুড়োর বাড়িতে আলোচনায় বসল নরেশ, সাথে শঙ্কর এবং সনাতন; বিষয় আরতিকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া।
গাওবুড়ো কৃষ্ণকান্তকে ডেকে বলল-- কৃষ্ণ তুমি নিজের বৌকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছ বারবার; এবার কী করবে বলো?
কৃষ্ণ রেগে বলল-- আমি আমার বৌকে কোথাও যেতে দেবো না,ও আমার কাছেই থাকবে।
" দেখো কৃষ্ণ, তুমি কোনো কথাই রাখতে পারনি এযাবত্; আমি তোমার পেছনে নেই" , এই কথা বলে গাওবুড়ো আরতির দিকে তাকাল।
আরতি কেঁদে কেঁদে বলতে থাকল-- আমি এখানে একটি ঘন্টাও থাকব না কাকু। আমি আমার দাদার সাথে চলে যাবো, আপনারা অনুমতি দিন।
--- সে তোমার ব্যপার মা, তুমি যদি যেতে চাও, আমি বাধা দিতে পারি না; তবে কিন্তু মাঝেমাঝে কেসের হাজিরা দিতে হবে একথা যেন মাথায় থাকে তোমার; তারপর তোমার যদি কোনোদিন ইচ্ছে করে সংসার করতে; তখন তুমি এসো; আমি জোর করব না।
--- কাকু, আপনারা ছিলেন বলেই আমি আজো বেঁচে আছি, আপনাদের ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না।
-- কী আর করতে পারলাম মা? পারলাম না তোমার সংসার রক্ষা করতে।
আরতি গাওবুড়োর দিকে তাকিয়ে বলল-- কাকু, তাহলে দাদার সাথে চলে যাচ্ছি আজ?
গাওবুড়ো নরেশের হাত ধরে বলল-- বাবা, বোন-ভাগনাকে তুমি দেখো, আর দেরি না করে আমার বাড়িতে সামান্য খাওয়া দাওয়া করে বেরিয়ে পরো তাহলে।
গাওবুড়োর অনুরোধে সবাই তার বাড়িতে খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়ল রাস্তায়।
আরতি বাচ্চা নিয়ে যখন বেরিয়ে যাচ্ছে, পাড়ার মহিলাদের ভিড় জমে গেল তার চারদিকে ।
তাকে ধরে রাখতে জড়পদার্থ স্বামী একবারও এগিয়ে এল না । আজ পাড়ার কারো সাহস নেই তাকে ধরে রাখতে
সকলের একটাই বক্তব্য ----- মেয়েটা কোন সাহসে থাকবে এখানে ? হায়রে অভাগী !তোর দিকে তাকালে দেবীও যেন হার মেনে যায় , এত সুন্দর রূপের বাহার তোর দেহে , অথচ কী দুঃখ তোর জীবনে ! কী ভাগ্য নিয়েই জন্মেছিলি রে তুই !
সে পাড়ার সবাইকে চোখের জলে প্রণাম করল, সবাই চোখের জল মুছে দৌড়ে পালাচ্ছে আড়ালে গিয়ে একটু কাঁদতে ।
প্রতিবেশীদের দিকে তাকিয়ে বলল ---- আমার বেঁচে থাকার আর ইচ্ছে হয় না , তবুও এই বাচ্চাটার জন্য বাঁচতে হবে আমাকে , আপনারা আমাকে আশির্বাদ করুন ।
গাওবুড়ো আবার আরতীর দিকে তাকিয়ে আবার বলল , " বৌমা , যাচ্ছ যাও , বাধা দেবোনা , তবে ওদের বিরুদ্ধে কেসের তুমি মুখ্য সাক্ষী; কেসের হাজিরার তারিখ পড়লেই ---- তুমি আসবে কোর্টের হাজিরা দিতে । এই কথা মাথায় রেখো কিন্তু ।
আরতী মাথা নেড়ে তাকে প্রণাম করতে গেলে বাধাদিয়ে বলল ----- আমি কি করে তোমার প্রণাম নিই মা ? পাড়ায় থেকেও আজ তোমার মতো লক্ষ্মীপ্রতীমার গ্রাম ছেড়ে যেতে হচ্ছে , এটা সত্যিই বেদনাদায়ক; যাও ভালো থেকো তুমি ।
আরতি রাস্তা চলতে শুরু করল, সাথে নিতাই কাকু, শঙ্কর এবং সনাতন । যতদূর তাদের চোখে পড়ে ততক্ষণ পাড়ার লোকেরা তাদের দিকে চেয়ে রইল।
বেচারা মাতৃভক্ত অবিবেচক কৃষ্ণ একটিবারও আরতির দিকে বা নিজের বাচ্চার দিকে তাকিয়েও দেখল না । কেন তার মাকে পুলিশের হাতে তুলে দিল ? এই ক্ষোভে সে আরতির দিকে তাকিয়েও দেখল না ।
কৃষ্ণের ব্যবহারে নরেশ আরো বেশী দুঃখ পেল । হায়রে বোনের স্বামী ! এমন একটা মানুষের সাথে এতগুলো দিন কী করে থাকলো আরতি ?

