Popular Posts
  • মৃণাল কান্তি রায়

    AR 0.00 of 5.0
    AT কবির বাসভূমি
    Category কবিতা
  • Sujit Chatterjee

    AR 0.00 of 5.0
    AT সুখের লাগি
    Category গল্প
  • Apurba Ray

    AR 0.00 of 5.0
    AT মেরুদণ্ডহীন কবি শিল্পী!
    Category প্রবন্ধ
  • Sukanta pal

    AR 0.00 of 5.0
    AT একমুঠো রোদদুর
    Category গীতি কবিতা
  • মৃণাল কান্তি রায়

    AR 0.00 of 5.0
    AT অমানুষ
    Category ছোটগল্প
  • MD RayhanKazi

    AR 0.00 of 5.0
    AT নীলাদ্রি
    Category আধুনিক কবিতা
  • Apurba Ray

    AR 0.00 of 5.0
    AT ঐ পাখি
    Category অনু কবিতা
  • হারুনুর রশীদ

    AR 0.00 of 5.0
    AT বিচার হবে
    Category হাইকু কবিতা
  • Apurba Ray

    AR 0.00 of 5.0
    AT অদৃশ্য পাত্র পাত্রী ও সংলাপ
    Category নাটক
  • Apurba Ray

    AR 0.00 of 5.0
    AT উপলক্ষ মাত্র
    Category অণু ভৌতিক গল্প
  • মৃণাল কান্তি রায়

    AR 0.00 of 5.0
    AT বিরচনঃ ভাব-সম্প্রসারণ
    Category বিরচন
  • Sujit Chatterjee

    AR 0.00 of 5.0
    AT চামচিকে
    Category রম্যরচনা
E-books
Best Writer
  • 1
    1

    Apurba Ray

    5.00
  • 5
    2

    Nikhil Ranjan Sen

    4.60
  • 2
    3

    Sukanta pal

    4.50
  • 6
    4

    মৃণাল কান্তি রায়

    4.33
  • 3
    5

    Shibani Bagchi

    4.33
Notice
সুখবর...... সুখবর...... আপনি কি গল্প, কবিতা, ছড়া, উপন্যাস ইত্যাদি লিখছেন? কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারছেন না বা কোন মাধ্যম খুজে পাচ্ছেন না? তবে আর কোন চিন্তার কারন নাই। সামান্য শর্ত সাপেক্ষে কবিকথা প্রকাশনী প্রকাশ করবে আপনার কাঙ্খিত গ্রন্থটি। তাই এখনি যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে ফেসবুকঃ https://web.facebook.com/kobikotha365 ইমেইলেঃ kobikotha24@gmail.com । কবিকথা ডট কম এর পক্ষথেকে সবাই কে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। কবিকথা ডট কম এর ২য় ভার্সনের কাজ চলতেছে, তাই সাময়ীক কোন অসুবিধা হলে আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। সাহিত্য চর্চায় অন্যকে আগ্রহী করি এবং নিজে বেশি বেশি পোষ্ট করি। ধন্যবাদ                    
Recent Post
তুমি জাগলেই ⸻  Harunur Rashid  হারুনুর রশীদ
পাঁচমিশালী মন প্রবণতা  ⸻  মৃণাল কান্তি রায়  মৃণাল কান্তি রায়
ঢেউ ⸻  Nikhil Ranjan Sen  Nikhil Ranjan Sen
চামচিকে  ⸻  Sujit Chatterjee  Sujit Chatterjee
ফুলদানি ⸻  Sujit Chatterjee  Sujit Chatterjee
পাগল ⸻  shemun Bangali  shemun Bangali
লুকোচুরি খেলা  ⸻  MD RayhanKazi  MD RayhanKazi
Shibani Bagchi

Shibani Bagchi

Star Point: 4.09 of 5.00

কবিতা

আমরা বুঝেও বুঝিনা

আকাশে মাঁয়ের আগমনী গান
বিশ্বে ছেয়ে গেছে মরণ ত্রাশ।
মাস্কহীন মুখে তুমি বাজাবে শঙ্খ
করোনা করবে যে সহসা গ্রাস?
হবে মাঁয়ের বোধন ঢাকের তালে
নাচবে বাঙালী ও বাঙলা।
চলবে আড্ডা দিবা রাত্রি
জীবানুতে ভরে যাবে যে গলা?
নিঃশ্বাসে আজ বিষের ছোবল
শুনি চারিদিকে হাহা রব।
এমন আড়ম্বরে পূজোর হৈ চৈ
কপালে আছে আরো দুর্ভোগ!
সচেতনা মেনে করবে কি পুজো
মানবে না কি কোন মানা?
দেবেনা জবাব,প্রয়োজন নেই?
আগামীর মৃত‍্যুর পরোয়ানা!
ঘরে ঘরে আজ ব‍্যর্থ জীবন
শুধু খাবারের খোঁজ করে।
অকাতরে যারা পড়ছে লুটিয়ে
বুকফাটা আর্তের চিৎকারে।
এদের কেন দাওনা বিলিয়ে
মজুদ সংগ্রহে যতো আছে চাঁদা?
মন্ডপে শুধু ধূপ ধুনো পূজো
দাওনা অভাগাদের পরিসেবা?

Oct 19, 2020
96
0
0
0
Kazi Zuberi Mostak

Kazi Zuberi Mostak

Star Point: 4.14 of 5.00

কবিতা

সঙ্গাহীন ভালোবাসা

আমি তোমার চোখের মতবাদ না বুঝে তোমাকে ভালোবেসেছি , 
প্রতি মূহুর্তে আমি শুধু তোমাকে হৃদপিন্ডে ধারন
করে চলেছি ।
এখনো হৃদয় জুড়ে আছে জ্বলন্ত আকাঙ্ক্ষা আর প্রত্যাশা , 
তুমিই আমার প্রিয় রঙ প্রিয় সাদ আরও আত্মিক ভালোবাসা ।
ভালোবাসা সেতো ঐশ্বরিক যার কোন সঙ্গা নেই 
এই পৃথিবীতে , 
আবেগময় হৃদয় তরঙ্গ নিয়েই ভালোবাসা বেঁচে 
থাকে আত্মাতে । 
ভালোবাসার শক্তি অসীম এর সৌন্দর্যের উপরে কিছুই নেই , 
ভালোবাসাও দখল হওয়া ফুটপাতের মতো বসে থাকে হৃদয়েই । 

Oct 18, 2020
138
0
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.55 of 5.00

কবিতা

লক্ষ চূত

সংসার আলোর স্বপ্নে এক দুঃসময়ে আশ্রয় ছেড়ে নেমেছিল পথে

এ পথ এ আলো আছে জড়াজড়ি করে

পাশাপাশি পায়ে পায়ে পৌয়ছে যাই মৃত অন্ধকারে 

অনেক আশা নিয়ে  

কিন্তু পৌছানো  হয়নি 

ভালোবেসে পৌছেয়ে যাই মৃত অন্ধকারে ।

পৌছানো হয়নি 

যেখানের উদ্দেশ্যে পথে নেমেছিলাম 

Oct 18, 2020
131
0
0
0
কবিতা-Poem
তুমি জাগলেই ⸻  Harunur Rashid  হারুনুর রশীদ
পাঁচমিশালী মন প্রবণতা  ⸻  মৃণাল কান্তি রায়  মৃণাল কান্তি রায়
ঢেউ ⸻  Nikhil Ranjan Sen  Nikhil Ranjan Sen
পাগল ⸻  shemun Bangali  shemun Bangali
অন্তিম যাত্রা ⸻  Poran Majhi  Poran Majhi
ভোরের ডাক ⸻  মৃণাল কান্তি রায়  মৃণাল কান্তি রায়
কবিত্ব শক্তি ⸻  মৃণাল কান্তি রায়  মৃণাল কান্তি রায়
Shibani Bagchi

Shibani Bagchi

Star Point: 4.09 of 5.00

কবিতা

আমরা বুঝেও বুঝিনা

আকাশে মাঁয়ের আগমনী গান
বিশ্বে ছেয়ে গেছে মরণ ত্রাশ।
মাস্কহীন মুখে তুমি বাজাবে শঙ্খ
করোনা করবে যে সহসা গ্রাস?
হবে মাঁয়ের বোধন ঢাকের তালে
নাচবে বাঙালী ও বাঙলা।
চলবে আড্ডা দিবা রাত্রি
জীবানুতে ভরে যাবে যে গলা?
নিঃশ্বাসে আজ বিষের ছোবল
শুনি চারিদিকে হাহা রব।
এমন আড়ম্বরে পূজোর হৈ চৈ
কপালে আছে আরো দুর্ভোগ!
সচেতনা মেনে করবে কি পুজো
মানবে না কি কোন মানা?
দেবেনা জবাব,প্রয়োজন নেই?
আগামীর মৃত‍্যুর পরোয়ানা!
ঘরে ঘরে আজ ব‍্যর্থ জীবন
শুধু খাবারের খোঁজ করে।
অকাতরে যারা পড়ছে লুটিয়ে
বুকফাটা আর্তের চিৎকারে।
এদের কেন দাওনা বিলিয়ে
মজুদ সংগ্রহে যতো আছে চাঁদা?
মন্ডপে শুধু ধূপ ধুনো পূজো
দাওনা অভাগাদের পরিসেবা?

Oct 19, 20
96
0
0
0
Kazi Zuberi Mostak

Kazi Zuberi Mostak

Star Point: 4.14 of 5.00

কবিতা

সঙ্গাহীন ভালোবাসা

আমি তোমার চোখের মতবাদ না বুঝে তোমাকে ভালোবেসেছি , 
প্রতি মূহুর্তে আমি শুধু তোমাকে হৃদপিন্ডে ধারন
করে চলেছি ।
এখনো হৃদয় জুড়ে আছে জ্বলন্ত আকাঙ্ক্ষা আর প্রত্যাশা , 
তুমিই আমার প্রিয় রঙ প্রিয় সাদ আরও আত্মিক ভালোবাসা ।
ভালোবাসা সেতো ঐশ্বরিক যার কোন সঙ্গা নেই 
এই পৃথিবীতে , 
আবেগময় হৃদয় তরঙ্গ নিয়েই ভালোবাসা বেঁচে 
থাকে আত্মাতে । 
ভালোবাসার শক্তি অসীম এর সৌন্দর্যের উপরে কিছুই নেই , 
ভালোবাসাও দখল হওয়া ফুটপাতের মতো বসে থাকে হৃদয়েই । 

Oct 18, 20
138
0
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.55 of 5.00

কবিতা

লক্ষ চূত

সংসার আলোর স্বপ্নে এক দুঃসময়ে আশ্রয় ছেড়ে নেমেছিল পথে

এ পথ এ আলো আছে জড়াজড়ি করে

পাশাপাশি পায়ে পায়ে পৌয়ছে যাই মৃত অন্ধকারে 

অনেক আশা নিয়ে  

কিন্তু পৌছানো  হয়নি 

ভালোবেসে পৌছেয়ে যাই মৃত অন্ধকারে ।

পৌছানো হয়নি 

যেখানের উদ্দেশ্যে পথে নেমেছিলাম 

Oct 18, 20
131
0
0
0
Harunur Rashid

হারুনুর রশীদ

Star Point: 4.00 of 5.00

কবিতা

তুমি জাগলেই

বাংলায় চলছে ধর্ষণ বর্ষণ
চলছে সর্বস্তরে স্বপ্ন শোষণ।
ঝরে যাচ্ছে নিরিহ প্রাণ
দেখছি চেয়ে রুখছিনা অপমান।
তবে কি আমরা রক্তহীন?
হয়েছি বাংলার বেইমান সন্তান।
আমরা কি হারিয়েছি সব?
যা ছিল আমাদের বহমান।
হে কবি! আর একটিবার
তোমারি জাগার বড় দরকার।
তুমি জাগলেই জাগবে বিশ্ব
বহিবে রক্তধারা হবে নিঃস্ব।
তাই তোমাকেই জাগতে হবে
জাগাতে হবে রুখতে হবে।
 

Oct 18, 20
147
0
0
0
মৃণাল কান্তি রায়

মৃণাল কান্তি রায়

Star Point: 4.32 of 5.00

কবিতা

পাঁচমিশালী মন প্রবণতা

পাশাপাশি সুখ-দুঃখ                  বসত করে জীবপক্ষ

মানুষ যাদেরকে বল,

একই ধরণের গড়ন                  কায়াতে নর-নারী কথন

সবার মান দেখবে যদি চল।

এই অবনীর পরে                    সুখে-দুঃখে বসত করে

কত কোটি পরিবার প্রাণ,

কারোর আছে ধাঁধানো                বাড়ি কারোর ভিত নড়বড়ি

সুখে- দুঃখের বড়ই প্রমাণ।

কারোর আছে বাস্তব শিক্ষা            দিতেছেন কাজের দীক্ষা

রাখিতেছেন যুগ অবদান,

কারোর আবার নাই শিক্ষা             না পারে দিতে দীক্ষা

অপর কোন কাজে রাখে মান।

আবার ওই দেখবে চল               নিতান্ত অলস বল

কাজে নাই কোন মতি,

দুর্গতি বাড়িয়ে রাখে                 কষ্ট- দুঃখে বেশি থাকে

দেখ ঘুরে এই জনবসতি।

ভিখারী ওই দেখতে পাও             স্বভাব যদি জানতে চাও

বিনা পুঁজির রয়েছে ব্যাপার,

আসল- নকল বোঝা ভার             দুরন্ত চালাক প্রথার

সাজানো রকমারী প্রকার।

ধনী- গরীব সবাই বলে               কারা আসল কারা নকলে

ক্ষেত্রবিশেষে বোঝা বড় দায়,

পরিবারের আয়ের ব্যাপার            আসল-নকল ব্যাপার

কিবা ভাবে বুঝিবেক আয়!

দেখ কত বেতনভোগী                কত সুখ কত দামী

দেখ আবার সাধারণ মান,

আয় বুঝে ব্যয় কর                  সময়ের নীতি ধর

সেবা কাজে রাখে মন প্রাণ।

শিল্পপতি দেখ এবার                টাকার স্তম্ভ ব্যাপার

সুখ যাদের ধরার মাঝে,

ব্যবসায়ে দেখ কত                           গুণ মানে রূপ যত

আপন আপন সব কাজে।

এই দুনিয়ার ভাবশক্তি                প্রেরণাতে মহাযুক্তি

নিমিষেই জ্ঞান লাগান কাজে,

ভাল কাজে ভাল মান                 রয়েছে অজস্র প্রমাণ

দেখে নাও এ দুনিয়া মাঝে!