সবাই মিলে নিতাই কাকুর বাড়ি রাতটুকু থেকে সকালেই তারা রওনা হয়ে গেল।
বাড়ি পৌঁছেই আরতি মা , মা করে ডাকতেই মা বেরিয়ে এল । তাকে বিধবা বেশে দেখে চিৎকার করে উঠল আরতি ।
---- মা ! একি ! বাবা !
---- তুই জানিস না মা ?
---- না তো ! দাদা , তুমি বললে না কেন ?
নরেশ মনটা খারাপ করে বলল ---- তোর এই দুর্দশায় আমার মুখেই আসেনি বোন । যে দুঃখের সাগরে ভাসছিলিস , তার মধ্যে আরেকটা দুঃখ দিতে চাইনি রে বোন ।
মা সবিস্ময়ে বলল ---- হ্যাঁ রে মা , তোর এত কষ্ট ছিল !
---- মা , তোমার ছোঁয়ায় আমার সব কষ্ট দূর হয়ে গেল আজ।
বাচ্চাটাকে মায়ের কোলে দিয়ে আরতি কাঁদতে কাঁদতে বলল ---- মা , আজ আমি শুধু ওর দিকে তাকিয়ে বেঁচে আছি । মাগো ! এত কষ্টে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না কোনোদিন ।
এবার আমি তোমাদের বাড়ির সব কাজ করে দেবো , আমার শেষ আশ্রয় তোমরা । আজ যদি আমার জন্মদাতা বাবা এসেও আমাকে নিয়ে যেতে চায় , আমাকে তোমার বুক থেকে তুলে নিতে পারবে না। আমার জন্মদাতা সেই অধিকার হারিয়ে ফেলেছে মা।
নরেশ লক্ষ্য করল সনাতন পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে । আসাম থেকে ফেরার পথে সে কোনো কথাই বলছিল না । আরতির সাথে কোনো কথা বলা তো দূরের কথা , একটিবার তার মুখের দিকেও তাকিয়ে দেখেনি সে । বারবার বলছিল --- নরেশ , আরতির এই কষ্ট দেখার আগে আমার কেন মরণ হলো না । আমার ইচ্ছে করছে আমার জীবনের সমস্ত সুখ ওকে দিয়ে সুখী করি ।
নরেশ বারবার বলছিল ---- দুর্ বোকা ! আমি মাঝে মাঝে তোর কথাই বুঝি না । কী বলিস আর কি না বলিস .......
কয়েদিনের মধ্যে আরতির শারীরিক এবং মানসিক অনেক উন্নতি হলো । তার সুন্দর দেহের সৌন্দর্য যেন আরো বেড়ে গেল । আবার গ্রামের লোক তার সৌন্দর্যে যেন আকৃষ্ট হচ্ছে ।
একদিন নরেশ তার সাথে বসে ভবিষ্যত্ নিয়ে নানা কথা বোঝাতে চেষ্টা করল ।
আরতি বলল ----- আমাকে আবার তুই ভবিষ্যত্ বোঝাতে চাস কেন দাদা ?
---- তোর জীবনের অনেকগুলো দিন এখনো পড়ে রয়েছে বোন । আমার মনেহয় তোর আবার একটু চিন্তা করা দরকার ।
---- দাদারে ! পৃথিবীর কোনো সুখ আমার জন্য নয় । আমি পেটে দুমুঠো খেয়ে একটা নিরাপদ আশ্রয় চাই শুধু । যেখানে থাকবে না কারো লোলুপ দৃষ্টি , থাকবেনা কারো অনিষ্টচিন্তা । আমি আমার মনের মতো জায়গা পেয়েছি দাদা । আমাকে আর কোথাও তাড়িয়ে দিয়ে জীবনটা আবার তছনছ হতে দিস না ।
নরেশ একদিন আরতির সাথে একান্তে বসে সনাতনের ভালোবাসা সম্বন্ধে বলল।
আরতি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল ----- দাদা , আর তা হবার নয়।
-- কিন্তু সনাতন আজও তোকে ভালোবাসে। -- দাদা, সনাতন বাবুকে একদিন আমার সাথে কথা বলিয়ে দিবি ? আমি ওনাকে সব বুঝিয়ে বলব; লোকটা কেন আজও দুঃস্বপ্ন দেখবে বল? আমার জীবনে আর কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই।
" নিশ্চয়ই দেবো কথা বলিয়ে দেবো" বলে নরেশ অন্য কথায় চলে এল ।
নরেশ একদিন মাকে মামার বাড়িতে রেখে এল চালাকি করে । তার উদ্দেশ্য সনাতনের সাথে আরতিকে একান্তে কথা বলার সুযোগ করে দেবে । আরতি যদি চায় তাহলে মন্দ হবে না সনাতনের সাথে । রাজি হলে আসামে গিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করে আসা যাবে নাহয় ।
স্কুল থেকে এসে নরেশ চুপ করে সনাতনের ঘরে গিয়ে উঁকি মারল একটু ।
সে সনাতনের কীর্তি দেখে অবাক বিস্ময়ে চেয়ে রইল ।
একি ! সনাতন টেবিলে কি করছে ? এত কাগজ কেন টেবিলে ।
চুপ করে লেখায় ডুবে যাওয়া সনাতনের একদম কাছে গিয়ে ডাকতেই সনাতন চমকে উঠল ।
---- সনাতন , কী এসব ?
--- নরেশ , তোকে বলিনি এখনো । আমি একটা উপন্যাস লিখছি ।
--- কী ? উপন্যাস ?
---- হ্যাঁ ভাই । শেষ অধ্যায়টা আজ লিখে ফেললাম । পড়বি ? অবশ্য প্রকাশক আমার লেখা দেখে পছন্দ করেছে ।
---- ছাপবি তুই ?
--- আমি কেন ? প্রকাশক ছাপবে
----আগের উপন্যাস তোর টেবিলে দেখলাম সেদিন । আমি ছদ্মনামে প্রকাশ করছি সব ।
---- আচ্ছা ! তুই তাহলে লেখক অনীশ ?
----হ্যাঁ নরেশ , আমি সেই অনীশ । আমার প্রথম উপন্যাস " পল্লিমেয়ে তোর টেবিলে দেখলাম সেদিন।
---- তাই? তারপর এই নতুন উপন্যাসের নাম ?
----- প্রকাশ হলেই দেখবি । আজ নয় ।
----আচ্ছা, তোর পল্লিমেয়ে বইটা বাজারে খুব চলছে তো , রয়াল্টি পাচ্ছিস ?
---- পাচ্ছি সামান্য ।
----আমার একটা কথা ছিলো সনাতন ।
---- কী বিষয়ে ?
---- আরতি সম্পর্কে ।
সনাতন হাত জোর করে বলল ---- নরেশ , আমি আরতির কাছে কৃতজ্ঞ ভাই । সে আমার উপন্যাসের প্রেরণা । কিন্তু আমি আর কয়েকটা দিন পরে দেখা করব তার সাথে ।
নরেশ আর কোন কথা বলতে পারল না । সে দৌড়ে বাড়ি গিয়ে উপন্যাসটা আবার পড়ে নিয়ে ভাবল ---- আরে বইটা তো আরতিকে ঘিরেই লিখেছে ! উপন্যাসের পল্লিমেয়ে স্নিগ্ধা মানেই তো দেখছি আরতি ।
সে উপন্যাসটা নিয়ে আরতিকে দিয়ে বলল --- সামান্যকিছু রান্না কর আজ ।
---- কেন ?
----- আজ খেতে ইচ্ছে করছে না ।
"সেকি রে ! দেখি জ্বর উঠল কিনা ! " বলেই নরেশের গায়ে হাত দিয়ে বলল , কই ? জ্বর তো নেই ? তাহলে পেট খারাপ নাকি তোর ?
---- না রে , কিছুই হয়নি আমার ।
নরেশ আরতির হাতে উপন্যাসটি দিয়ে বলল ---- এই বইটা একটু মন দিয়ে পড়বি রাতে ।
আরতি বইটি হাতে নিয়ে উপন্যাসের নাম এবং লেখকের নাম দেখে বলল ---- সুন্দর তো নামটা , পড়ে নেবো রাতে । দাদা , আমি শরত চন্দ্রের অনেক উপন্যাস পড়েছিলাম ছাত্রজীবনে । এদেশে আসার পর আর পড়া হয়নি কোনো বই ।
নরেশ আবার বলল রান্নাকরেই রাতে বইটা পড়ে শেষ করবি কিন্তু ।
-- অবশ্যই পড়ব দাদা, তুই জানিস না, আমি উপন্যাসের পোকা।
চলবে -------

Mar 01, 20
0
0
ছড়া-Rhyme
বেলা ⸻  Ainunnahar Mozumdar Luvna  Ainunnahar Mozumdar Luvna
বিবেক  ⸻  Sukanta pal  Sukanta pal
গিন্নী ⸻  Sukanta pal  Sukanta pal
ক্যবলা ⸻  Sukanta pal  Sukanta pal
নন্দর ধন্দ ⸻  Sukanta pal  Sukanta pal
বাস্তব ভীষণ রুক্ষ ⸻  Sonali Das Srkar  Sonali Das Srkar
কবে ⸻  Sukanta pal  Sukanta pal
Sukanta pal

Sukanta pal

Star Point: 4.43 of 5.00

ছড়া

পাত্রীলাভ


পদ্মমাসির খুড়শ্বশুরের নাতজামাই এর ছেলে
অনেক ঘুরে মনের মতো পাত্রীর খোঁজ পেলে।
এমনিতেতো পাত্রী ভালোই রঙটাই যা কালো
দিনের বেলায় দেখতে পাবে জ্বাললে মোমের আলো।
হয়তো চোখে ঝাপসা দেখে তাই বলে কি অন্ধ
আজন্মকাল দাঁত মাজেনি বেজায় মুখে গন্ধ ।
বামচোখটা একটু ট্যারা নাকটা নাকি বোঁচা
দাঁতের মাড়ি??বলব কি আর কাঁচকলার মোচা ।
হাত পা সেতো ছাপাখানা বাটিপিনের জামা
খোস-পচড়া বারোটা মাস বলল মেয়ের মামা।
পড়াশোনার খবরটাতো??বলছি আরেব্বাস!
সাতাশবারের চেস্টায় সে গঙ্গেশটা পাস।
হাতের পায়ের গড়ন ভালোই ডান হাতটাই নুলো
কানদুটো তো কান নয় ঠিক,যেন দুটো কুলো।
মুখের গড়ন? বলছি শোনো কোরো না মস্করা
শিল্পীহাতে গড়া সে তো কুমোর বাড়ির সরা।
মাথার চুলে ঘর বেঁধেছে হাজার উকুন-ঢেলা
সারাটাদিন খেলছে তারা চোরপুলিশের খেলা।
কোকিল বরণ কন্ঠখানি স্পিকার কাটা বক্স
কানের পাশে ঝুলছে শুনি সাড়ে তিনহাত লক্স।
নাতজামাই এর ছেলের দেখি ধন্যি ভাগ্য বটে
বহুপূণ্য ফলে এমন পাত্রী জুটে ঘটে।

Jul 31, 20
0
0
Sukanta pal

Sukanta pal

Star Point: 4.43 of 5.00

ছড়া

ছন্দে অ্যাসিড


নন্দর মনেতে আজ হল যে বাসনা
রসায়নে অ্যাসিডের চায় আলোচনা
নন্দর বাসনা শুনে কহিলেন গুরু
সংজ্ঞা হতে আলোচনা করিবেন শুরু।
মৃদু হেসে গুরুদেব কহিলেন ধীরে
রাখি দক্ষিণ কর নন্দর শিরে—
আরহেনিয়াস তাঁর তত্ত্বে গিয়েছেন বলে জলীয় দ্রবনে তড়িৎ বিয়োজিত হলে
হাইড্রোজেন যুক্ত সেই যৌগ অ্যাসিড হয়
পরাবিদ্যুৎ আয়নরূপে হাইড্রোজেন দেয়।
হাইড্রোজেন ক্যাটায়ন সংখ্যা কত হবে
প্রতিস্থাপনযোগ্য যত হাইড্রোজেন রবে।
হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করতে পারে তারা
হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক পরাধর্মী যারা।
তড়িৎ-রাসায়নিক  শ্রেণী নাম ধরে
হাইড্রোজেন ঊর্ধে  যারা অবস্থান করে
তারাই অধিক পরাতড়িৎ ধর্মী হয়
হাইড্রোজেনের নীচে যারা তারা কিন্তু নয়।
অ্যাসিডের  হাইড্রোজেন যে স্থানে রয়
উচ্চপরাধর্মী ধাতু সেই স্থান লয়।
হাইড্রোজেনস্থলে ধাতুর হলে আগমন
সেথা হতে হাইড্রোজেন করে যে গমন।
ধাতুর কারণে হাইড্রোজেনের এই গমন
বিজ্ঞানশাস্ত্রেতে তারে বলে প্রতিস্থাপন ।
হাইড্রোজেনের প্রতিস্থাপন একই রূপ নয়
কখনো বা পূর্ণরূপে, আংশিকও হয়।


জোড় হাতে নন্দ কহে গুরুদেব মোরে
অ্যাসিডের ধর্ম কিছু কহেন কৃপা করে
নন্দর আগ্রহ দেখি তুষ্ট হয়ে গুরু
অ্যাসিডের ধর্মকথা করিলেন শুরু।
অ্যাসিড মাত্র জলে অতি দ্রাব্য হয়
স্বাদে অম্লধর্মী — ইহা মিথ্যা কথা নয়।
ক্ষার বা ক্ষারক সাথে বিক্রিয়া ফল
বিক্রিয়াজাতরূপে লবন আর জল।
আজকের আলোচনা এইখানে রাখি
অ্যাসিডের ধর্ম কিছু রয়ে গেল বাকি ।

অ্যাসিডের শ্রেণীবিভাগ কহিব তোমারে
আসিয়ো প্রভাতে বৎস ভৈরব পারে
অ্যাসিড চিনিবার কিছু কহিব উপায়
আজিকে বলার মত সময় আর নাই।
গুরুর চরণ পূজে আপনার করে
অতিহৃষ্ট মনে নন্দ ফিরি গেল ঘরে।

Jul 24, 20
0
0
Sukanta pal

Sukanta pal

Star Point: 4.43 of 5.00

ছড়া

ক্ষুধা


কি দিয়ে মিটাবো ক্ষুধা
শুকিয়ে গেছে বুকের সুধা
ভাড়ার ঘরে চাল বাড়ন্ত আজ
করোনাতে সব নিয়েছে
খোকার বাবা সেই গিয়েছে
খুঁজতে কোনো কাজ।
শঙ্কা জাগে মনের মাঝে
এই বুঝি বা খোকা জাগে
প্রভাত হতে নাইকো বাকি আর
একই অভাব সকল ঘরে
কোথায় যাব কার দুয়োরে
কেমন করে চাইব কিছু ধার।
এ রাত যদি না ফুরাতো
তবে তো বাছা বেশ ঘুমাতো
চিন্তা কিছু থাকতো নাকো আর
পাখির কুজন আসছে ভেসে
উঠবে রবি অট্টহেসে
ক্ষুধার জ্বালা সইবে না বাছার।
রাত তো বুঝি ফুরিয়ে আসে
এখনো খোকা ঘুমিয়ে পাশে
খোকার বাবার সময় হল আসার।

আসল খোকার বাবা ঘরে
কাবু সে তো ভীষণ জ্বরে
সর্দিকাশি টান ধরেছে শ্বাস
কোয়ারেন্টাইন ঘরে
নিয়ে সবে গেল ধরে
সে ও হল করোনার গ্রাস।
দিন দুই গেছে যেই
খোকাকে ধরেছে সেই
বাপব্যাটা ফেরেনি তো আর
মৃত্যু মিছিল সার
মহামারী করোনার
অনাহারী বিশ্বে বাজে হাহাকার ।

Jul 21, 20
0
0
Ainunnahar Mozumdar Luvna

Ainunnahar Mozumdar Luvna

Star Point: 4.13 of 5.00

ছড়া

বেলা

সূর্য গেছে মেঘের বাড়ি
ডুবে গেছে বেলা
একটু খবর নিলানা বন্ধু
আমায় ভুলে গেলা
আকাশের ঐ নিরবতার
কোন সিমা নাই
মনে রেখো আমি তোমায়
আজ ভুলি নাই ?

Jul 15, 20
0
0
Sukanta pal

Sukanta pal

Star Point: 4.43 of 5.00

ছড়া

বিবেক


সমাজটাকে ভাঙছে কেহ
করছে কেহ বিভাজন
বিকিয়ে দিয়ে নিজেকে কেহ
মিথ্যে সাজায় মহাজন ।
কেউবা ভাবে নিজেকে নিয়ে
বিপ্লবেরই সত্ত্বা সে
সুযোগ পেলেই হত্যা করে
প্রতিবিপ্লব সত্ত্বাকে।
রাজার শাসণ আসলে শোষণ
তোষামোদী আর তোষণ
তেজারতি লুঠ করে কেউ
কেউবা স্বজনপোষণ ।
সততারই প্রতীক সে যে
প্রচার করে নিজেকে
মানবতার দ্বীপ জ্বলে না
সভ্যতারই বিবেকে।।