খারাপ কাজ দেখ এবার              রয়েছে দুনিয়া মাঝার

তেমন কাজে দিওনা আর সায়,

বুঝিয়ে পথে আনো                           কথাটা মনেই মানো

বলবে ফিরে আস নব চেতনায়।

মানব জীবন এমন প্রথা               পাঁচমিশালী মন প্রবণতা

ফলাফলে সুখ- দুঃখের লড়াই,

সুখ বলে দুঃখ খারাপ                দুঃখ বলে পাবিনা মাপ

এই নিয়েই করি মোরা বড়াই।

আসলে ধরেছে পাপে                 মহাস্রষ্টার অভিশাপে

কপাল মন্দ পরে আপদে,

বোঝ বোঝ বিশ্ববাসী                 কথাগুলো নয় বাসি

করোনা আজ ফেলেছে বিপদে।

মাক্স পরার আদেশপত্র               স্বাস্থ্যকথার রূপগাত্র

কোথায় আজ মানুষ পৌঁছেছে,

শঙ্কায় প্রহর গোণা                   কার প্রাণ কখন ঘোনা

সোয়া হাত- সাড়ে তিন বলছে!

পাঁচমিশালী কথাবার্তা                 সকলে ভাবে সবাই কর্তা

দিনকাল যেভাবে পরেছে,

সকলে হও সাবধান                  রাখ সবে অবদান

সেবাদানে মন যাদের রয়েছে।

এবারেতে করি সাঙ্গ                  পয়ার ছন্দের অঙ্গ

পাঁচমিশালী মনের পাঁচালী,

স্রষ্টাকে করি প্রণাম                   নিব সবে ইস্ট নাম

ঘরে ঘরে হবে দীপ্তির দীপালি!

Copyright protected by Mrinal Kanti Roy [Born: The 6th on May,1958]

 

Oct 18, 20
171
0
0
0
Nikhil Ranjan Sen

Nikhil Ranjan Sen

Star Point: 4.07 of 5.00

কবিতা

ঢেউ

কবিতা 
ঢেউ 
নিখিলরঞ্জন সেন
============

সাগরতীরে আমি বসে বসে গুনে চলি ঢেউ।
ঢেউ আসে 
ঢেউ যায়
কালের বুকে ছাপ রেখে যায় 
                       ক্ষণস্থায়ী।

ঢেউয়ের মাথায় শুধু হাসির ফোয়ারা
গভীরে পদচিহ্ন তার।
বারে বারে আসে ঢেউ-নিত্যনতুন
পূর্বের চিহ্ন সব মুছে গিয়ে 
                        ছাপ রাখে বর্তমান ঢেউ 
এ যেন ক্ষমতা-দখল পলে পলে।

তবু তারিমাঝে ঢেউ কোনো বিশালতায় উচ্চতম
                        নিয়ে গভীরতম পদচিহ্ন তার
                        রেখে গেছে উজ্জ্বল রত্নরাশি যত!

সে আলোক লক্ষ করে মত্ত আবেগে চিত্ত আমার
                         ডুব দেয় অন্তর-গভীরে 
                         রত্নের সন্ধানে।
সেই পদচিহ্ন ধরে হাঁটি পাতালের পথে পথে।
আমাকে লক্ষ রাখে রাতের তারারা
                         পাতালের আকাশে।

রজনির সীমানায় পৌঁছাতে হবে 
                          নবসূর্যোদয়ের প্রভাতে।
ঢেউয়ের মাথায় অট্টহাসি জাগে 
                          রেডিয়াম উজ্জ্বলতায়
পাতালপুরীর রত্নের সন্ধানে
                           ছুটে চলি নির্দিষ্ট পথনির্দেশে।

আমাকে ঘিরে ধরে প্রশ্ন-প্রশ্নাতীত
ঝুলে থাকে সপ্তর্ষিমণ্ডলের জিজ্ঞাসায়!...

Copyright : Nikhil Ranjan Sen : 18102020

Oct 18, 20
161
0
0
0
অনু কবিতা-Anukobita
ঠাকানো ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
অগ্নিকন্যা ⸻  Sonali Das Srkar  Sonali Das Srkar
আশ্বাস দিলে ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
সুখবর ⸻  Sonali Das Srkar  Sonali Das Srkar
ইচ্ছে  ⸻  বুলবুল আহমেদ  বুলবুল আহমেদ
আলোক রেখা  ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
শুধু শাদা মানুষের জন্য  ⸻  Apurban Ray  Apurba Ray
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.55 of 5.00

অনু কবিতা

দিন বদলের আশায়

মাথার উপর চালা নেই 

পেটে ভাত নেই  

চোখে আলো নেই 

মা মাটি মানুষের স্বপ্ন স্বর্গে সব স্বপ্ন চুরি হয়ে গেছে 

আশার কঙ্কাল ঝুলে আছে গলায় ফাঁস লাগিয়ে 

আত্মহত্যা  না হত্যা!

চ্যানেলের টি আর পি বাড়ে 

রাজার দালাল কাঁদা ছিটায় একে অন্যের ঘাড়ে 

তবু ও স্বপ্ন তবুও শ্বাস 

তবু ও বুক আশা বাঁধে দিন বদলের ।

Oct 16, 20
192
0
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.55 of 5.00

অনু কবিতা

স্বপ্ন রেখেছি

সমস্ত স্বপ্ন গোলাভরে রেখেছি তোর জন্য

এই পীড়িত নবান্নে 

নিজে অভুক্ত থেকে!

এ নবান্নের পর এসো 

সমস্ত স্বপ্ন তুলে রেখেছি পাঁজর ধুঁয়ে ধুঁয়ে 

এ নবান্ন বিদায় নিলে এসো।

Oct 16, 20
187
0
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.55 of 5.00

অনু কবিতা

ঐ পাখি

একটা পাখি এসে বসে মনের উঠনে

খুঁটে খুঁটে খায় সুখ গুলো

তারপর দে ছুট ,

নতুন উঠোন নতুন সুখ !

তুমিও ঠিক ঐ পাখিটার মতো 

Oct 16, 20
197
0
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.55 of 5.00

অনু কবিতা

ঠাকানো

রঙ করা তোর মুখ 

ছলনা ছিল 

বহু মানুষের ভীড়ে আমি সে ছলনাটা বুঝতে পারি নি 

নিজেকে ঠকিয়েছি তোর নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ।

Oct 10, 20
250
0
0
0
Sonali Das Srkar

Sonali Das Srkar

Star Point: 3.83 of 5.00

অনু কবিতা

অগ্নিকন্যা

জ্বলন্ত শিখাকে কুর্ণিশ জানাই
তুমি ঠিক অঙ্গের অঙ্গার রূপ নাও
ভাগ্যিস ক্ষতবিক্ষতকে জ্বালিয়ে শান্ত করে দাও
না হলে রক্ষে থাকতো না অত্যাচারীকে নির্বংশে ভস্ম হতে দেখায়।

Oct 04, 20
626
0
0
0
Apurban Ray

Apurba Ray

Star Point: 4.55 of 5.00

অনু কবিতা

আশ্বাস দিলে

সেই গভীরে তো আমি যাইনি 

উপরের শ্যাওলা জলে শুধু সাঁতার কেঁটেছি 

কি এক অদ্ভুত ক্ষিদে নিয়ে 

তুমি আশ্বাস দিলে আমি ডুব দিতে পারে 

ঐ অতল গহ্বরে ..

Sep 29, 20
383
0
0
0
গদ্য কবিতা-Prose poetry
এক সূর্য নতুন ভোর ⸻  Shibani Bagchi  Shibani Bagchi
ধূসরিত স্বপ্ন ⸻  বনফুল,  পঙ্কজ প্রামাণিক
মুক্তি পেতে ⸻  Shibani Bagchi  Shibani Bagchi
ললাট লিখন ⸻  Shibani Bagchi  Shibani Bagchi
রক্তের লাল রঙে ⸻  Shibani Bagchi  Shibani Bagchi
তোমার অভাব বড়ই বোধ করে এ শহর ⸻  কবি আশরাফুল  কবি আশরাফুল
ফিরে এসো আর একটি বার ⸻  Chaitali Das majumder  Chaitali Das majumder
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

গদ্য কবিতা

নিথর বসুধা

হে বসুধা! তোমার রূপসী সাজে
আজো মাঝেমাঝে
নানান বৈচিত্র অবাধে বিরাজে;
কখনো সুষমায় মণ্ডিত আলোর ঝংকার
কখনো বা নিস্তব্ধ আঁধার
নগণ্যের অভিপ্সারে প্রতিহত করে
শরতের অভিলাষে
তোমার দিগন্তে শীতল হিমাদ্রিও কখনো হাসে।
তোমার শাশ্বত রূপের ঝলক আজো ফুটে ওঠে
সুমেরুর দুরক্রমা কুটে
উত্তপ্ত বর্বর নৃত্য গবি সাহারায়
সপ্তর্ষির আশির্বাদ আজো দেখি অনন্ত ধারায়।
আজো গভীর অরণ্য তোমার ইশারায় নির্বাক,
তবু কেন অহৈতুক ঘাত প্রতিঘাত;
মানুষের মাঝে কেন এত জাত পাত?
অদম্য প্রগলভতা অদম্য লিপ্সায়
মেতে নিজ প্রতিষ্ঠায়
সার্বভৌম সুন্দরের অমূর্ত উদ্দেশ্যে
সৃষ্টির নিয়ম লঙ্ঘে অক্লেশে
চলেছে সবলের ব্যভিচার,
অবান্তর অলজ্জার ব্যর্থ বিরম্বনা,
গরিব বঞ্চনা,
প্রতুল উল্লাসে কেউ আছে অনির্বেদ ত্রাসে
আবার কেউ বা অট্টহাসি হাসে;
তোমার মাটিতে কেন এমন বিভেদ
কেন করো না নিষেধ!
থাকো মৃতপ্রায়
জানি না তোমার একী অভিপ্রায়।
জানি নেই উত্তর তোমার , তুমি নিথর নীরব
রইবে নিরুত্তর দেখেও এসব।
অনন্ত আকাশ কেন দাও না ভেঙে ওদের মাথায়!
কেন পিষে মারো না দুর্বৃত্ত তোমার এ বসুধায়?
কেন তুমি নিরন্তর,
তুলে দাও নিরাপদ ঘুর্ণাবর্ত ওদের উপর?

Oct 08, 20
344
0
0
0
আশেক এলাহী

আশেক এলাহী

Star Point: 3.95 of 5.00

গদ্য কবিতা

সময় অল্প নয় গল্প যেতে হবে বহু দূর

সুএফা... (সুন্দরবন একতা ফাউন্ডেশন)
সদ্য নির্মিত একটি আদম তরী,
যার নিখুঁত নির্মাণে মিশে আছে একদল চৌকস কারিগরের নান্দনিক হাতের নির্দোষ ছোঁয়া।
সুবিন্যস্ত গঠন শৈলিতে বিমোহিত দরিয়ার দুই কূল।
বিশুদ্ধতার প্যারেকে যুক্ত করেছেন
পাটাতনের প্রতিটি তক্তা।
নুনজলে, চুপিসারে ওঁৎ পাতা, এলোমেলো উৎপল,
তির্যক হিম বায়ুর তীব্র তিরষ্কার আর সলিল-
সমাধির সম্ভাব্য মোকাবেলায় প্রত্যয়ের প্রাচীর অবিকল...
দরিয়ার বেদরদি খেয়ালের খোলা বুকে
বেসামাল ঢেউয়ের পাঁজরা,
উপর্যুপরি বৈঠার আঘাতে করে ঝাঁজরা...
হরদম-চলেছে দুর্দম বেগে-
নব্য নাবিকের দল কার সমীপে?
যেখানে মানবতা তড়পায়,
জানটা ঝুলে থাকে ধড়টায়...
যেখানে জীবন জীবিকার তালাশে
অতিশয় অনিশ্চিত অন্ধকারের তলানিতে
হাতরায় বিপন্ন মানবতা।
হিংসার রোষাণলে বিদগ্ধ সভ্যতার লেবাস...
নষ্ট সংস্কৃতির মিশেলে তিলে তিলে কমে যায়
হৃদয়ের রক্তিম আলো...
ঝিমিয়ে যায় উদ্যমতা,
তলিয়ে যায় সাহসের বৈঠা,
নিস্তেজ হয়ে পড়ে মেধা ও মনন।
ভোতা হয়ে যায় চেতনার ফলা..
আর ভূলুণ্ঠিত হয় সমতার কানুন কলা....
দয়ার দেয়ালে দেখা দেয় রাক্ষসী ফাটল,
কে দেবে সেখানে আশ্বাসের বালুকা আঠাল...?
হে সুএফার নাবিকেরা...!
সাহস আর স্বপ্নের মিশ্রণে--
তৈরী রেখো মানবতার সেবায় নিজেকে,
তোমাদের পরশে লোহা হবে সোনা অবিকল--
বিশ্বাস আর ভরসায় থেকো অবিচল।
আর তাদেরকে বলো--
পর সম্পদে কেন তৃপ্তির ঢেকুর তোলো..?
হে সুএফার সুরকার...!!
তোমাদের ঠোঁটে যেনো ফোটে পূণ্যের বাঁশি
তোমরাই ফুটাবে রুগ্ন শাখায় পুষ্পের হাসি....
এগারো নয় কুড়ি
ধানসাগর..