Jul 12, 20
0
0
Sukanta pal

Sukanta pal

Star Point: 4.43 of 5.00

ছড়া

গিন্নী


নাকছারি যায় জানো আমাদের বিন্নি
পাকা পাকা কথা মুখে একেবারে গিন্নি।
পদ্মার মাকে বলে কাল কেন আসো নি
পুতুলের শাড়িগুলি আজো দেখি কাচোনি
এখনো হয় নি মাজা সকালের কাপ ডিশ
আজকে তো শনিবার খেতে হবে নিরামিষ
আমাদের কিষাণের ছোটো বেটা হারাধন
তার সাথে যত ভাব খুঁনসুটি সারাক্ষণ ।
ছবিটাতো আঁকে ভালো বলে ওর বাপ-মা
ভীষণ জিঁজিল মেয়ে কারো কথা শোনেনা
খোকনকে বাপি বলে মাকে বলে মাম্মা।
গলা ধরে চুমু খেয়ে ডেকে বলে ঠাম্মা
খুক খুক কাশে দাদু খায় তবু ছাইপাঁশ
পিলে জ্বরে ভোগে কেন হারাধন বারোমাস
গামছাটা কোমরেতে বেশ করে জড়িয়ে
দাও দিকি ছোটকাকী শাড়িখানা পরিয়ে
এই বলে কাকীমাকে করে নেয় জ্বালাতন
গিন্নীপনামো ঠিক গিন্নিরই মতন।

Jun 26, 20
0
0
গল্প-Story
ঈদের মসজিদ ⸻  মৃণাল কান্তি রায়  মৃণাল কান্তি রায়
ভ্রান্ত উপলব্ধি ⸻  Chaitali Das majumder  Chaitali Das majumder
হুমায়ূন হিমু  ⸻  Masud Rana  মুহাম্মদ মাসুদ
কষ্ট ⸻  md mijanur rahman  md mijanur rahman
বিচেছদ ⸻  md mijanur rahman  md mijanur rahman
ফিরে আসা ⸻  md mijanur rahman  md mijanur rahman
পিকপিকনিক ⸻  মোঃ রাশিদুল ইসলাম  মোঃ রাশিদুল ইসলাম
Sukanta pal

Sukanta pal

Star Point: 4.43 of 5.00

গল্প

এক কাপ চা

গল্পঃএক কাপ চা
রচনাঃসুকান্ত পাল
জিতপুর। মুর্শিদাবাদ
১২/০৭/২০২০


শোনো, আমি এই শেষবারের মতো বলেদিলুম, তুমার মার পাতে পিন্ডি দিতে পারব নি। বলে কিনা আমি ছোটোলোকের বিটি  ! ছোটোলোক তো
ছোটোলোক।
আহা। বলছি তো মা যা বলেছে তা ঠিক না। কিন্তু সুমি তুমি ও তো মাকে ছোটবড়ো অনেক কথাই বলেছো।

বলেছি বেশ করেছি। আমি ভাতারের ভাত খায় —লোকের ভাত তো খায় নি।

লোকের  ভাত খাওয়ার  কথা আসছে কোথায় থেকে। তুমি যেমন বলছ তেমন
মাও তো বলতে পারে—“আমি ব্যাটার ভাত খায়। ”

বাঃ। বা---বা-বা—বা। কি কথার ছিরি। “ব্যাটার ভাত খায়”। তুমি তো আসলে মা মইুখ্যি। মা’র  দোষগুলান চোখি পইড়বি ক্যানি। কতায় আচি না, যত দোষ নন্দ ঘোষ— আমার পুড়া কপাল । তুমার পাল্লায় পড়্যি আমার হাড়মাস সব এক হয়্যি গ্যালো।
সুমির শেষ কথাগুলো বিপিনের বুকে তীরের মত বিঁধলেও চুপ করে যায়। এ তো নতুন ঘটনা না, এ নিত্যদিনের ঘটনা— বিপিনের গা সওয়া হয়ে গেছে।

অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় হলে ও শ্বাশুড়ি -বৌমার দ্বন্দ্ব সেই রামায়ণ-মহাভারত-পূরাণের যুগ থেকেই চলেআসছে। যাইহোক সুমি আর তার শ্বাশুড়ি চপলার আজকের ঝগড়ার এক কাপ চা কে কেন্দ্র করে। ঘটনাটা এইরকম——
আজ সকাল সকাল বিপিনের দূর সম্পর্কের মামা মাধব সটান বাড়িতে এসে
হাজির। ভাইকে একটি হাতলভাঙা চেয়ারে বসতে দিয়ে চপলা বৌমাকে হাঁকডাক  শুরু করে দেয়।
দেখছিস মেধো, এত ডাকছি  তা কি সাড়া দেয়।
হুঁ। থাক আর ডেকে কাজ নাই।
ডেকি কাজ নাই মানে? বাড়িতে আত্মীয় কুটুম আসলে এক কাপ চা করতে হবে—সে সানবোধ আর কবে হবে?
চা আর খাব না।  আমি এখনি উঠব। কাল মা’র দ্বিবোসী। তুরা সব যাস।  লোক তেমন বলতে পারছি নি। লকডাউন পরিস্থিতিতে কাজকাম সব বন্ধ।
তা আবার আমাদের বলতে গেলি ক্যানে—
না । বেশি কেউ না তুরা আর দু’দশঘর আত্মীয় কুটুম। তা আমি উঠছি চপলি দিদি। উঠছি মানে? কত দিন পরে আসলি । একটু চা না খাইয়্যি ছাড়ব না।
নারে ,মালতি দিদি ,বসবো না একবার
বাজার হয়ে যাব।
বলি বিপিন , ঘরে আছিস?দ্যাখ তোর মামা এসছে। কতবার বোমাকে ডাকছি—একবারও সাড়া দিল না এককাপ চা করার ভয়ে। এমুন ছোটোলোকের বিটি—
কথা শেষ না হতেই—
সীমা বাথরূম থেকে বেরিয়ে চিৎকার  শুরু করে দিল—
দুজনের  চ্যাঁচামেচিতে  সাতসকালে বিপিনদের উঠানে খেন্তি , হারার মা আরও ক’জন জড়ো হল।  কিন্ত কেউ রা তক কাড়ল না।
আজ সকালে রান্না ঘরে উনুন ধরল না। বিপিনের মাকে খেন্তি একরকম জোর করে ধরে তাদের বাড়ি নিয়ে গেল। বিপিন ছিটকি জালটা এতক্ষণ ঠিক করছিল। বেলা গড়িয়ে  দুপ্রহর হল । বিপিন বৌকে ভাত চাপাতে বলে জাল নিয়ে বেরিয়ে গেল। ওদিকে বিপিনের মা ও সেই গিয়ে আর ফেরে নি।
আজ দশ বছর হতে চলল সুমি বিপিনের ঘর করছে।  তাদের একটা বছর ছয়েকের মেয়ে ও ছিল। সে দু বছর আগের কথা।  হঠাৎ পেটে যন্ত্রণা। এমুন পুড়া গাঁয়ে বাস যে হাসপাতাল থেকেও ডাক্তার নাই। অগত্যা সেই শহরের হাসপাতালে ডাক্তারবাবু ভালো করে দেখে পেটের ছবি আর কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দিলেন। রক্ত পরীক্ষার জন্য দুদিন পরে যেতে ডেট দিলেন।  কিন্ত গোল বাঁধলফটোর ঘরে গিয়ে।  একমাস পরে ছবি তোলার ডেট দিলেন। অনেক কাকুতি-মিনতি করেও ফল হল না। বাইরে থেকে ছবি করাবে সে সামর্থ্য বিপিনের ছিল না। মাত্র চুয়ান্নোশো টাকার প্যারাটিচার বিপিন। সঞ্চয় বলে কিছু নাই। ঐ টাকায় পেট চালানোই কঠিন —তো সঞ্চয় হবে কোথায় থেকে! রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেল।  হাসপাতালের  ডাক্তারবাবু কোলকাতায় নিয়ে যাবার পরামর্শ দিলেন। পাড়াতে কেউ পরামর্শ দিল বিপিন ভেলোরা নিয়ে যা, কেউ  আবার ব্যাঙ্গালোর যেতে
বলল। ইস্কুলের  হেডমাস্টার নাকি বলেছিল এ রোগের চিকিৎসা একমাত্র মুম্বাই এ ভাল।
সুমির যেটুকু গয়ণাগাটি ছিল তাই বেচে বছর পাঁচেক আগে বিপিনের হার্ট অপারেশন হয়েছিল।  এখন সম্বল বলতে নাকের ফুলটুকই । মাত্র দুমাসের মধ্যে অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেল মেয়েটা—মুক্তি পেল বিপিন আর সুমি। আজও সুমি বিশ্বাস করে বিপিনের জন্যই অকালে মেয়েকে চলেযেতে হল।
আরও সাত পাঁচ ভাবছিল এমন সময় বিপিন জাল আর কটা পুঁঠি চিঁড়ি মাছ ক্যারিপ্যাকেটে করে নিয়ে সুমির সামনেরেখে দাওয়ায় বসল।
কিগো ভাত চাপাও নি —
সুমি কোনো উত্তর না দেওয়ায় বিপিন উঠে মায়ের খোঁজ করতে যায়। খ্যান্তির বাড়ি বিপিন গিয়ে দেখে মা তখনও বকছে। বিপিনকে দেখে তার চ্যাঁচামেচি আরও বেড়ে গেল।

বিপিনের মা’র চ্যাঁচামেচি শুনে সুমি এক পা এক পা করে খেন্তির দরজার কাছে এসে উপস্থিত হয়—
ঐ দ্যাখ খেন্তি পুতখাকি আবার এইছে ঝড়গা করতে—সুমি মুহুর্তে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে।  বাক্যবানে জর্জরিত । নীরব শুধু বিপিন।  সে ধীরে ধীরে বাড়ির কাছে আসতেই —
নেপোর মা বলে উঠল —
মাস্টারেরই জ্বালা বেশি। বুঝলি ফুদন দিদি।
তা যা বলেছিস নেপোর মা। হাজার হোক প্যারাটিচার।  মাস্টার তো বটে। ছেলটার মানসন্মান কিছু রাখলে না দুটিতে।
আরও অনেক কিছুই বলাবলি  চলছিল।  একটা ঘোরের মধ্যে বাড়ি এসে হঠাৎ
বিপিনের চোখ পড়ল দাওয়ায় কালকের আনা লাইলনের দড়িটার ওপর।  জামাকাপড় মেলার জন্য কিনেছিল।  কাঁপাকাঁপা হাতে দড়িটা নিয়ে বিপিন বাড়ির পিছনের আমবাগানে সবার অলক্ষ্যে মিলিয়ে গেল।

Jul 15, 20
0
0
Chaitali Das majumder

Chaitali Das majumder

Star Point: 4.11 of 5.00

গল্প

শৈশবের স্মৃতিচারণ

 

আজ প্রায় বিশ বছর পর রনিতা যাবে তার গ্রামের বাড়িতে, কদিন ধরে বেশ টানটান উত্তেজনায় কাটাচ্ছে রনিতা। কাল রাতে সে ট্রেন ধরবে। এক সপ্তাহ আগে থেকেই রনিতার সুটকেস গুছানো চলছিল কারণ এবার সে পারমিশন পেয়েছে পাক্কা পনেরো দিন তার গ্রামের বাড়িতে কাটানোর।
এবারে অবশ্য সে যাচ্ছে তার খুড়তুতো বোনের বিয়েতে। কাকা কাকিমা অনেক করে বলেছে বোনের বিয়ে, তুই আসবি না তা কখনো হয়! তাই কাকা কাকিমার কথা ফেলতে পারেনি। অনেক কাজ থাকা সত্ত্বেও রনিতা গ্রামের বাড়িতে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
দার্জিলিং মেলে ট্রেনের টিকিট হয়েছিল , রনিতা সকালবেলায় বেরিয়ে পড়েছিল কারণ ওদের বাড়ি থেকে স্টেশন আসতে প্রায় তিন ঘন্টা লাগে, তারপর শিলিগুড়িতে আসা মানে অল্প বিস্তর মার্কেটিং না করলে ঠিক পোষায় না, তাই ওরা প্রত্যেকবারই কলকাতায় আসার আগে সকালবেলায় বেরিয়ে শিলিগুড়িতে মার্কেটিং করে খাওয়া দাওয়া সেরে তারপর ওরা স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হতো।
এবারও ঠিক তাই করলো, ঠিক সময় ট্রেনে ও চড়লো। ছোটবেলা থেকেই রনিতা ট্রেন চড়তে খুব ভালোবাসে এবং জানলার ধারে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সবটুকু সে উপভোগ করতো। এবার কিন্তু চোখ বুঝিয়ে রনিতা কেবলই গ্রামের বাড়ির ছবি মনে করতে লাগল ।ওই গ্রামের বাড়িতেই রনিতার জন্ম ,কত খেলাধুলা করেছে কতো স্মৃতি ভেসে উঠছে চোখের পাতায়। এমনই একটা স্মৃতি রনিতার মনে পড়ে গেল।
মায়ের মুখে শোনা রনিতা তখন খুব ছোট, কত বয়স হবে ছয় বছর, পাঁচ বছর পূরণ হয়ে ছয়ে পা দিতে রনিতার জন্মদিন রনিতার মা বেশ বড় করে করেছিল, সবাই এসেছিলো...
রনিতার বন্ধুরা তার মায়ের স্কুলের কলিগরা, পাড়ার কিছু জন। সবাই খুব হই হই করছে....
এমন সময় রনিতাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
সবাই খুব চিন্তায় পড়ে গেল ,সবাই চারদিকে খুঁজতে লাগলো ।শেষপর্যন্ত রনিতাকে পাওয়া গেল খাটের নিচে।
সেই সময় মিষ্টি আনার জন্য বড় মাটির হাড়ি ব্যবহার করা হতো কিছুটা গুড়ের হাঁড়ির মতনই লম্বাটে। জন্মদিনের দিন সেই মিষ্টির হাড়ি নিয়ে রনিতা খাটের তলায় লুকিয়ে লুকিয়ে রসগোল্লা খাচ্ছে।
ট্রেনে যেতে যেতে রনিতা নিজের মনে মনে হেসে ফেললো,, আর নিজের দুষ্টুমির কথা ভাবল।
যাই হোক এসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে রনিতা ঘুমের দেশে চলে গেল।
ট্রেন তার নিজস্ব গতিতে কু ঝিক ঝিক শব্দে তার এগিয়ে চলেছে। দেখতে দেখতে ভোরের আলো ফুটল ।পাখির কিচিরমিচির শব্দে রানিতার ঘুম ভেঙে গেল। চেয়ে দেখ এ ট্রেনটা সিগন্যাল না পেয়ে দাঁড়িয়ে আছে খোলা মাঠের ধারে চারিদিকে সবুজে সবুজ তাতে সোনার বরন ধান হয়ে রয়েছে।কি অপূর্ব সুন্দর দেখতে লাগছে। রনিতা সকালবেলায় চোখ খুলে এই সৌন্দর্য উপভোগ করে তার মনটা খুশিতে ভরে যায়।
যাইহোক দার্জিলিং মেল প্রায় ঠিক সময়ে শিয়ালদা স্টেশনে ইন করল ।সেখান থেকে ট্যাক্সি নিয়ে সোজা রনিতা দেশের বাড়ির দিকে রওনা হলো। ট্যাক্সি থেকে নেবে সে তার বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগল।কতো পরিচিত সেই জায়গা।
যার সঙ্গে দেখা হচ্ছে রনিতা সবাইকে কেমন আছো কাকিমা ?কেমন আছো সবাইকে জিজ্ঞেস করতে করতে যেতে লাগলো।
জেতে জেতে হঠাৎই একজনকে চোখে পরলো কাঁচাপাকা দাড়ি খুব চেনা চেনা লাগলো........
উনিই রনিতাকে জিজ্ঞেস করলেন , রনিতা না? কেমন আছিস? অনেক দিন পর এই গ্রামের বাড়িতে এলি।তোকে তো চেনাও যাচ্ছে না।
রনিতার ও ওনাকে খুব চেনা চেনা লাগছিল অবশেষে রনিতা বলেই ফেলল তুমি স্বপনদা না?
ভদ্রলোক উত্তর দিলেন হ্যাঁ রে চিনতে পারছিস না?
রনিতা হ্যাঁ চিনতে পেরেছি, কেমন আছো? বলে এগিয়ে যেতে লাগল, কিছু টা যাবার পর তাদের সেই অতিপরিচিত সাবেকী পুকুরের সামনে এসে পৌঁছলো ।ফিরে তাকালো সেই পুরনো দিনের মনের পাতায়।
রনিতাদের বাড়ির সামনে একটা বিরাট বড় পুকুর আছে । রনিতা যখন জন্মায় নি সেই পুকুরে নাকি চড়ক পূজা হতো। সারা গ্রাম বাসী মিলে পূজা করতো।
ওই পুকুরে নাকি বিরাঠ বড় সাদা রঙের বাস্তু সাপ আছে। এটা গল্প কথা না , অনেকেই সেই সাপটি কে দেখেছে।আর পুকুরটার নাম ও ছিল বাস্তুপুকুর।
পাড়ার অনেকেই সেখানে স্নান করতে আসত এবং সাঁতার দিত এপার-ওপার করত। রনিতা ও একদিন ওই পুকুরে সাতার দিচ্ছিলো হঠাৎই পুকুরের মধ্যিখানে এসে আর সাঁতার কাটতে পারে না মনে হয় দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে নিচের দিকে তলিয়ে যেতে থাকে।হাত পা ছুড়তে থাকে। বাঁচার চেষ্টা করতে থাকে। বাঁচাও, বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু জলের তলায় কে শুনবে তার চিৎকার, মৃত্যু অনিবার্য ছিল সেই দিন।
এমন সময় সেই স্বপনদা নামক মানুষটি সেই মুহূর্তে জলের নিচে থেকে টেনে নিয়ে এসে রনিতার জীবন বাঁচিয়ে ছিল । একদম পুকুরের মধ্যিখানের তলদেশ থেকে , টেনে তুলে এনে নতুন জীবন দিয়েছিল.........
হ্যাঁ,সেই ফিরিয়ে দিল রনিতার জীবন।
আর রনিতা ও ফিরে পেলো অমূল্য প্রান শুধু মাত্র ওই স্বপনদার জন্য। সাময়িক সংসারের চাপে হয়তো ভুলে যেতে হয় কিছু স্মৃতি কিন্তু সামনেই যদি সেই স্মৃতি প্রতিফলিত হয় সেটা কি কখনো ভোলা যায় ?
স্বপন দার প্রতি শ্রদ্ধা আরো বেড়ে উঠল।
মনে মনে স্বপনদাকে প্রণাম করে রনিতা নিজের বাড়ির দিকে রওনা হলো।