Sep 11, 20
182
0
0
0
শিবেন চন্দ্র দাস

শিবেন চন্দ্র দাস

Star Point: 3.57 of 5.00

গদ্য কবিতা

বড্ড বেমানান,

ইদানিং আর মর্মার্থ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবি না,
প্রতিনিয়তই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো দেখতে দেখতে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি-
কর্মকে ফাঁকি দেই না, দিয়েই বা লাভ কি,
কার জন্যই বা দেবো, তথাপি যাদের জন্য কাজ করছি তাদের কাছে কতটুকু যেতে পেরেছি?
আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক আছে কি?
মনে হয়-
সম্পর্কগুলো কর্মকেই কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে,
আধ্যাত্মিকতা বলো কিংবা নৈসর্গিক প্রেম বলো সবই বিনিময়ে ছুটছে,
লৌকিকতা বলতে আপেক্ষিক-,
সাধন ভজন জ্ঞানচর্চা পারমার্থিকতা বিহীন পথে
নিষ্কাম কর্মকে ছেড়ে স্বকাম কর্মে আবদ্ধ বলয়ে কর্মকেই ভালোবাসা আপন গতিতে।
প্রকৃতির নির্মল হাওয়ায় কিংবা সবুজাভে নিজেকে হারিয়ে
প্রাণ খোলে নিজের অজান্তে মানুষের সংখ্যা কমছে-
মানুষের কাছ থেকে যখন কিছু আশা করে পাই না, তখন,
তখন ভাবি আমার যোগ্যতা বা দক্ষতা কিংবা শ্রম তার নিকট অগ্রগণ্য হয়নি-
অসহায়ত্বের দিকে তাকাই না,
কেন না ঐ শব্দটিই আমাকে বার বার কষাঘাত করে ঘায়েল করেছে-
ওটাতে কোন প্রেম নেই শুধু চাওয়া আর চাওয়া-
পরিণতিতে নয় পরিণত হতেই বিশ্বাস করি এ হেতু বাক্য ছেড়ে দিয়ে,
আবেগকে বলি দিলাম আবেগেরই কাছে -
বিবেক সেতো আমাকে নিয়ে নিয়মিত পরিহাসে মত্ত -
পরিত্রাণ খোঁজে পথ দেখায় না ভয়ে আগলে থাকে নিজেতে।
এহেন বন্দিদশা জীবনে বিবেক দিয়েই বা কি করবো।
হাসিগুলো ফ্যাকাশে বিবর্ণতার চাপ স্পষ্ট কেন না
অন্তরে নিষ্কর্মাদের ঘাতে জড়জড়িত-তাই ভুলুণ্টিত বিবেক নির্বাসনে থাকাই শ্রেয়!
জীবনের সুবাদে প্রাতুল্যতা আর অপ্রাতুল্যতার সংমিশ্রণে রঙ-তামাশার ছড়াছড়ি প্রবল-
সহাস্যে তারা বলে শশ্মানের নায়ক রাজপুত্র, আমিই পথের রাজা-
সেই মিনমিনে মানুষটিও আজ দাম্ভিককার রাজ্যের বুদ্ধিমান বাদশা।
ভয়ে ভীতস্থতা আসে না, চারপাশের অনাকাংকিত ঘটনায় বিহ্বলতা ছাড়িয়ে গেছে
সাধারণ হতে সাধারণে- বিতাড়িত করলাম হতাশা।
মানুষের রূপে আর প্রকৃতি খোঁজি না, আত্মার সুখও চাই না,
কেন না, পরমাত্মার নিকট নিথর দেহের অসহায়ত্ব নিজেকে ভাবিয়ে যায়-
জীবনকে উপভোগ করতে চেয়েছিলাম, পারিনি, মনে হলো কালের বিবর্তনে আবদ্ধ আছি-
বেরসিক কমরেড কিংবা সমাজ যেন- কাক-লাসের ভূমিকায় মুহ্য-মান।
চিন্তা-সচেতনায় প্রকৃতি আর মানুষে বড্ড বেমানান।

Sep 05, 20
174
2
0
0
Shibani Bagchi

Shibani Bagchi

Star Point: 4.09 of 5.00

গদ্য কবিতা

এক সূর্য নতুন ভোর

ঘুম ভাঙা কোন এক অভিশপ্ত প্রহরে কানাফাটা শব্দে শুনি,
যেন সর্বনাশা আর্তচিৎকারে জ্বালা মুখীর বুকে ঝাপিয়ে পড়েছে কোন জীবন্ত আত্মা!
মাকড়সার জ্বালে আজন্ম আপাদমস্তক জড়িয়ে থেকেও,
সহসা কান খাড়া করে উঠে বসি,
বোকার মতো চেয়ে থাকি ক্ষত বিক্ষত প্রশ্নে!
অনাহুতের মতো আগামীর ধ্বংসের স্লোগান তুলে জলমগ্ন ডোবায় যেন
ওরা হাবুডুবু আছাড় খাচ্ছে
শূন‍্যের মাঝে শূন‍্য হয়ে অনামী ভবিষ‍্যৎ;কোভিড পজেটিভ?
নৈশব্দের নীল কর্কট কামড়ে উদ্দেশ‍্যহীন বিমর্ষ মুহূর্ত অবজ্ঞা আর অভিমানে
নীল কষ্ট এঁকেছে অসহায় দেহটাতে নীরবে রাতজাগা কুয়াশা বিষন্নতায়!
স্বপ্ন রঙীন কল্পনাদের উচ্ছিষ্টের মোড়কে মুড়ে দাঁড়াতে হবে আজ স্বজনহীন,
যাপনছুট,বিষাক্ত মৃতের সারিতে নিঃসঙ্গ নীরবতায়!
সামিজকতার আড়ালে আচ্ছন্ন কিছু আতঙ্কিত প্রাণ
মানবিকতা হারিয়ে দূরত্ব মাপতে শামুকের খোলে মুখ লুকিয়েছে
নির্লজ্জের মতো জীবনের অঙ্ক মেলানোর ব‍্যর্থ প্রয়াসে!
সন্ধ‍্যার নির্দায়ী প্রদীপটাও নিভে গেছে নির্জনতাকে ছুঁয়ে
আর প্রতিদিনের সূর্যগ্রহণের বিষ ছোবল আছড়ে পড়েছে
মরিচিকা ভ্রমে সামাজীকতার নির্মম হৃদপিন্ডে।
শব্দের লাশ ছিনিয়ে নিয়েছে আজ লক্ষ চোখের আশমানী ঘুম,
আঁচড় কাটা বিষ নখ হিংস্রতায়!
পেয়েছি তো কিছু;তবু হারিয়েছি তো অনেক?
নিষিদ্ধ বাতাসে অন্তহীন শীতল নীরবতায় বোধের কফিনে নির্ঘুম প্রশ্নে?
তবু আজও কিছু নিবেদিত সজীব মানবিক বোধ বিশ্বের আঙিনায় মৃত‍্যুর কালো রাত্রিকে হারিয়ে,
রুগ্ন শরীরে শান্তির পরমায়ুতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে চলেছে নিরুদ্বেগে নির্ভয়ে।
শুভ্র শঙ্খে উজ্জ্বীবিত হোক হারিয়ে যাওয়া পুরোনো ছন্দে নতুন আগামী,
শস‍্য শ‍্যামলা ধরিত্রির বুকে উদয় হোক এক সূর্য নতুন ভোর প্রাণের উল্লাসে।

Sep 04, 20
169
0
0
0
বনফুল,

পঙ্কজ প্রামাণিক

Star Point: 4.22 of 5.00

গদ্য কবিতা

ধূসরিত স্বপ্ন

প্রিয়তমা------কয়েক ফোঁটা জল তোমার জন্য আমার এই বিদায় বেলায়,
জানি তুমি আসবে না দেখবেনা আমার মুখ।
তুমি জানো ? আজ ও আমি সেই স্বপ্ন টা দেখি তুমি আছো আমি আছি দুজনে পাশাপাশি ।
হৃদয়টা আজ হাহাকার করলেও তোমার সে ডাক শুনতে পাবে না ,সেই তুমি আজ অনেক দূরে--
জানো তুমি সন্ধ্যামালতী গাছটাই আজও ঠিক তেমনি ফুল ফুটেছে দেখার কেউ নেই।সে শুধু ফুটে আর ঝরে যায়।
চলে যাব আমিও দুর হতে বহুদুরে ওই নীলিমায় ভেসে রেড়াবো মনের সুখে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত,
তুমি দেখবে অনেক তারার মাঝে আছি আমি তোমার দিকে চেয়ে আমি দেখবো কেমন আছো তুমি।
তুমি কি জানো? --তোমার জন্য গড়ে ছিলাম মাটির পুতুল, রাজা আর রানীর
বলেছিলে তুমি আসবে আমার এই ভালবাসার ঘরে খেলতে পুতুল খেলা।
আমি সাজিয়ে রেখেছিলাম তারে অনেক যতন করে।
বলেছিলে তুমি আমরা দুজনেই রাজা রানীর বিয়ে বিয়ে খেলা খেলবো এলেনা তুমি ।
আমার হৃদয়ের আর্তনাদ তুমি শুনতে পেলে না, শুনতে পেলে না বুকফাটা হাহাকার কাকে বলে।
নির্জীব নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে রয় শুধু এই দেহটা।
সবকিছু ভেঙে চুরে দিলে তুমি আর নিরাশার কালো অন্ধকার টুকু আমায় দিয়ে গেলে।
আজ চিৎকার করতে পারিনা পারিনা কাঁদতে শুধু ব্যাকুল-এই আঁখি দুটি জলে ভরে যায়,
বুকের ভিতরটা হু হু করলেও তুমি শুনতে পাবেনা আর, তুমি নেই কে বুঝব আকূল ব্যাকুলতা।
হাই স্বপ্নের প্রিয়তমা তোমার দেওয়াএই উপহার তীব্র আঘাতের থেকেও ভয়ঙ্কর আঘাত হানে বুকের মাঝে ,
ক্ষত বিক্ষত এই হৃদয় আমার প্রতিটি আঘাতে তোমার ,সোনালী দিনের আলো আজ ধূসরিত --চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে মলিন হয়েছে স্বপ্ন গুলো।
শুধু এই হৃদয়টা আজ তৃষ্ণার্ত ভালোবাসার
সুধাপানে আশায়।
যত হতাশার গ্লানি আছে হৃদয় জুড়ে প্রাণহীন হয়ে,।
না বলা,য় রয়ে গেলো কথাগুলো হোলোনা বলা আজো-------তোমাকে প্রিয়তমা। ///

Sep 02, 20
354
0
0
0
Shibani Bagchi

Shibani Bagchi

Star Point: 4.09 of 5.00

গদ্য কবিতা

মুক্তি পেতে

সূর্যটা সেদিনও আর মুখ তোলেনি লজ্জায়;
মুখ তোলেনি সর্ব্বশক্তিমাণ ভগবানও ?
কেবল বুকফাটা হাহাকারে তোলপাড় হয়েছিলো অচেতন মায়ের টকটকে ভিজে যাওয়া লাল আঁচল।
ওৎপাতা ফাঁদে ওই এক টুকরো ষোঢ়শী ধূসর আবেশ মেখে নৈঃশব্দকে ছুঁয়ে নীথর দেহে পড়ে ছিল হীমঘর শীতলতায়।
গোপন কামনায় হয়তো রোজের, জড়িয়ে ধরা শরীরটায় ওর পলকহীন চোখ একদিন খেলতে চেয়েছিলো যৌবনের কানামাছি চু কিত কিত,উত্তাল সাগর সঙ্গমে !
অথচ ভয়ঙ্করের নীল থাবায় অজানা বিস্ময়ে নিমেষেই তোলপাড় হয়ে গেলো দুচোখের সুরমা টানা স্বপ্নগুলো!
ডেকেছিলো বুঝি তাঁকেও না জানি কোন্ নামে;হে ঠাকুর হে মাধব হে ঈশ্বর দুহাত তুলে?
শোনেনি তো কেউ,মানেনি তো বারণ?
ছিলোনা ঝড়েরও কোন পূর্বাভাস?
উথাল পাথাল বালিয়ারীতে জল থৈ থৈ ফেনীল ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়েছিলো তার আর্তচিৎকার ধ্বণী-প্রতিধ্বনীতে -
অগত‍্যা নর পিশাচের খাবলে খাওয়া ক্ষত বিক্ষত দোমড়ানো মোচড়ানো ছোট্ট শরীরটা যন্ত্রনায় ছটফট প্রাণ,মুখ থুবড়ে চেয়ে নিয়েছিলো ঘুম ঘোরে,এক ফোঁটা বিরান।
সেদিনের শেষ অবেলার মুখ লোকানো অস্তমিত সূর্যটা সারা শরীরে আঁধার মেখে ঘুম ঘুম চোখ দুটোতেই বুঝি ডুব দিয়েছিলো চিরন্তন মুক্তি দিতে!!!

Aug 28, 20
162
0
0
0
আধুনিক কবিতা-Modern poetry
তৃণসম দেহ মিথ্যার কাছে  ⸻  MD RayhanKazi  MD RayhanKazi
আমি যারে খুঁজি ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
কামনা ⸻  Sukanta pal  Sukanta pal
প্রতিভাকে জাগাও ⸻  মৃণাল কান্তি রায়  মৃণাল কান্তি রায়
ধর্ষণের শব্দ  ⸻  MD RayhanKazi  MD RayhanKazi
রটিয়ে দিলাম  ⸻  MD RayhanKazi  MD RayhanKazi
দোষ  ⸻  Poran Majhi  Poran Majhi
MD RayhanKazi

MD RayhanKazi

Star Point: 3.92 of 5.00

আধুনিক কবিতা

লুকোচুরি খেলা

লুকোচুরি খেলা 
মোঃ রায়হান কাজী 
__________________
শত আশা ভালোবাসা তোমাকে ঘিরে, 
তাইতো অভিমান জমে তোমার আড়ালে। 
কখনো তো বুঝতে চাওনি অভিমানের মানে,
শুধু ভুল খুঁজেছো মানবের কথা শুনে৷ 

তবুও বৃথা রোষানলে পুড়ে হৃদয় ভূমির খোঁজে, 
ছুঁটে যায় বহুদিন বহুপাক্ষিকতার পথ ধরে। 
যত কাগজের মাঝে লিখি স্মৃতি খানি,
দুঃখগুলো রাখি মনের অন্তরালে সংগোপনে। 

জানি হৃদয় আমার কঠিন হয়েছে পুড়ে, 
চরণ রাখার যোগ্য সে নয় অন্ধকারে।
তোমার হাওয়া লাগলে আমার বুকে, 
হিয়ার কাছে তবুও কী প্রাণ গলবে না? 