May 28, 20
0
0
মৃণাল কান্তি রায়

মৃণাল কান্তি রায়

Star Point: 4.39 of 5.00

গল্প

ঈদের বাসন


রান্নাঘরে গিন্নিমা ঢুকছে ঈদের রান্নাটা সেরে ফেলার জন্য। রান্না করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো এক্কেবারে চকচকে ঝকমকে! গিন্নিমা কড়াইটায় হাত দিতেই কড়াই বলে উঠল,"দেখুন গিন্নিমা! সবাই বকশিস পেয়েছে আমার বকশিস কোথায়? " এই শুনে গিন্নিমা তাজ্জব! ব্যাপার কি কড়াই কথা বলছে! "তা তোমার বকশিস কত? " কড়াইঃ"গিন্নিমা! গোস্তের দাম কত? " গিন্নিমাঃ"৪০০০.০০ টাকা! " তা বেশ বেশ! বলল কড়াই! এরপর বলল,"আমাকে কয় ভাজা দেবেন? মানে মেন্যুর পদসংখ্যা কত? " গিন্নিমা বলছে,"পাঁচ!" খুব ভাল খুব ভাল! তা এবার কড়কড়ে কুড়ি হাজার টাকা বকশিস দিয়া রান্না শুরু করে দেন! আর না দিয়া রান্না চালু করলে হেলে দুলে সব ফেলিয়ে দিয়ে ঈদের খুশি ভেস্তে দেব! "কি আর করা কড়াইয়ের কথামত ২০,০০০.০০ টাকা কড়াইয়ের আসন পাশে রেখে একে একে রান্না সেরে গিন্নিমা বেড রুমে বিশ্রাম করতে গেল। এই ফাঁকে নায়ক-নায়িকা বাড়ির কাজের আয়া-খানসামা দম্পতি রান্নাঘরে প্রবেশ করল। ছকটা তারাই কষে কণ্ঠদান প্রক্সির অভিনয় করে গিন্নিমাকে ধোকা দিয়ে কড়াইয়ের দোষ দিয়ে টাকা হাতিয়ে বাড়িতে ঈদের খুশি লাগিয়ে দিল-কড়াই বাসনের নাম ভারিয়ে! ভাবীরা এজন্যই সতর্ক থাকবেন ঈদের বাসনে যেন কথা বলে টাকা বাগিয়ে না নেয়। দম্পতি, "আহ্ মা-ই-রি ----------!"

May 25, 20
0
0
মৃণাল কান্তি রায়

মৃণাল কান্তি রায়

Star Point: 4.39 of 5.00

গল্প

ঈদের মসজিদ


রোজাদার আর ভোজাদার একসাথে মসজিদে কাতারে বসে। ভোজাদার যারা এদিক সেদিক তাকাচ্ছে আর রোজাদার যারা তারা সাগ্রতার সাথে কোরআনের মহীমা তাৎপর্য শুনছেন-যা পেশ ইমাম সাহেব বোঝাচ্ছেন। এক কাতারে জনৈক ভোজাদারকে উদ্দেশ্য করে জনৈক রোজাদার বলছেন,"এই যে গেদু এক মাসের একদিনও তোরে মসজিদে দেখলামনা। আজকের আসছো ঈদের জামাত ধরতে। " এই শুনে গেদু বলছে,'চুপ এক্কেবারে চুপ।এটা মানুষের ঘর না! এটা আল্লাহর ঘর! আল্লায় শুনে ফেলবে। " রোজাদার বলছে,'" ও আল্লায়তো তাঁর ঘর ছাড়া আর কোথাও কারা কি করছে বুঝতে পারেনা! বেআক্কেল কোথাকার!" গেদু বলছে," দেশে ছলে বলে কলে কৌশলে কিছু নও মুসলিম বানাইয়া ফেলামু! যেহানে যা হইবো সব অগো মাথায় থুমু! জানো একজন নও মুসলিম বানাইতে পারলে কত্ত ছওয়াব! হেইয়া করতে যাইয়াইতো আর রোজা-নামাজের দিকে মন লাগাইতে পারিনা! " রোজাদার বলছে, "জানো জোড় করে নও মুসলিম বানানো শরীয়া বিরুদ্ধ! তাতে পুণ্যতো হয়ইনা বরং পাপে ডোবতে হয়! নিয়ম হলো তুমি খাদেম হয়ে দাওয়াত দেবা। তাতে কেউ অনুরক্ত হলে তোমার ধর্মে গ্রহণ করবা। আসলে এইসব কথা বলে নিজের দোষগুলো আড়াল করার চেষ্টা চালাও। নামাজ পড়োনা,রোজা রাখোনা, যাকাত ফিতরা দাওনা। হজ্ব করতেতো যাবাইনা! তাইলে টাকা কমে যাবে। বলি টাকা ধন-দৌলত নিয়া কী কবরে যাওয়া যাইবে। এখনো সময় আছে ভাল হও। নবীজীর বাণীগুলা আমল কইরো! পরমতসহিষ্ণুতা যাঁকে মানুষ হয়েও দুর্লভ,আমাদের অতি আপনজন হয়েও স্মরণীয়,বরণীয় করে মহান করেছে। মিলাদতো জীবনেও পড়নাই। তাহলে নবী রাসূল সম্পর্কে ধারণা আসবে কিভাবে! ' গেদু বলছে," অনেক পেচাল ছাড়লেন। আরে ক'জন আছেন খাঁটি বান্দা-যাঁরা একশ ভাগ সৎ আর সতী! এটা ভেবে দেখেছেন একবারও। আরে সব ধর্মে ঘুণ ঢোকছে! সবার যে দশা হবে মোরও এক দশা হবে। মোর জন্যতো আল্লায় ভিন্ন আইন পয়দা দেয়নাই! " রোজাদারবৃন্দের প্রতি জনৈক একজনে বলছে, " বোকা যে তারে বোঝানো যায়! আর যে বুদ্ধিমান বোকা তাকে বোঝানো যায়না! " গেদু বলছে, "এই যে আপনে সবারে জানালেন এটাও আল্লায় বলে দিয়েছে! " এবারে ইমাম বলছেন,"দেখুন সবার ওপরে মানুষ সত্য তার ওপরে নাই। নবীজীর আদর্শ পরমত সহিষ্ণুতা! আমরা আমাদের ধর্মের প্রতি সুগভীর আস্থা রাখব। একত্ববাদে বিশ্বাস করবো। নামাজ,রোজা,হজ্ব,যাকাত ফিতরা এই পঞ্চ সোপান মেনে চলবো। কোন ধর্মের প্রতি বৈরিতা নয় বরং সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রাখব। মনে রাখতে হবে ধর্মকে একটি গাছের সাথে তুলনা করা যাবে। গাছে যেমন অনেক শাখা মূল অভিন্ন। মানব সমাজ লক্ষ্য করুন প্রভেদ মাত্র আকৃতিতে। নর আর নারীর ব্যবধান! হিংসা দ্বেষ হ্রেষ কখনো ধর্মের অনুসরণীয় পদ্ধতি হতে পারেনা। আজ পবিত্র ঈদ ইসলামের প্রধান উৎসব! উৎসব যেমন আমাদের ঠিক তেমনি আনন্দটা সকলের। আর একটা কথা শুনুন সকলে মসজিদ,মন্দির,গীর্জা প্যাগোটা এসব উন্নত মানব সভ্যতার বাহন। এগুলো কখনো বিদ্বেষের জায়গা না। এসবে কারোর কাছে কিছু চায়না। অযথাই আমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি। এবারে যান সকল ধর্মের মহা মিলনের মাধ্যমে ঈদ উৎসব পালন করুন। সৃষ্টি রহস্যের প্রতি আমরা বিনম্র শ্রদ্ধা রাখুন। তবেই আসবে স্বস্তি,শান্তি ও প্রগতি। মানব উদ্যান হবে ম্যাগনাকার্টা! " এবারে গেদু বলছে," আজ মসজিদে না আসলে জ্ঞানচোখ খুলতোনা। পাপী হয়েই চলে যেতাম। তওবা করছি আর পাপ করবনা। 'পাপে বিরত হও ' এই স্লোগান নিয়ে খাঁটি ধার্মিক হয়ে যাব। " ইমাম বললেন,"তথাস্তু! মানে তাই যেন হয়! "

কপিসংরক্ষিত
########################
উপজীব্য ঃ ধর্ম প্রতিটি মানুষের নিজস্ব আচরণিক চিন্তা ও পালন বিষয়। এতে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করা কোন ধর্মেই সমর্থন করেনা। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সকলকে মানব ধর্মে উঠতে হবে। মানবীয় মূল্যবোধ দিয়ে নিজকে অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও পরিশুদ্ধ করতে হবে। তবেই মানব জাতি সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে এক সুন্দর আবাস ভূমি দেখতে পাবে। বৈরিতা নয় সহমর্মিতা এই মুগ্ধ মন্ত্রে উজ্জিবিত হতে হবে।
##########################
আমার পক্ষ থেকে ইসলামী বিশ্বের প্রতি পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। ঈদ বয়ে নিয়ে আসুক সহনশীলতা ঔদার্য মহান স্রষ্টার কাছে এ প্রার্থনা রাখলাম। সকলে আমার আদাপ গ্রহণ করুন।
########################

May 24, 20
0
0
Chaitali Das majumder

Chaitali Das majumder

Star Point: 4.11 of 5.00

গল্প

ভ্রান্ত উপলব্ধি


অন্ধকার রাত। চারিদিকে শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। সেদিন বাড়িতে কেউ ছিল না। মৃণালিনীর স্বামী বাইরে থাকেন ।মৃণালিনী তার ছেলেকে নিয়ে একলাই বাড়িতে থাকেন। সেদিন তার ছেলে গিয়েছিল একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ।তখন প্রায় মধ্যরাত হবে মৃণালিনীর ছেলে তখনও বাড়িতে ঢোকেনি। সে শোবার ঘরে একলাই শুয়ে ছিল। ঘড়িতে তখন বোধহয় দুটো হবে মৃণালিনী ঘুমে অর্ধমগ্ন ছিল। হঠাৎই বাড়ির পিছন দিক দিয়ে যেন মনে হলো কারা হেঁটে চলে যাচ্ছে। প্রথমটা মৃণালিনী ভীষণ ভয় পেয়ে গেছিল। ভয়েতে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল কিন্তু মনে সাহস নিয়ে সে পর্দা সরিয়ে নিচের রাস্তার দিকে দেখতে থাকে, দেখে কারা যেন গটমট করে হেঁটে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে স্পষ্ট কিছুই বুঝতে পারছিল না। তার কেবলই মনে হচ্ছিল যেন একদল ডাকাত সেখান দিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছে। মৃণালিনীর ভয়ে হাত পা থর থর করে কাঁপতে লাগলো, ভাবতে লাগলো তাহলে কি ডাকাত গুলো তাদের বাড়িতেই আসবে ?এই সব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে দেখল পায়ের শব্দ টা ক্রমশ এগিয়ে চলে যাচ্ছে। মৃণালিনী ও তখন মনে সাহস নিয়ে তিনতলায় গিয়ে ঠাকুর ঘর থেকে দেখতে লাগল তারা কোথায় যাচ্ছে। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারল না। খালি মনে হল একদল মানুষ এগিয়ে চলে গেল। যাইহোক মৃণালিনী তিন তলা থেকে নেমে তার শোবার ঘরে ঢুকলো। তার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ফোনে রিং বাজলো। মৃণালিনী ছেলে কোথাও গেলে বাড়ির গেটে ঢোকার সময় মৃণালিনীকে ফোন করে।
মৃণালিনী বুঝে গেলো তার ছেলে এসে গেছে। সে তখন গিয়ে সদর দরজা খুলে দিল। ছেলে ভেতরে আসতে না আসতেই মৃণালিনী তাকে হাত পা ধোবার দেবার সুযোগ দিল না, বলে উঠলো হ্যাঁ রে তুই এলি একদল ডাকাত গেল তুই দেখতে পাসনি? তোকে কিছু করেনি তো? ছেলে তো মায়ের কথা শুনে অবাক হয়ে মুখের দিকে চেয়ে রইল ,বলল ডাকাত!
মৃণালিনী তখন সব ঘটনা ছেলেকে খুলে বলল। ছেলে তো শুনে হাসতে হাসতে পাগল। মৃনালিনী খুব রেগে গেল। বিরক্ত হয়ে বলল হাসছিস কেন হাসার কি কারণ হলো?
তার ছেলে তখন বলল আমি যখন আসছিলাম ওই মোড়েতে পাঁচ ছয় খানা গরু আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। ওই গরুগুলোকে তুমি ভেবেছ ডাকাত।
মা ও ছেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে দুজনে মিলে তখন হাসতে লাগল।