হঠাৎ এসে এমন আড়াল হলে চলবে না, 
লুকিয়ে গেলে পাবো কোথায় জানি না?
যতই করো লুকোচুরি কেউ জানবে না,
ঘুরাঘুরি মাঝে ধরাখেলে  চলবে না। 

না হয় তোমায় বাঁচিয়েছি না বুঝেই,
তুমি হয়তো কখনো তা জানবে না?
এরি জন্য খুব সহজে কী ফুল ফুটবে না?
আড়াল দিয়ে লুকিয়ে গেলে চলবে না।

Oct 18, 20
189
0
0
0
MD RayhanKazi

MD RayhanKazi

Star Point: 3.92 of 5.00

আধুনিক কবিতা

নীলাদ্রি

নীলাদ্রি
মোঃ রায়হান কাজী 
__________________

অফুরন্ত ভালোবাসা তোমায় দিলাম। 
আকাশে বাতাসে তা রটিয়ে দিলাম। 
খুঁজে নিও শুভ্র ফুলের নির্যাসের মাঝে। 
আমি অপেক্ষায় থাকবো তোমার ফেরা নিয়ে।
তুমি আসবে রাঙা চরণ দুখানা আলতা দিয়ে রাঙিয়ে, 
পদচিহ্ন ফেলবে বুঁজি আমার মনের ঘরের  চার  দেয়ালে।
স্বপ্ন বুননকৌশল তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি সযত্নে, 
সূক্ষ্ম হতে সূক্ষ্মতর হয়ে গেঁথে থাকবে বুক পিঞ্জরে।
 গানের সুরের ছন্দ হয়ে তরঙ্গ ধ্বনিতে মুখরিত করবে গৃহকর্মে একান্ত বিলাসে।
 বাকি পথটা পারি দেব ঘোড়ার রথে ভর করে।
দূর আকাশের ধূসর কালো মেঘ ছুঁবো, 
নীলাদ্রির মাঝে সুখের পুলকি ছুটিয়ে। 

Oct 17, 20
271
0
0
0
Poran Majhi

Poran Majhi

Star Point: 4.23 of 5.00

আধুনিক কবিতা

সহজ নামতা

শোকশয্যা থেকে উঠে দাড়াও ব্যর্থতা!
আজকাল কঙ্কালসার তোমাকে আর চেনা যায় না । অসফল, অকৃতকার্যরা ছুটে আসে। হাত বাড়ায় । বন্ধুত্বের আলতো হাত ----
উপোষী প্রার্থনা তবু কার জন্য কেঁদে যায়
বন্ধ চোখে কার জন্য মানুষ সাধো ?
কুঁজো হয়ে কার জন্য করো পূজো ?
কার গোত্র ধরে ব্যথার সূত্র করো আবিষ্কার?
এই গ্রহের বাসিন্দা অথচ মানসিকতা ভিনগ্রহের, তার জন্য ?
তার থেকে চলো -- উল্টে সাজাই মন - মালা
বন্ধ করো জাগরণ , নতুন করে চিনে নাও সাধ্যের বর্ণমালা।
গাছের সাথে কথা বলো --
মন -মড়কের হাত থেকে রেহাই দেবে তার-ই ফুল-ফল-- সবাই তা পারে না। অবুঝ কেন তুমি?
নিবিষ্ট মনে আর ঘোলা জলে হেঁটো না
বরং খোলা মনে নীল আকাশ দ্যাখো , চাঁদ - তারা দ্যাখো সোমব্রত !
ওই দ্যাখো টবের গাছগুলো কেমন আলোর দিকে বাড়িয়েছে মুখ
আঁধার থেকে আলোর পথে থাকা তো ব্যথা ভুলে যাওয়ার সহজ নামতা---

Oct 12, 20
176
0
0
0
MD RayhanKazi

MD RayhanKazi

Star Point: 3.92 of 5.00

আধুনিক কবিতা

তৃণসম দেহ মিথ্যার কাছে

তৃণসম দেহ মিথ্যার কাছে
মোঃ রায়হান কাজী 
________________________

ন্যায়ের দন্ড প্রত্যের কাছে পৌছানোর
যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অর্পণ করেছি নিজে।
নিয়েছি শাসনভার শিরোধার্য সবিনয়ে, 
সে গুরুসম্মান কার্যে কখনো ভয় করিনা।

দুরূহ কাজকর্মের কারণে আদেশ দেওয়া,
ক্ষমা যেন রুদ্র জলধারার অববাহিকায় 
ক্ষীণ দুর্বলতা অসুবিধার ফাঁকে সুকৌশলে।
যেন হতে পারি নির্দেশক এই পথে ঘুরেফিরে,
ক্লান্ত বরষণময় দিনে আগুনের দমকা ছুটে। 

মিথ্যার যোগে রসনাময় কথাবার্তা গুলি শুনি,
তাল মিলাতে গিয়ে একটুও না ভেবে শুরু করি।
সত্যবাক্য বুঝি আড়াল খোঁজে মিথ্যার কাছে,
ন্যায়দন্ড কেন আজ পিছিয়ে আছে থমকে জনসমুদ্রে? 
তবুও কুমন্ত্রণা দিতে হাজারো লোকজন মুখিয়ে থাকে,
ভালোজন খুঁজে পাওয়া ভার এ সময়ের ছেঁড়া জালের অন্তরালে। 

সত্যবাক্য ফুটে ওঠে অনেকটা পথ পিছনে ফেলে,
যেখানে মিথ্যায় ছিলো একান্ত কাম্য সবার কাছে। 
তবে সত্য উদঘাটনে বদ্ধপরিকর হয়ে যুগান্তরে,
কেউ না কেউ হাতরে বেড়ায় পথেঘাটে জনস্রোতে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির ঝার্ণাদ্বারার কিনারা ঘিরে,
মিথ্যার জালে অনেকে যায় জড়িয়ে অচেতনের বেশ ধরে। 
ঘৃণা যেন তৃণসম দেহ অন্যায়ের কাছে যে সহে।

Oct 10, 20
291
0
0
0
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

আধুনিক কবিতা

আমি যারে খুঁজি

আমি যারে খুঁজি পেলাম না আজও তারে,
বুঝি অনুভবে বিশ্ব মাঝারে আছে যেন নিরাকারে।
গন্ধ বিলায় স্নিগ্ধবাতাসে আলোড়ন ভরা খেতে,
অভিসারে আমি দিশেহারা বড় তারই তো পরশ পেতে।
মধুরকণ্ঠে ঝরে অমৃত নীহারিকা তার বোলে,
কত্ কাকলিতে বিগলে হৃদয় অন্তরে ঝড় তোলে।
নৃত্যের তালে বাজিয়ে মাদল হাসিতে ফোঁটায় আলো,
স্পন্দনে তার ধরিত্রী হাসে মুছিয়ে আঁধার কালো।
চোখে দেখে তার অপার মহিমা দিশেহারা হয় মন,
পৃথিবীতে তার তুলনা করার দেখি না এমন জন।
ইশারায় বলে মনের আকূলি গেয়ে যায় সুরে গান,
মহাশূন্যের ছন্দবিতানে ছড়িয়ে মধুর তান।
পাহাড়-হিমানী-গিরিখাতে তার নৈঃশব্দের খর থাবা;
মহাপ্রলয়েও অসুরের সাথে অক্লেশে খেলে সে দাবা।
তীব্র দহনে বারি বরিষনে তৃষিতেরে দিয়ে সুখ
মনের গভীরে জমিয়ে যাতনা হাসিতে ভরায় মুখ।
কতবার আমি ছুটে বেরিয়েছি পেতে তার দেহের পরশ
চির বঞ্চনায় বারেবারেই সে কেড়েছে মনের হরষ;
শত বিভীষিকা ছায়ার মতন অহরহ মনে হাসে,
বারবার তাঁর আকার প্রকার ব্যক্ত হয়েছেই কাছে।
বহুবার বিধি শুধু নিরবধি করে গেছে বঞ্চিত,
অক্ষয় সে ক্ষত পথে পথে ঘুরে রেখে গেছি সঞ্চিত,
ঘুরেছি অযথা খুঁজে খুঁজে তারে ভাগ্যের পরিহাসে;
সোনার সবিতা তিলে তিলে গলে চলে গেছে পরবাসে।
উন্মুখ আমি হয়েছি মিছে অমানিশা ঘনকালে,
সারাটি জীবন মোহ-লালসায় চলেছে বেহালে।

Oct 08, 20
136
0
0
0
Sukanta pal

Sukanta pal

Star Point: 4.28 of 5.00

আধুনিক কবিতা

কামনা

কত যুগ হয়ে গেছে পার
তবু আছি বসে নদীকূলে
তোমারই অপেক্ষায়
সেই পথে
যে পথ গিয়েছে চলে
দক্ষিণে বাঁক নিয়ে
পশ্চিম হয়ে উত্তরের পথে
হিংস্র আদিম নগরে—
যেখানে সব চাওয়া সব পাওয়া
মিলে মিশে হয় একাকার
মাটি আর স্বেদের ঘ্রাণে।
প্রদোষ আলোয়
বাসন্তী রঙে
রাঙা হয় দুটি বৃন্ত
অস্পষ্ট আবরি ভেদী।

Oct 07, 20
253
2
0
0
ছড়া-Rhyme
সবার ওপরে ⸻  মৃণাল কান্তি রায়  মৃণাল কান্তি রায়
আজব খুড়ো ⸻  Sukanta pal  Sukanta pal
ভেবে ভেবে ⸻  Shibani Bagchi  Shibani Bagchi
ইচ্ছে  ⸻  Shibani Bagchi  Shibani Bagchi
নাই কোনো মানা ⸻  Sukanta pal  Sukanta pal
খোকা ঘুঁড়ি ⸻  বনফুল,  পঙ্কজ প্রামাণিক
উদাস দিন-1 ⸻  বনফুল,  পঙ্কজ প্রামাণিক
Ainunnahar Mozumdar Luvna

Ainunnahar Mozumdar Luvna

Star Point: 4.11 of 5.00

ছড়া

দুখু

দুখু নামটি তার
চুরুলিযায় বাড়ি
কার্পাসঙ্গায় আটচালা ঘরে
স্মৃতি গুলো নাড়ি।
পিতা কাজি ফকির
মা জাহেদার ঘরে
বেড়ে উঠা কাব্যরসে
কলম কাগজ ধরে।
চুয়াডাঙ্গা ঢাকা থেকে
বহু দুরে
ছড়া রচিলো বসে
হাবুদের তাল পুকুরে।
সংগঠন গড়ে উঠলো
নজরুল সাহিত্য স্মৃতি সংসদ
পেতে চাই আমি
কাজি নজরুলের সনদ।
সাজিয়ে দেবো দুখু তোমায়
কাব্য ছন্দ বেসে
চির নিদ্রায়শায়িত নজরুল
সোনার বাংলাদেশে।
বইয়ের পাতায়
বেঁচে আছ নিদ্রাহীন
চলে যেতে হবে
আগে পরে দুদিন।
বীর কবি কাজি নজরুল
বাংলার কোলে
বাতায়নে ভেসে উঠে
নজরুল গীতির সুর তোলে।
সাহাবাগ ঢাকা ইউনিভারসিটি
মিসজদেরই পাশে
কবি গুরুর কবর দেখে
অশ্রু জলে ভাসে।

Oct 09, 20
291
1
0
0
Sukanta pal

Sukanta pal

Star Point: 4.28 of 5.00

ছড়া

জনতারাজ

রাজার পায়েতে নাগরা জুতো
মাথায় সোনার তাজ
চুপকর যত বেয়াদব সব
চলছে জনতা রাজ।
চেয়ে দেখ ওই হাসছে পাহাড়
দিয়ে হাতে করতালি  
নিন্দুক যত হিংসায় জ্বলে
দেখে রাজা ধনশালী  ।
শহর নগর দেখনি কি ঘুরে
শিলা পোঁতা আছে কত
ঘুমহীন চোখে রাজপথে রাজা
তোমারই চিন্তারত।
খোলা চোখে সব যায় নাকো দেখা
দেখে নিয়ো চোখ বুজে
কাঙালের ধনে রাজা হয় ধনী
পাবে ইতিহাস খুঁজে  ।

Oct 06, 20
300
1
0
0
Ainunnahar Mozumdar Luvna

Ainunnahar Mozumdar Luvna

Star Point: 4.11 of 5.00

ছড়া

প্রেমাঞ্জলি

দিলাম বলি প্রেমাঞ্জলি
প্রেমাগ্নি প্রেম ভক্তি,
হৃদয় প্রেমিক প্রেমযুক্ত
প্রেমাসক্ত লক্ষী নারী,
প্রেমহিল্লোলে মাধুৰ্য প্রেমলহরী
প্ৰিয়তমা প্ৰণোদনা উচ্ছাস,
প্রেমোজ্জ্যে প্রেমিকের ভক্ত
প্রেমপূর্ণ প্রবল প্রেমিকের ভক্ত।

Oct 06, 20
336
1
0
0
মৃণাল কান্তি রায়

মৃণাল কান্তি রায়

Star Point: 4.32 of 5.00

ছড়া

সবার ওপরে

স্মৃতির বশে পাতার শেষে
কেবা আসলে তুমি,
কোথায় এলে কাদের পেলে
নামেই মাত্র আমি?  
তোমার বাড়ি বলতে পারি
যেথায় থাক আজ,
কাজের যাত্রা চলার মাত্রা
নিখুঁত রেখ কাজ।
সম্মান বড় বুঝতে পার
বলার শুধু তাই,
আশার সুখে মানুষ মুখে
সুনাম কানে চাই!
কবিত্ব ভাষে দেখার আশে
দেখতে যাহা চাই,
কুঞ্জের মাঝে সকল কাজে
তোমার দেখা পাই!
আছি যেথায় খুঁজি সেথায়
দিবস সন্ধ্যা রাতে,
মোহিত মন চয়িত জন
শারদ সিক্ত প্রাতে!

Oct 06, 20
271
0
0
0
Sukanta pal

Sukanta pal

Star Point: 4.28 of 5.00

ছড়া

আজব খুড়ো

নন্দর ছোটোমামা মদনার খুড়ো
বয়সটা চার কুড়ি হয়নিকো বুড়ো
দাঁতকটা পড়ে গেছে কানে শোনে কম
খুক্ খুক্ কাশি পেলে ঠেকে যায় দম।
চুল ওঠা চাঁদিখানা তেল-চকচক
পিলে জ্বরে বারো মাস কাঁপে ঠকঠক ।  
গিঁটেবাতে কাতরায় গ্যাসে পেট ফুলে
নড়াচড়া  করলেই ভুঁড়িখানি দুলে।
এমনিতে রাতকানা নাকডাকা রোগ
ভালো কিছু মুখে দিলে বাড়ে দুর্ভোগ।
ভাত রুটি বাদ দিয়ে চুষে  খায় মুড়ো
জুতসই কণে পেলে ঘুচে আইবুড়ো ।

Sep 30, 20
483
0
0
0
Shibani Bagchi

Shibani Bagchi

Star Point: 4.09 of 5.00

ছড়া

ভেবে ভেবে

ভাবনা ভাবে;ভাবায় ভীষন,
ভাবনা ভুলি ভাবচ্ছাসে!
ভজন ভজি;ভক্তি ভরেই,
ভাগ‍্য ভয়াল ভব সাগরে!
ভালোবাসার ভালোমন্দ,
ভনিতাতেই ভাই ভাবছিরে!
ভুড়ি ভোজে;ভয়াল ভরে,
ভীম ভোজী ভিমরতিতে!
 

Sep 23, 20
352
0
0
0
উপন্যাস-Novel
আরতী ( পর্ব ৩৬) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতী ( পর্ব ৩৫) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতী ( পর্ব ৩৪) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতি (পর্ব ৩৩ ) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতি (পর্ব ৩২ ) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতি (পর্ব ৩১ ) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
আরতি (পর্ব ৩০ ) ⸻  Manoranjan Das  Manoranjan Das
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতি ( অন্তিম পর্ব )


১লা জানুয়ারী আরতীর জীবনের একটি স্মরণীয় দিন । পিকনিকের চিন্তায় রাতে ঘুমাতেই পারল আনন্দে।
ছোটবেলায় দু'একবার চরুইভাতি খেলেও, এমন করে পিকনিকে আজই প্রথম যাওয়া তার ।
ভোরবেলা শীতের পোশাক পরে নরেশের সাথে রওনা হলো বড় রাস্তায় । প্রায় আধাঘন্টা পথ হেঁটে এসে দেখল তাদের বাসগাড়িটা দাঁড়িয়ে রয়েছে রাস্তার ধারে । সনাতন আগেই চলে গেছে , কারণ সে চায় না 'গ্রামের মানুষ আরতিকে ঘিরে কিছু বলুক'।
গাড়ির পেছনদিকে গিয়ে জানালার পাশে বসে একটা জায়গা রেখে দিয়েছে সে ।
নরেশ গাড়িতে উঠে সীট খুঁজতে খুঁজতে সনাতনের পাশে আরতিকে বসিয়ে সামনের দিকে গিয়ে বসল। আরতি তাকে কিছু বলতে উদ্যত হতেই গাড়ি ছেড়ে দিলো।
মনেমনে সামান্য আপত্তি করলেও হয়তো খুশিই হয়েছে এখানে বসে আরতি । সে লক্ষ্য করল মাত্র দু'জন বিবাহিতা অচেনা মহিলা ছাড়া আর কোনো মেয়েমানুষ নেই গাড়িতে ।
গাড়ি দ্রুতবেগে এগিয়ে যাচ্ছে তার গন্তব্যে । বাদিকে ঘুরে হাসিমুখে সনাতনের দিকে তাকিয়ে আরতি বলল , " এখানে জায়গা রেখেছ কেন ? " সনাতন মুখে কিছুই না বলে এমনভাবে তাকিয়ে রইল যেন , কিছুই শোনেনি সে।
আরতি বিরক্তির হাসি হেসে জানালার দিকে চেয়ে রইল ।
অনেকক্ষন পর আবার চোখ ফিরিয়ে সনাতনকে তার দিকে অপলকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরতি বলল , " সনাতন দা , ছিঃ ! আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকলে,মানুষ কী ভাববে বলতো ! "
সনাতন যেন সম্বিত ফিরে পেল এবার ।
সনাতন হেসে বলল --- সত্যিই তো! আসলে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম ।
ঘন্টা দুয়েক পরেই গাড়ি থেমে গেল একটা ফাঁকা জায়গায় । দু'টি ছেলে সবার হাতে হাতে একটি করে প্যাকেট তুলে দিয়ে বলল , " নিন সবাই টিফিন করে নিন । আর এক ঘন্টা পরেই আমরা টো-টো পাড়ায় পৌঁছে যাবো । সনাতন তার টিফিনটা আরতির হাতে দিয়ে বলল ---- এটা তোমার হাতে রেখে দাও , আমি একটু দেখে আসি , কোথায় এলাম । সাউন্ড বক্সে সুন্দর রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজছে, গাড়ির যাত্রীরা সবাই গান শুনছে ।
আবার দ্রুতবেগে চলতে শুরু করল জঙ্গলের বুক চিরে গাড়িটি । আরতি মৃদু হেসে সনাতনকে চিমটি কেটে হাতে টিফিন দিয়ে বলল --- এই যে মশাই , এগুলো কে খাবে ?
সনাতন সামান্য কিছু নিয়ে জোর করে তার হাতে দিয়ে বলল , " তুমি খাবে সব "
আরতি কথা না বাড়িয়ে টিফিন মুখে তুলেই লজ্জা পেয়ে রাগতসুরে বলে উঠল , " তুমি ভীষণ হ্যাংলা তো , শুধুই মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকো; বলিএমন করে দিকে তাকিয়ে থাকলে আমি খাবো কী করে ? সনাতন লজ্জা পেয়ে মাথানীচু করে বলল ---আমার কী দোষ , আমার চোখ দুটোই যত নষ্টের গোড়া ।
আরতি ইশারা করে বলল গাড়ির লোকেরা কী ভাববে বলতো ? সনাতন বলল ----আমাদের সিটে ভাগ্যিস কেউ নেই ।
জানালা দিয়ে তাকিয়ে সুন্দরী ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক দৃশ্যে নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলেছে আরতি । সবুজে সাজানো বন-জঙ্গলে ছোট ছোট মাটির ঘর , কোথাও আবার বানরের দলেদের রাস্তার ধারে দলবদ্ধ বিচরণ, বড় অপূর্ব লাগছে তার । ইচ্ছে করছে কারো হাতধরে ঘুরে বেড়াতে এই জঙ্গলে তার।
একটু পরেই গাড়িটি চা বাগানের মধ্যদিয়ে ছুটতে শুরু করল ----- বিস্তীর্ণ চা-বাগানের শোভা তাকে আকৃষ্ট করছে বারবার । সে সনাতনের হাতধরে যেন বাগানের সুরু রাস্তা দিয়ে যেন দৌড়ে যাচ্ছে মনেমনে ।
হঠাৎ গাড়ি থেমে যতেই চমকে উঠে দেখল সবাই গাড়ি থেকে নেমে যাচ্ছে । সনাতন তাকে ধাক্কা দিয়ে বলল ---- চলো , টোটো পাড়া এসে গেছি আমরা ।
খুব সুন্দর পিকনিক-স্পট এই টোটো পাড়া । তাদের মতো আরো চারটি বাস দাঁড়িয়ে রয়েছ এখানে । সুন্দর একটা ঝরনা নদী বয়ে গেছে, তার দুদিকে দুটো উঁচু পাহাড় । পাহাড়ের উপরে একটা বাজারের মতো দেখা যাচ্ছে । পাশেই একটা বড় এলাকা জুড়ে কমলা বাগান। তাদের টিমের কয়েকজন উঠে যাচ্ছে বাগানের দিকে । প্রাকৃতিক দৃশ্যে অভিভূত আরতি তন্ময় হয়ে দেখছে সবকিছু দু'চোখে । নরেশ তার সামনে এসে বলল ------ আরতি , কেমন লাগছে দেখতে ?
---- ব্যাপক লাগছে আমার , ইচ্ছে করছে পাহাড়ে উঠি একটু ।
---- তুই তাহলে সনাতনের সাথে পাহাড়ে উঠে ঘুরে দ্যাখ সব ।
---- দাদা , তুই ?
-"আমি শঙ্করের সাথে কমলা বাগানে গেলাম " বলেই নরেশ চলে গেল ।
আরতি লক্ষ্য করল , সনাতনের মুখে একটা উজ্জ্বল হাসি খেলছে ।
আরতি তার চকচকে হাসি দেখে সামান্য আতঙ্কিত হলেও মুখে কিছু না বলে পাহাড়ে উঠতে শুরু করল। একটা সরু রাস্তা এঁকেবেঁকে উপরে উঠে গেছে পাহাড়ের চূড়ায় । এই চাপা রাস্তা ধরে দু'জনে উপরে উঠতে নিয়ে দেখল আরো কয়েকজন তাদের আগে আগে উঠে যাচ্ছে । তাদের পোশাক দেখে মনে হলো ---- এরাও তাদের মতো ঘুরতে এসেছে ।
কিছুদূর উঠতেই দু'জনেই গায়ের শোয়েটার খুলে ফেলল । আসলে পাহাড়ে উঠা বড় পরিশ্রম । তারা ঘেমে যাচ্ছে দু'জনেই ।
হঠাৎ সনাতন আরতিকে বলল , " আরতি , চল আমরা বাদিকের রাস্তায় একটু উঠে দেখি " ।
দুজনে বাদিকের রাস্তায় কিছুদূর উঠে আর রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না । এখান্ থেকে উপরে ওঠা খুবই মুস্কিল , কারণ রাস্তা বড়ই চড়াই-উতরাই ।
আরতি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল ---- বাপ রে ! এদিকে আর ওঠা যাবে না সনাতন দা ।
সনাতন চট করে সেখানে বসে পড়ে বলল," বসো এখানে , বিশ্রাম করি একটু " ।
--- একদম লোকজন নেই এখানে , আমার কিন্তু ভয় লাগছে সনাতনদা ।
--- কাকে ভয় করছ আরতি ? আমাকে ?
" জানি না ! " বিরক্তির সুরে উত্তর দিয়ে আরতি বলল ----- একদম মিথ্যেবাদী তুমি ।
---- কেন ?
--- সেদিন তো খুব বললে ---- অনীশ বাবুর সাথে পরিচয় করাবে , কোথায় তোমার অনীশ বাবু ?
---- অনীশ বাবুকে দেখলে চিনবে তুমি ?
--- হয়েছে তোমার লেকচার , এই জঙ্গলে অনীশ বাবুর খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই তো , এসে দেখা করবে ।
--- অনীশ বাবু এসেছে আরতি ।
--- হয়েছে , আর দরকার নেই কষ্ট করার ।
--- কেন , দেখবে না তাঁকে ?
--- আসলে আমি বুঝে গেছি সব ।
---কী বুঝেছ ?
-- একটা সুন্দরী মেয়েকে কাছে পেতে , মানুষ কত মিথ্যে বলে । বেশ তো পেয়েছ আমাকে একাএকা নির্জনে । খুব মজা লাগছে না ?
নরেশ কাছেই গাছের একটা ফুল তুলে হাতে নিয়ে একদম অন্যমনস্ক হয়ে কিছুক্ষণ বসে রইল । আরতি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে ভাবছে ---- হায়রে একদম দু'জনে একা আমরা । সনাতন যদি বাজে কোন মতলব এঁটে থাকে মনে মনে ? আমি কী করব তখন ?
একটু পরেই সনাতন গম্ভীর গলায় বলল -----
আরতি , তোমার অনীশ বাবুকে দেখবে ?
--- আমার অনীশ বাবু ? সবারই তো অনীশ বাবু তিনি । কোথায় সে?
---- আরতি , অনীশ বাবু আর কেউ নয় । আমি সেই উপন্যাসিক অনীশ , ছদ্মনামে সব বইগুলি প্রকাশ করেছি ।
আরতির সুন্দর মুখটি আরো সুন্দর হাসিতে ভরে উঠল । সে নিজেকে মূহুর্তে হারিয়ে ফেলল , সনাতনকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে বলল ----- অনীশ ! তুমি যে আমার মনের কোথায় জায়গা পেয়েছ জানো না । কী অপূর্ব তোমার লেখা ! তোমার প্রতিটি উপন্যাসেই আমি নিজেকে খুঁজে পাই ! আমি প্রথমেই সন্দেহ করেছিলাম ----- আমার জীবনের এতকথা তুমি ছাড়া কে লিখতে পারে আর ?
সনাতন নিজেও ভাবাবিষ্ট আরতির হাত জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলল ------ আরতি ,আমার মনের জগতে তুমি কতটা জায়গা করেছ , তা তুমি জানো না । তোমাকে ভেবেই ' স্কুলে পেছন বেঞ্চে বসা ' সেই সনাতন আজ অনীশ হয়েছে ।
চরম ভাবাবেগে আপ্লুত সনাতনের চোখের জল মুছিয়ে আরতি বলল ----- ছিঃ ! ছেলেমানুষ কখনো কাঁদে ? কান্না তো আমার মতো অভাগীর জন্যই দিয়েছে ভগবান ।
আর কাঁদবে না সনাতন , তোমার আরতি তোমার কত কাছে আজ ! তাকে পেয়েও কাঁদবে ? " বলেই নিজের চোখ মুছে সনাতনের মুখের দিকে চেয়ে রইল আরতি।
সনাতন হঠাৎ তৃপ্তির হাসি হেসে বলল ---- আরতি , আমরা কি আবার নতুন করে শুরু করতে পারি না ?
কাঁদো কাঁদো আরতি সনাতনের মাথায় হাত দিয়ে বলল ---- না! সনাতন , আর তা হয় না। তুমি আমার জীবনে অনীশ হয়েই বেঁচে থাকবে চিরকাল । আমি সনাতন হিসেবে তোমাকে পেতে চাইনা আর কোনদিনও ।
--- কেন , আরতি ?
---- আরতির জীবনের সাথে আর নিজেকে যোগ করতে চেয়ো না সনাতন । এই পোড়াকপালির জীবনটা যে শুধু দুঃখ দিয়েই গড়া!
তুমি যে আরতিকে পাশে চাইছ, সে তোমার যোগ্য নয় সনাতন ।
যৌবনের স্বপ্ন দেখার আগেই সে আরতি গণধর্ষিতা হয়ে পেয়েছে সমাজের লাঞ্ছনা । ভালোবাসার স্বপ্নে মসগুল হওয়ার আগেই বাবা তাকে এক অমানুষের পরিবারে বিয়ে দিয়ে সমাজের বুকে কলঙ্কিত করল । আজ যে কেউ তার দিকে আঙুল তুলে বলবে ---- মেয়েটি ভালো নয় , সে স্বামীর ঘর থেকে চলে এসেছে । কি লজ্জার জীবন তার , বলো !
আমি জানি সনাতন ,আবার যদি আরতি নতুন করে ঘর বাঁধে ---- সেই ঘরেও বিধাতা নিজের হাতেই আগুন জ্বেলে পুড়িয়ে দেবে তার সমস্ত সুখ ।
সনাতন অধীর আগ্রহে তার কথাগুলো শুনে যাচ্ছিল শুধুই । তার মনের উজ্জ্বল আকাশ অন্ধকারে ভরে গেল।
সে অস্ফুট কান্নায় বলল ---- আরতি ! আমার ভালোবাসার গঙ্গাজলে তোমার সমস্ত কালিমা ধুয়ে দেবো আমি । সমাজ তোমাকে যতই ঘৃণা করুক , তোমার স্থান আমার বুকেই থাকবে । আর না কোরো না আমাকে ।
আমি আমার পবিত্র আরতিকে সারাজীবনের জন্য কাছে পেতে চাই।
-- তা হয় না সনাতন, আমি একটা নিষ্পাপ শিশুর মা হয়ে তার ভরসা আজ। আমি আমার সন্তানের কাছে ওর মাকে আর ছোট করতে পারব না গো! এই কথাগুলো বলতে বলতে গভীর কান্নায় আচ্ছন্ন আরতি সনাতনের হাত ধরে বলল--'তুমি আমার একটা কথা রাখবে সনাতন? বলো রাখবে!
--' তুমি কাউকে বিয়ে করে সংসার শুরু করো।
আমার কোনদিনই ঘর বাঁধার স্বপ্ন নেই আর; আমি যে একজনের মা এখন; সেই নিষ্পাপ শিশুটি তার মায়ের মুখ চেয়ে বসে আছে ।
তাছাড়া ভালোবাসলেই কী ঘর বাঁধতে হবে ? বলো ?
ভালোবাসার কি কখনো মৃত্যু আছে ?
আমি সারাজীবন তোমাকে ভালোবেসেই
যাবো । আর ভগবানের কাছে কামনা করব ---- হে ভগবান !তুমি যদি মানুষ কুলে আবার আমায় পাঠাও , তাহলে আমার ভালোবাসার মানুষ সনাতনের বুকে স্থান দিও। এ জন্মে তোমার সাথে আমার একসাথে হাত ধরে চলা হবে না সনাতন! আমাকে ক্ষমা কোরো।