Apr 24, 20
0
1
Masud Rana

মুহাম্মদ মাসুদ

Star Point: 4.67 of 5.00

গল্প

হুমায়ূন হিমু


পেছনের গল্পঃ সর্বপ্রথম ২০১২ সালে একটি কবিতা লিখেছিলাম। প্রথম কবিতাটি খুব বেশি ভালো ছিলো বলে আমার মনে হয় না। তবুও কেন যেন সেই ভুলে ভরা কবিতাটি ‘মুসফিকা স্মৃতি পাঠাগার’ আয়োজিত মেঠোপথ ম্যাগাজিনে প্রকাশ পায়। তখন অবশ্য প্রকাশ পাওয়ার আনন্দ কেমন হয় সে বিষয়েও বোধগম্য ছিলো না।
২০১২ সালের পর থেকে উপন্যাস জগতে ঢুঁ মা-রা। তখন থেকেই উপন্যাস, গল্পের বইয়ের প্রতি আলাদা একটা টান, সম্পর্ক এসে মনের অলিগলির চিপায় চাপায় বীজ বুনতে শুরু করে।
শুরু থেকেই হুমায়ূন আহমেদ স্যারের উপন্যাস দেহ জগতের ভিটেমাটিতে বসবাস করতে শুরু করে। যতই পড়তে থাকি ততই প্রেমে পড়ে যায়। আসলে, হুমায়ূন আহমেদ স্যারের লেখায় আলাদা একটি আত্মা আছে। যে আত্মার পিঠে ভর করে নিমিষেই উপন্যাসের গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো সম্ভব।
২০১৭ সালে কর্মজীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর সাথে সাথে কবিতা, অণুগল্প, গল্প লিখতে শুরু করি। দুই একটি কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ম্যাগাজিনসহ পত্রিকার পাতায়ও জায়গা করে নেয়।
হুমায়ূন আহমেদ স্যারের লেখায় ভক্ত এবং আমার লেখা প্রকাশ পাওয়ার আনন্দে উৎসাহ পাই। এবং বারবার মনে হতো, ইস্! আমার নামে যদি একটি বই থাকতো।
অবশেষে ২০১৯ সালের শেষের দিকে বই প্রকাশের উদ্যোগটা নিজে থেকেই নিয়েই ফেলি। যেহেতু আমি হুমায়ূন আহমেদ স্যারের চরম ভক্ত। সেহেতু তাঁর রচিত, জনপ্রিয় চরিত্র ‘হিমু’ নামটি নিয়েই গল্প লিখতে শুরু করা।
তারপর…। অবশেষে হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে “হুমায়ূন হিমু” গল্পগ্রন্থ আমার স্বনামে।

বইয়ের গল্পঃ প্রত্যেকটি মানুষের মনের চিলেকোঠায় লুকানো কিছু জানা অজানা গল্প থাকে। সে গল্পে নায়ক থাকে নায়িকা থাকে। থাকে কিছু হৃদয় পোড়া আর্তনাদ কিংবা হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার গপ্পো।
আবার প্রত্যেকটি মানুষের মন পাড়ায় চলনবিলে কিছু চরিত্র থাকে। যাকে ভেবে ভেবে মিষ্টি মিষ্টি হেসে দিনরাত পার করা যায়। আবার ভেবে ভেবে ক্লান্ত পথিকের বেশে চোখ বেয়ে বেয়ে অশ্রু ভ্রমর ভিজিয়ে দিয়ে যায়। তবুও মানুষ গল্প আর চরিত্রের দীর্ঘশ্বাসে দীর্ঘকাল রাজপুত্রের মতো বাঁচতে চায়। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমি নিজেও ‘হিমু’ নামের সাথে যুক্ত হয়ে বাঁচতে চাই।

হুমায়ূন হিমু
ধরনঃ গল্পগ্রন্থ
লেখকঃ নৃ মাসুদ রানা
প্রচ্ছদঃ নবী হোসেন
প্রকাশনীঃ এক রঙ্গা এক ঘুড়ি
স্টল নং – ৫৮৭
একুশে বইমেলা ২০২০।

আশাকরি বইটি সকলেই সংগ্রহ করবেন।

Jan 23, 20
1169
0
0
0
Date and Time
Notices
Categories
অণু ভৌতিক গল্প - Molecular Horror Story (28)
অনু কবিতা - Anukobita (369)
অনু-গল্প - Anu-Golpo (23)
অনুকাব্য - Anukabbo (9)
অনুবাদ সাহিত্য - Translation Literature (0)
আধুনিক কবিতা - Modern poetry (145)
আমার ডায়েরি - My Diary (13)
ইসলামী গজল - Islamic Ghazals (5)
ইসলামী গল্প - Islamic Story (1)
উপন্যাস - Novel (183)
এসো পাশে দাঁড়াই - Let's stand by (1)
কথোপকথন - Conversation (4)
কবিতা - Poem (6334)
কাব্য চিঠি - Poetry letter (22)
কৌতুক গল্প - Story of Joke (1)
খোলা ভাবনা - Open Thinking (40)
গদ্য কবিতা - Prose poetry (207)
গবেষণামূলক সাহিত্য - Dissertation literature (4)
গল্প - Story (147)
গীতি কবিতা - Lyric Poetry (98)
গ্রন্থ আলোচনা - Book discussion (9)
চতুর্দশপদী কবিতা - Sonnet poetry (27)
ছন্দের কবিতা - Rhyme Poetry (60)
ছোটগল্প - Short Story (54)
ছোটদের গল্প - Children's Story (8)
ছড়া - Rhyme (172)
জীবনী - Biography (15)
নাটক - Drama (1)
পঞ্চতন্ত্রের গল্প - Panchatantra’s Story (0)
পদ্য কবিতা - Verse poems (77)
প্রচলিত কাহিনী - Common myths (0)
প্রবন্ধ - Essay (39)
ব্যঙ্গাত্মক কবিতা - Satire Poetry (1)
ভৌতিক-গল্প - Horror Stories (2)
ভ্রমণ কাহিনী - Travel Story (1)
রূপকথার গল্প - Fairy tale (0)
লিমেরিক কবিতা - Limerick poems (29)
শিশুতোষ ছড়া - Childish rhyme (3)
হাইকু কবিতা - Haiku Poem (7)
New Members
Video Gallery
Visitors Statistics
Online
Members 0
Guests 1
Visitors Counter
Total 429548
Today 27
Yesterday 454
This Week 2095
This Month 12488
Top 10 countries of this month
United States 11317
France 975
Ireland 61
India 28
Germany 1
Copyright © 2017-2020 kobikotha.com. All rights reserved.
Power by: WanaApps
Advertisement Members Faq Terms and Condition