দজনেই কথা বলতে বলতে হঠাৎ অর্ধউলঙ্গ কুত্সিত দর্শন কয়েকজন টোটোকে দেখে চমকে উঠল ।
" সনাতন দেখ জঙ্গলিরা একটু দূরেই ঘুরে বেড়াচ্ছে । এখানে থাকা মোটেই নিরাপদ নয় আর ।
জঙ্গলিরা কুত্সিত হেসে আবার দলবেঁধে নিজেদের মধ্যে কি কি শব্দে কথা বলতে বলতে চলে গেল । তারা চলে গেলে দুজনেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো । হাতের ঘড়ি দেখে চমকে উঠে আরতি বলল ---- দেখো কয়টা বাজে ! এবার চলো । সনাতন তার হাতধরে এগিয়ে যেতে যেতে গম্ভীর সুরে বলল ---- আরতি আমি আমরণ তোমার অপেক্ষায় থাকব , মনের দরজা খোলাই থাকবে তোমার জন্য আমার ।
যদি কখনো ইচ্ছে হয় , চলে আসবে নির্দ্বিধায় । আমি শরৎ বাবুর দেবদাস হয়ে তোমার অপেক্ষায় বসে রইলাম। আমাদের আর সামনা সামনি দেখা হওয়ার প্রয়োজন নেই , দু'জনে মনের রাজ্যে ঘুরে বেড়াব হাতে হাত ধরে । সেখানে কেউ আমাদের দেখতে পাবেনা , কেউ বলতে পারবে না ---- এই দেখো তোমরা ! এরা কত নির্লজ্জ , কত বেহায়া ।
আরতি তার মুখ চেপে ধরে বলল ---- সনাতন , আমাকে আর দুর্বল কোরো না প্লিজ, আমার মতো অপয়াকে আজ অনেক দিলে তুমি ; অন্ততঃ একটা তৃপ্তি তো পেলাম- - এই পৃথিবীতে কেউ আমাকে ভালোবাসে।
এর চেয়ে বেশি কিছু আর চাই না গো আমি। তুমি ভালো থেকো; আমার মনের পৃথিবীতে তুমি অনীশ হয়ে বেঁচে থেকো।
বেচারা সনাতন নিজেকে আর থামিয়ে রাখতে পারছে না , তার চোখের জল যেন বাঁধ ভেঙ্গে ফেলেছে ।
শেষবারের মতো দু'জনে দুজনকে চোখের জলের মিলনে গাড়ির কাছে এসে দেখল-' সবাই অপেক্ষায় রয়েছে তাদের জন্য ।

---------------------- যবনিকা
( পাঠক বন্ধুরা আমার এই ধারাবাহিক উপন্যাস কেমন লেগেছে বলুন )

Mar 04, 20
0
0
1
0
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতী ( পর্ব ৩৮)


সনাতনের লেখালেখিতে হঠাৎ ভাঁটা পড়ে গেছে । তার দশ নং উপন্যাস শেষ পর্যায়ে এনে খেই হারিয়ে ফেলেছে । কিছুতেই শেষ পরিচ্ছেদ আর লিখতে পারছে না সে ।
কাহিনির নায়ক অনিরুদ্ধ তার প্রেমিকার কাছে প্রত্যাখ্যিত হওয়ার পর প্রচণ্ড আঘাতে জীবনটাকেই ছন্নছাড়া করে ফেলেছে । মনের জ্বালা মেটাতে নেশার জগতে ডুবে গেছে এই যুবক । অত্যধিক নেশা এবং অনিয়মের ফলে সে আজ এমন একটা কঠিন রোগে আক্রান্ত যে , কোনোদিনই ভালো হবার সম্ভাবনাই নেই আর।
এদিকে নায়িকা অনুসুয়া বড়োলোক দুশ্চরিত্র স্বামীর ঘরে দিনের পর দিন আঘাতে বিপর্যস্ত , জীবনটাই বিষাদগ্রস্ত আজ তার।
স্বামীর প্রচণ্ড অবহেলা এবং শারীরিক নির্যাতনের চোটে সে ফিরে এসেছে পিত্রালয়ে। এখানে এসেও তার জুটেছে সকলের ধিক্কার; ধীরে ধীরে সে বেঁচে থাকার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলছে।
তার এই দুর্দিনে এসেও একদিন সে তার অনিরুদ্ধের সব কথা জানতে পেরে অত্যন্ত দুঃখ পেল মনে । নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়ারও সাহসও নেই আজ অনুরুদ্ধের কাছে ।
অথচ অনুরুদ্ধ কয়েক দিনের মধ্যেই চিরবিদায় নিতে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে ।
ঠিক এখানে এসে সনাতন কিছুই লিখতে পারছে না । যখনি সে লিখতে চেষ্টা করে ---- তখনি তার চোখ ঝাপসা হয়ে যায়।
সে ভাবল ---- না , কিছুদিন একটু এই জগতের বাইরে গিয়ে মনটাকে ফ্রি করে লেখাটা অন্যভাবে এনে শেষ করে দেবো ।
এখন রোজ বন্ধুদের সাথে বসে নানা আড্ডায় সময় কাটিয়ে দিচ্ছে এখন সে।
আজ ২৫ শে ডিসেম্বর , পাশের গ্রামের একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করেছে সনাতন। এই অনুষ্ঠানে নিজের লেখা একটা কবিতা মঞ্চে উঠে আবৃত্তি করল সে।
আবৃত্তি এত সুন্দর হয়েছে যে --- অনেক হাততালিতে হলঘর মুখরিত হয়ে গেল । হঠাৎ দর্শকদের মধ্যে আরতি এবং নরেশকে দেখে সনাতন অবাক হয়ে ভাবল ---- যাক , আরতি উপন্যাস পড়তে পড়তে সাহিত্যানুরাগীও হয়ে উঠেছে আজকাল ।
মনের আবেগেরা আবার তাকে নতুন করে বাঁচতে শেখাবে এবার।
আঃ ! মেয়েটার কী দুঃখের জীবন ! আজ যদি নরেশের বাড়িতে আশ্রয়টা না পেতো , কোথায় দাঁড়াত সে ?
যদিও ওকে আমি পাইনি , তবুও ওর উপরে আমার কোনো ক্ষোভ নেই , কারণ সেদিন ওর কোনো ক্ষমতা ছিল না আমার ডাকে সাড়া দেওয়ার। বাবার কথাই ছিল শেষ কথা এই মেয়েটির জীবনে।
অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরতে গিয়ে সনাতন দেখল , আরতি মৃদুহাস্যে তার দিকে এগিয়ে আসছে ।
" সনাতনদা , তুমি বাড়ি যাচ্ছ?
--হ্যাঁ , নরেশ কোথায় আরতি?
" দাদা একটি জরুরী কাজে চলে গেছে; আমি তোমার সাথেই বাড়ি যাবো "
বলে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল আরতি ।
সনাতন যেন হাতে স্বর্গ পেয়ে গেল । সে ভাবল, ' যাক প্রায় আধাঘন্টা সময় দুজনে একসাথে পথ চলতে পারব আজ , তাছাড়া চিঠিটাও ওর হাতে দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।
তাকে নীরব দেখে আরতি বলল --- কী সনাতন দা, বিপদে পড়লে বুঝি ?
---- কীসের বিপদ ? এ তো আমার সৌভাগ্য। চল তাহলে, সন্ধ্যা হয়ে এল যে " ।
দু'জনে পথ চলতে শুরু করল পাশাপাশি এবার । সাঁঝের হালকা আলোতে আরতির সুন্দর মুখটি যেন আরো রোমান্টিক লাগছে সনাতনের কাছে। সে আস্তে করে বলল ,
---- আরতি ।
--- বলো সনাতনদা ।
---- পিকনিকে তো যাচ্ছ ?
--- ভাবছি যাবো ।
----- তুমি যাচ্ছ তো ?
--- তোমার জন্যই যাবো আমি ।
ভীষণ লজ্জা পেয়ে আরতি বলল , " সনাতনদা ! বাজে কথা বললে একদম যাবো না কিন্তু আমি " ।
সনাতন জিবকেটে বলল --- ছিঃ ! তুমি কী বুঝলে? আসলে আমি অন্যকথা বলছিলাম ।
" কি কথা ? " বলতেই সনাতন আরতির হাতে তার লেখা চিঠিটা গুঁজে দিয়ে বলল --- বাড়ি গিয়ে দরজা বন্ধকরে পড়বে কিন্তু, দেখবে , কোন বাজেকথা নেই এখানে ।
আরতির হাত-পা থরথর করে কাঁপতে থাকল , সে কী বলবে যেন ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না , শুধুই চিঠিটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল রাস্তায় । আশেপাশে কেউ নেই তাদের , হঠাৎ সনাতনকে যেন তার ভয় ভয় লাগছে এখন ।
সনাতন নিজেও বোকা সেজে গেল আরতির চেহারা দেখে , সে আরতির হাত চেপে ধরে বলল ," তুমি আমাকে ভুল বোঝো না প্লিজ।
চিঠিটা পড়লেই লজ্জা পাবে যদি আমাকে ভুল বোঝো।
চল এবার , এখনো অনেকটা পথ যেতে হবে যে ।
কোন কথার উত্তর না দিয়ে আরতি অত্যন্ত জোরে হাঁটতে শুরু করল আরতি।
সনাতন অনেক পেছন থেকে বারবার বলছে , " আরতি , আমি এত জোরে হাঁটতে পারি না , একটু আস্তে হাঁটো প্লিজ " ।
নদীর ধারের ফাঁকা রাস্তা পার হয়ে আরতি আবার আস্তে হাঁটতে শুরু করল । এবার সনাতন বুঝতে পারল ---- আসলে ফাঁকা রাস্তায় সে আমাকে ভয় পেয়েছে বলেই এত জোরে হাঁটছিল সে । আর কেনই বা পাবে না ভয়, কম তো ধকল যায়নি মেয়েটার উপর দিয়ে !
ঘরে ফিরতেই মা বলল --- আরতি, এত দেরি? আমি তো চিন্তায় পড়েছিলাম, হাতমুখ ধুয়ে খেয়ে না এবার , দাদুভাই তো ঘুমিয়ে পড়েছে । দেয়াল ঘড়ির দিকে চেয়ে অবাক হলো আরতি --- বাবা ! আটটা বাজে ! শীতকালে তো অনেক রাত !
খেয়ে-দেয়ে ঘুমন্ত ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে দ্রুত ঘরের দরজা বন্ধ করে সনাতনের চিঠিটা খুলে পড়তে থাকল অধীর আগ্রহে ।
কয়েকবার চিঠিটা পড়ে আরতি ভাবল --- আরে সনাতন ! কি বলতে চাও তুমি ? তোমার মনের ভাষা কি ? তুমি যদি আমাকে এতই ভালোবাসো , তবে অনীশ বাবুকে কেন টেনে আনছো ? কিন্তু সনাতন ---- আমি যে ভীষণ অসহায় ! আমার যে অভিশপ্ত জীবন ! আমি যখনি কিছু পাওয়ার আশাকরে হাত পাতি , তখনি দুর্ভাগ্য এসে আমার জীবন তছনছ করে দেয় । নাঃ ! আর সম্ভব নয় সনাতন । আমি যে আজ একটি নিষ্পাপ শিশুর মা ! আমার কিছু চাইনা এ জীবনে আর ।
আরতি তার নিষ্পাপ ছেলেটির দিকে চেয়ে কেঁদে ফেলল । আহারে ! কী নিশ্চিন্ত ঘুমিয়ে আছিস বাবা ! আমি কিছু করলে কোথায় দাঁড়াবি তুই ! না রে বাবা না , তোর মা তোর মুখের দিকে চেয়েই বেঁচে থাকবে । সে আর কোনো সুখ চায় না রে । ছেলেকে চেপে ধরে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকল সে ।
সনাতন অধীর আগ্রহে বসে রয়েছে; ভাবছে ---- আরতি চিঠির একটা উত্তর দেবেই দেবে । বারবার কারণে অকারণে নরেশের বাড়ি আসে আর ঘুরে যায় ; কোথায় চিঠির উত্তর ! হতাশ সনাতন নিজেকেই দায়ী করছে । ভাবছে ---- আসলে উপন্যাসে একটা ছেলের সাথে মেয়ের ভালোবাসা করিয়ে দেওয়া যত সহজ , বাস্তবে সত্যিই কঠিন । কতগুলো বছর ধরে যার পথ চেয়ে বসে রইলাম , তার মুখের একটা কথাও আজ আদায় করতে পারলাম কোথায় ? আসলেই আমি একজন অপদার্থ !
একদিন দুপুরবেলা নরেশ স্কুলে চলে গেল, তার নাতি নিয়ে স্কুলে বেরিয়ে গেল নরেশের মা।
এই তো সঠিক সময়, সে হাজির হলো আরতির কাছে ।
তাকে বসতে দিয়ে আরতি কাজের ব্যস্ততা দেখাতেই সে বলল , " আরতি , আমি তোমার কাছে কিছু ফেরত আশা করেছিলাম " ।
আরতি হেসে বলল , " পিকনিকে গিয়ে সব কথা হবে , তুমি যাও এখন ।
--- কেন তাড়িয়ে দিচ্ছ আমাকে ?
---- সনাতনদা , বাড়িতে কেউ নেই , কেউ দেখলে কিছু ভাবতে পারে , বোঝনা তুমি ?
সনাতন লক্ষ্য করল --- আরতি তার দিকে চেয়েই দেখছে না ,সে যেন সত্যিই একটা উৎকণ্ঠায় রয়েছে । তাই ভাবল , " কেন এই উৎকণ্ঠা ওর ? তাহলে কী আমার প্রতি তার মনের দুর্বলতা এসেছে ? নাঃ , আমাকে আর একটা দিন ধৈর্য ধরতেই হবে । কালই তো যাচ্ছি পিকনিকে , কেন তাড়াহুড়ো করছি আমি ? ভাবতে ভাবতে ফিরে গেল সে। আরতি তাকে যাওয়ার পথে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে আর ভাবছে ----- ভগবান , আমাকে তুমি রাস্তা দেখাও ! কাল এই মানুষটাকে কি বলব আমি ! বেচারা শুধুই আমাকে পাওয়ার আশায় আজো যে প্রহর গুণছে । কেমন করে বলব , " সনাতনদা , তোমার পথ আর আমার পথ এক নয়; তোমার ডাকে সাড়া দেওয়া আমার সম্ভব নয় ! আমি যে ভীষণ অসহায় আজ !
চলবে -----

Mar 01, 20
0
0
0
0
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতী ( পর্ব ৩৭)


নরেশের বাড়িতে তিন বছর পার হয়ে গেল দেখতে দেখতে ।
কোর্টে হাজিরাও হলো অনেঅনেকবার ।
শেষ হাজিরার দিন সরকারি উকিল আরতিকে তার চেম্বারে ডেকে বলল ---- আসামিদের সাজা অবধারিত , কোনো পথ নেই ওদের বাঁচার , তবে আপনি চাইলে ওদের বাঁচাতে পারেন ।
আরতি বলল --- একবার দু'বার নয় , ওরা আমাকে অনেকবার মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে স্যার । ওদের ক্ষমা করার কোনো ইচ্ছে নেই আমার ।
--- আরতি, আপনি সংসার করতে চান কি ?
---- স্যার , কোন মেয়ে না চায় বলুন ?
---- কয়েকদিন আগে আপনার স্বামী এসেছিল ।
--- কি বলল সে?
---- বলল --- আমার মাকে যদি বাঁচিয়ে দেয় , তাহলে আমি সংসার করার কথা ভাবতে পারি ।
---- স্যার , সে আমাকে ভালোবাসে না । ভালোবাসার মধ্যে কোন চুক্তি থাকতে পারে না ।
আমার জীবনে যা কিছু ঘটেছে , শুধুই তার অন্ধ-মাতৃভক্তির জন্যই ।
উকিল বাবু বললেন- --- আমার মনে হচ্ছে আগামী হাজিরায় ফাইনাল রায় বেরোবে । আপনি ভাবুন আবার ।
আরতি চিন্তিত হয়ে বাইরে গিয়ে নরেশের পরামর্শ চাইল । নরেশ বলল--- এটা সম্পূর্ণ তোর নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত , আমি কী বলব ?
অনেক ভেবে উকিলের কাছে গিয়ে বলল ---- স্যার , আমি এমন একজন মানুষের সাথে সংসার করতে চাই না ।
উকিল বাবু আর কোনো কথা না বলে কোর্টে হাজিরা দিতে ডেকে নিলো তাকে।
আজ কোনো রায় হলো না ; তাকে পরবর্তী তারিখের কাগজ হাতে ধরিয়ে দিল উকিল বাবু ।
গৌহাটি থেকে বাড়ি ফিরে নরেশ বলল , " তোকে একটা সারপ্রাইজ দেবো আজ " ।
আরতি ব্যস্ত হয়ে বলল " কি সারপ্রাইজ দাদা?
--- আমরা স্কুলের সবাই পিকনিকে যাচ্ছি ।
-- বেশ তো ঘুরে আয়।
-- তোকেও নিয়ে যাবো আরতি।
আনন্দে লাফিয়ে উঠে আরতি বলল ---- দাদা , সত্যি আমাকে নিয়ে যাবি ? কোথায় যেতে চাস তোরা ?
---- ভাবছি টো-টো পাড়া যাবো এবার ।
---- বাবুকে কী করব ? নিয়ে যাওয়া যাবে ?
হঠাৎ মা এসে বলল --- সে গুড়ে বালি ,তোরা যাবি যা , আমার কোনো কথা নেই; তবে
দাদুভাইকে এতদূরে নিয়ে যেতে দেবো না আমি ।
নরেশ মনেমনে হেসে উঠল । যাক যেমন চেয়েছিলাম , তেমনি হলো । পিকনিকে গিয়ে সনাতনের সাথে ছেড়ে দিয়ে দুজনকে একান্তে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া যাবে এবার ।
যদি একজন অপরজনকে পছন্দ করে তাহলে ওদের জীবন নিয়ে ভাবার সুযোগ পাওয়া যাবে ।
জানি দুজনেই দুজনকে ভালোবাসে ওরা , আরতির সাজ-গোজ এবং উপন্যাস প্রিয়তা দেখে , আমার মনেহয় সে কোনো নতুন স্বপ্ন দেখছে আজকাল "
আরতি হাসিমুখে প্রশ্ন করল ---- দাদা , পিকনিক কবে রে ?
---- ১ লা জানুয়ারী ।
--- যা ঠান্ডা পড়েছে .....
---- আমি আজই তোর শীতের পোশাক নিয়ে আসব ।
---- থাক , চাদর তো আছেই আমার ।
---- না , সবার সাথে পোশাক মিলিয়েই তোকে নিয়ে যাবো আমি । কেউ যেন বলতে না পারে ---- তুই গরিব ।
--- দাদা , আমি তো সত্যিই গরিব , আজ যদি তোর কাছে একটু আশ্রয় না পেতাম , পথে পথে ভিক্ষা ছাড়া ....
তার কথা শেষ না হতেই মুখে হাত দিয়ে নরেশ বলল ----- এমন বলিস না আরতি , বড় কষ্ট লাগে আমার ।
আরতির দুচোখে জল এসে গেল , সে আর কোনো কথা বলতে পারল না ; কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল নিজের বিছানায় ।
নরেশ তার দিকে তাকিয়ে দেখে নিজেই ভাবল ---- না , গরিব এই কথাটা বলা বোধহয় ঠিক হয়নি আমার । আসলে কে যে কোন কথায় দুঃখ পায় ..............
সনাতনের উপন্যাস লেখার কাজ যথেষ্ট এগিয়ে এখন । নরেশ তাকে পিকনিকে যাওয়ার কথা বলতেই সে জিজ্ঞেস করল -----
--- কে কে যাচ্ছে নরেশ ?
---- আমার স্কুলের স্টাফ ।
---- আর ?
---- আর কাকে চাই তোর ?
---- আরতিকে নিয়ে চল ।
--- কী রে! আরতিকে কেন ?
---- ঠিকাছে , দরকার নেই তাহলে ।
---- যদি নিয়ে যাই ওকে ?
সনাতনের চোখে-মুখে যেন একটা হাসির আভা ফুটে উঠল । সে নরেশের দিকে তাকিয়ে বলল--- এমনি বলছিলাম । তুই কিছু মনে করলি নাতো ?
নরেশ হেসে বলল , " অনীশ বাবু , আপনার উপন্যাসের প্লট খুঁজবেন তো ?
সনাতন খানিক সময় চুপ করে কি ভেবে আবার বলল , ' ' হ্যাঁ রে , জায়গাটা কেমন ? বন-জঙ্গল আছে নাকি সেখানে ?
--- তা একটু আছে । তবে এই টোটোপাড়া নিয়ে অনেক গবেষণা চলছে ।
এই জঙ্গলে যে আদিবাসীদের বাস, তাদের বলে টোডো। তারা এখনো শিক্ষিত হয়নি, এমনকি , বেশি বয়সী টোটোরা প্রায় পোশাক ছাড়াই থাকে এখনো । গভীর জঙ্গলে এদের ছোট ছোটো ঘর , লোকালয়ে খুব কম আসে এরা ।
সনাতন নরেশের সমস্ত বর্ণনা মন দিয়ে শুনে বলল , " এমন একটা জায়গা আমি মনেমনে খুঁজছিলাম , যাক ভালোই হলো তাহলে " ।
আরতির আজ হঠাত্ বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ে গেল । ভাবছে আজ একটা চিঠি লিখি বাবার কাছে । কি আর লিখি ----- হায়রে !এতকিছু হয়ে গেল আমার জীবনে , অথচ দায়িত্বহীন জন্মদাতার আসার নাম নেই । আগের পত্রে সে লিখেছিল , এখন নাকি সে এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি হয়েছে । বেশ মজাতেই আছে আমাকে জলে ভাসিয়ে। আমার সারাটা জীবন মাটি হয়ে গেল শুধুই এই মানুষটার খামখেয়ালীপনার জন্য । একবার এসে রেখে গেল এক অমানুষের বাড়ি , পরেরবারে এসে বিয়ে দিলো আরেক অমানুষের সাথে । আসলে আমার ভাগ্যটাই খারাপ । তবুও প্রণাম জানাই তাঁকে এই পৃথিবীতে আনার জন্য ।
সামান্য কয়েকটা বাক্যে চিঠি লেখা শেষ করে দাদার হাতে দিয়ে বলল , " দাদা , আমার চিঠিটা একটু পোস্ট করে দিবি ?" ।
নরেশ চিঠিটা হাতে নিয়ে রেখে দিলো তার জামার পকেটে ।
আজ স্কুল থেকে ফিরে আরতিকে ডেকে নরেশ একটু ঝাল মুড়ি খেতে চাইল। সে আরতিকে ডেকে বলল-- আরতি, একটু ঝালমুড়ি মেখে দিবি?
কোন কথা না বলে সুন্দর করে মুড়ি মেখে দাদার হাতে দিতেই দাদা বলল , " বোস আমার কাছে , কথা আছে " ।
আরতি দাদার বিছানায় বসে বলল , " কী বলবি দাদা ?
--- তোর অনেক পরিবর্তন দেখছি আজকাল ।
--- কোথায় ? আমি তো যেমন ছিলাম তেমনি আছি দাদা।
নরেশ মুড়ি চিবোতে চিবোতে বলল
----- স্বামীর ঘরে তো যাবি না বললি । নতুন কোনো স্বপ্ন দেখা যায় কি ?
---- দাদা , আর কেন ? তুই তো আছিস ।
--- আরতি আমি বিয়ে করলে বৌ তোকে মেনে নেবে কিনা জানি না ।
ক্ষণকাল স্তব্ধ হয়ে কী ভাবতে ভাবতে আরতি বলল , "দাদা , কী বলছিস তুই ; আমি এত অনিশ্চিত জীবনে আছি ?
--- না , না অনিশ্চিত নয় রে , কথার কথা
বলছি । আরতি আর কোনো কথা বলতে পারল না , সে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে নরেশ তাকে ডেকে বলল-- যাচ্ছিস কেন?
, " দাদা , অনেক কাজ পড়ে রয়েছে রে , যাই " বলে চলে গেল আরতি ।
সনাতন ঘরে বসে নিজের জীবনে নিয়ে অনেক ভাবনা ভাবছে।
কিন্তু আরতিকে ছাড়া সে কিছুই ভাবতে পারছে না।
আজ মেয়েটা নরেশের বাড়িতে আছে একটা সুন্দর সম্পর্ক নিয়ে , কিন্তু এই সম্পর্ক দাদার বিয়ের পরে কতটা থাকবে , তা ভগবানই জানে । কিন্তু আমার কিছুই করার নেই।
কতবার তো মনের কথা বোঝাতে চেয়েও ব্যর্থ হয়ে গেছি। আরতির যদি আমার কথাটা বুঝতে পারত, তাহলে কী এই দিনগুলি দেখার জন্য আমাকে বাঁচতে হতো? না
কিন্তু সেদিন আরতি বলেছিল- - সে অনীশ বাবুকে ভালোবেসে ফেলেছে । তাহলে পিকনিকে গিয়ে আমি কি অনীশ বাবুর পরিচয় দিয়ে দেবো ? বিশ্বাস করবে কি সে ? ঠিকাছে আমি চেষ্টা তো করি একটু ।
ভাবতে ভাবতে একটা কাগজে সুন্দর চিঠি লিখে ফেলল সে। সে লিখল--" আরতি , তোমার সাথে আমার অনেক কথা আছে । পিকনিকে যাবে তো ? আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাস না । আমি তোমার অপেক্ষায় বসে আছি আজও । ভালো কথা ----- আমি জানি তুমি অনীশ বাবুকে ভালোবাস । অনীশ বাবুর সাথে দেখা করতে চেয়েছিলে তুমি । আমি পিকনিকে গিয়ে তাঁর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো তোমাকে । কাউকে বলবে না কথাটা ।
ইতি -- অবহেলিত
চলবে ------

Mar 01, 20
0
0
0
0
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতী ( পর্ব ৩৬)


ইতিমধ্যে মামলার বেশ কয়েকটি হিয়ারিং হয়ে গেল।
শাশুড়ি এখন জামিনে ছাড়া পেয়েছে। হাজিরা দিতে গেলেই দেখা হয়ে যায় শাশুড়ি এবং স্বামীর সাথে। একটিবারও আরতির কাছে আসে না তারা, নিজের ছেলেটা পর্যন্ত দেখতে আসে না কৃষ্ণকান্ত । তাদের অমানবিক ব্যবহারে আরতির মনে সংসার করা ইচ্ছে বিলীন হয়ে গেল।
মাঝে গাওবুড়ো একবার কেস মেটানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শাশুড়ি এবং বরের একটাই কথা-- যে বৌ আমাদের জেলে পাঠাল, তার সাথে আর সংসার করার ইচ্ছে নেই।
দেখতে দেখতে আদালতে আসামিদের সাজা ঘোষণা হলো।
কৃষ্ণকান্ত সমস্ত জমিজমা বিক্রি করে হাইকোর্টে আপিল করল।
কেসের টাকা যোগাড় করতে কৃষ্ণকান্ত একেবারেই নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে; তবুও তাদের দেমাক কমল না।
দেবকী দেবি খামখেয়ালি করে ছেলেকে আবার বিয়ে দিয়ে বসল।
মামলা ক্রমশ জটিল হতে জটিলতর হতে থাকল।
আরতি এবার নতুন করে খোরপোষের মামলা করে বসল।
কয়েকবার আদালত অবমাননা হলেও কৃষ্ণ আরতির খোরপোষের টাকা জমা দিতে পারল না।
সর্বশেষ আরতি উকিলের সাথে পরামর্শ করে ডিভোর্সের মামলা দায়ের করল।
আরতি অনেক চিন্তা ভাবনা করেছে সংসার করা নিয়ে; সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষ্ণকান্তের সাথে আর সংসার নয়।

একদিন কেসের হাজিরা দিতে নরেশ আরতিকে নিয়ে গেল গৌহাটি হাইকোর্টে।
সেদিন ডিভোর্সের মামলার শুনানি।
---- হাকিম অনেকবার বলল , আপনার একটি ছেলে আছে , আপনি সংসার করবেন না কেন ?
আরতি পরিষ্কার বলল , যেখানে নিরাপত্তা নেই , আমি কীভাবে সংসার করব স্যার ?
সর্বশেষ তাদের ডিভোর্সের চুড়ান্ত রায়ের তারিখ ঘোষণা হলো।
কৃষ্ণকান্তকে কয়েক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় হবে বলে উকিল বাবু বললেন।ক্ষতিপূরণের টাকা জমা না দিলে আবার নতুন করে কেস করতে হবে আরতিকে।
কৃষ্ণকান্তের ক্ষমতা নেই এত টাকা দেওয়ার, আরতি তা জানে।
আরতি ভাবল-- যার সাথে সংসার হলো না, তার টাকাপয়সা নিয়ে আর কী হবে? সে মন থেকে টাকাপয়সা পাওয়ার কথা ছেড়েই দিলো
ফেরার পথে নরেশ বলল-' সংসার তো শেষ হলো তোর, এবার নিজের জীবন নিয়ে একটু ভেবে দেখা দরকার আরতি।
---- আর কিছুই ভাবতে পারছি না দাদা । আসলে সুখ আমার কপালে নেই, আমি এইভাবেই ছেলের দিকে তাকিয়ে জীবন কাটিয়ে দেবো।
নরেশ আর তেমন কিছু না বলে ভাবল-- ঠিক আছে, বাড়ি গিয়ে কথা বলা যাবে।

একদিন নরেশ সনাতনের প্রসঙ্গ তুলে বলল--আরতি সনাতন তোকে এখনো ভালোবাসে জানিস?
--- দাদা , আমি যখন প্রথম আসি, তখন বুঝতে পেরেছিলাম; কিন্তু আমি সাড়া দিইনি।
--কেন?
-- দাদা রে ! ভালোবাসা আমার জন্য নয়। আমি এভাবেই কাটিয়ে দেবো ছোট্ট জীবনটা।
-- সনাতন মায়ের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও বিয়ে করছে না।
--- তাই নাকি? কেন বিয়ে করছে না সনাতন বাবু?
-----' তোকে পায়নি বলে।
--- তুই বলিস কী দাদা! লোকটা এত পাগল!
--- হ্যাঁ সে তোকে পাগলের মতো ভালোবাসে। একটাই বক্তব্য তার," আমি আরতিকে ভালোবেসেই জীবন কাটিয়ে দেবো"।
--- বলিস কী রে? এমন অন্ধ ভালোবাসার কী মুল্য আছে তার ?
-- সে তোর ভালোর জন্য প্রয়োজনে সর্বস্ব বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত "।
আরতির মন বোধহয় একটু হলেও দুর্বল হয়ে গেল।
তার চোখে মুখে একটা প্রসন্নের হাসি ফুটে উঠল একঝলক । তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল ---- দাদা , এত কিছুর পরে আবার বিয়ে? মানুষ কী বলবে বল তো ?
আমি বরং সনাতন বাবুকে বুঝিয়ে বলব একদিন।
--- কী বলবি ওকে ?
--- দাদা , আমি ওকে বুঝিয়ে বলব আমার জন্য যাতে ওর জীবনটা নষ্ট না করে, বলব একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিতে।
---- যদি সে একান্তই তোকে চায় ? যদি বলে , " আরতি আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব
না " তাহলে ?
-- দূর বোকা! ওকে আমি বুঝিয়ে বললে নিশ্চয়ই বিয়ে করবে; তুই কথা বলিয়ে দিস আমার সাথে একদিন।
নরেশ লক্ষ্য করল আরতীর মুখটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে; সে মুখে অন্যকিছু বললেও, তার চোখের ভাষা বলছে অন্যকথা।
সে ভাবল আজ আর নয় , পরে আরেকবার কথা বলে দেখব ।
সনাতনকে ও যদি সত্যিই ভালোবাসে তাহলে ওর আদব-কায়দা নিশ্চয়ই পাল্টে যাবে। ওর চাল-চলন প্রমাণ দেবে ওর মনের কথা।

হঠাত্ অনেক পরিবর্তন দেখা দিলো আরতির আচার আচরণে । রাতে একটা উপন্যাস চাই তার । উপন্যাস পড়তে পড়তে তার মন যেন রোমান্টিকতায় ভরে উঠল । এখন বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক এবং সাজ-গোজ করে থাকতে ভালোবাসে সে ।
নরেশের মাঝেমধ্যে মনেহয় ---- এটা সেই আরতিই নয় । মুখে মিষ্টিহাসি , হরিণীর মতো চঞ্চল চোখ , একগুচ্ছ পরিপাটি করে রাখা কালো চুল এবং পরিচ্ছন্ন পোশাকে অপূর্ব লাগে তাকে এখন । মাঝেমাঝে নরেশের মনেও সন্দেহ জাগল, তার জীবনের ছন্দবদলের জন্য । তবে সংসারের কাজকর্মে কোন কমতি নেই তার । মা এখন পুরোপুরি তার উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে ।
আরতির বাচ্চাটির বয়স পাঁচ বছর হয়েছে । একটি রঙিন ছড়ার বই এনে দেওয়ায় অন্য বাচ্চাদের সাথে স্কুলে যায় সে ।
সুন্দর ব্যবহার এই মিষ্টি ছেলেটির । যেমন দেখতে সুন্দর , তেমনি তার মানুষকে ডাক-খোঁজ করা । কোন বয়সের মানুষকে কি সম্পর্ক নিয়ে ডাকতে হবে , আর তাকে শেখাতে হয়না আজকাল ।
বাচ্চাটা নরেশের মায়ের প্রাণ হয়ে উঠেছে ।
রাতে মাঝেমাঝেই দিদার কাছে থাকার বায়না ধরে সে । আরতি দু'একদিন রাতে ঘুমাতেও দিয়েছে দিদার কাছে । নরেশ স্কুল থেকে ফেরার পথে কিছু না কিছু হাতে আনতেই হবে এই ভাগনের জন্য ।
নরেশের বন্ধু শঙ্কর মাঝেমাঝেই চলে আসে অকারণেই নরেশের বাড়িতে । আসলে শঙ্করের খুব ভালো লাগে আরতিকে । আরতির হাসিমুখ দেখলেই তার মনের সমস্ত গ্লানি বিলীন হয়ে যায় , মনটা ফ্রেস হয়ে যায় একেবারে ।
কখনো সে আরতিকে নিয়ে বাজে ভাবনায় মগ্ন নয় যদিও । যখনি তার মনটা নানা দুশ্চিন্তায় হতাশাগ্রস্ত হয় --- তখনি নানা অজুহাতে নরেশের বাড়ি এসে মিষ্টি আরতির হাসিমুখ এবং দুটো কথা শুনে চলে যায় ।
তার চোখের চাহনি দেখেই আরতি বুঝে ফেলেছে তার আসার কারণ । তবুও তার সাথে হাসিমুখে কথা বলে সবসময়ই । কারণ সে জানে --- শঙ্করদা তার চোখের তৃষ্ণা মেটাতেই আমার দিকে চেয়ে থাকে ; অন্যকোনো বাজে মতলব তার নেই ।
কয়েকবার সে আরতিকে তার বাড়ি নেওয়ার কথা বলেছে ,একবার বাড়িতে পূজো একবার তার বোনকে দেখতে আসবে এইসব কথা বলে ।
মা তাকে যেতে দেয়নি । আসলে মেয়েটা মানুষের চোখেধরা রূপসী , তাতে আবার ভাগ্যটা ভালো নয় । কী জানি আবার কারো কুনজরে পড়ে আবার কোন্ আশান্তি আসে ওর জীবনে; তাই নানা অজুহাতে আরতিকে যেতে দেয়নি।
একদিন দুপুরবেলা সনাতন আরেকটা উপন্যাস নিয়ে এসে "আরতি", আরতি " বলে ডাকতেই সে বেরিয়ে এসে বলল , " সনাতনদা এসো, এটাও কি অনীশ বাবুর উপন্যাস তোমার হাতে ?
---- হ্যাঁ আরতি , পড়বে তুমি ?
--- পড়বো না মানে ? দাও আমাকে ।
সনাতন উপন্যাস হাতে দিয়ে বলল বাড়ির সবাই কোথায় ?
--- দাদা স্কুলে , মা গিয়েছে নাতিকে নিয়ে স্কুলে ।
" তাহলে আমি যাই " বলতেই আরতি বলল " কেন ?' আমাকে ভয় লাগে তোমার ?
সনাতন হো হো করে হেসে বলল ," একদিন আমার সাথে একটু কথা বলতে তুমি যেমন আমাকে ভয় পেতে , ঠিক তেমন " ।
--- আচ্ছা সনাতনদা ?
---- বল ।
--- তুমিও আমার মতো অনীশ বাবুর প্রেমে পড়েছ নাকি ? মানে উপন্যাসের প্রেমের কথা বলছি ।
---- হ্যাঁ আরতি , আমি উপন্যাস খুব ভালোবাসি পড়তে ।
--- অনীশ বাবু কি দারুণ লেখে ! যেন কলমে যাদু দেওয়া আছে তাঁর ।
--- তাই ?
--- ঠিক তাই সনাতনদা । আমার লোকটাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে ।
-- ঠিকাছে , আমি একদিন চিনিয়ে দেবো তোমাকে ।
---- সত্যি বলছ ? তুমি চেন তাঁকে ? কোথায় বাড়ি তার ?
সনাতন আবার হেসে বলল --- যাক , আমি তোমার মন না পেলেও অনীশ বাবু পেয়েছে । লোকটা ভীষণ ভাগ্যবান মানতে হবে ।
আরতি লজ্জা পেয়ে নীচের দিকে তাকিয়ে রইল ক্ষণকাল । একটু পরেই উপর দিকে তাকিয়ে দেখল , সনাতন ড্যাব্ ড্যাব করে তার মুখের দিকে চেয়ে রয়েছে , তার চকচকে চোখ থেকে যেন একটা রক্তিম আভা বেরিয়ে তাকে দগ্ধ করছে । নাঃ ! এই চোখের দিকে চোখ ফেলা যাচ্ছে না! আরতির হৃদয় চমকে উঠল; বিলম্ব না করে দৌড়ে চলে গেল ঘরে। সনাতন অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল উদ্দেশ্যহীন ভাবে ।
হঠাৎ " কি সনাতন ! কেমন আছিস ? " মাসিমার ডাক শুনে চমকে উঠল সে ।
---- ," বারান্দায় কেন দাঁড়িয়ে ? আরতি তো বাড়িতেই বসতে বলেনি বুঝি ? আয় ঘরে আয় " বলতেই সনাতন বলল , " মাসিমা , আমি পরে আবার আসব " বলে চলে গেল ।
সনাতন চলে যাওয়ার পর আরতি ভাবনার সাগরে ডুবে গেল ।
হারিয়ে গেল অতীতের নানান স্মৃতির জালে । সত্যি কী এমন বয়স হয়েছে আমার ! এত ঘটনাবহুল আমার জীবন নাটিকা ! কী পেলাম জীবনে ? কেন ঘটল এতকিছু আমার জীবনে ?
আবার কেন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে চায় আমার অবুঝমন ? নাঃ ! আর নয় ! আমার ছেলেটিকে মানুষ করতে হবে । এইভাবেই জীবন কাটিয়ে দেবো আমি । চাইনা জীবনে আর কিছু আমি ।

----- চলবে

Mar 01, 20
0
0
0
0
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতী ( পর্ব ৩৫)


রাতে "পল্লিমেয়ে " উপন্যাস এক
নিশ্বাসেই যেন পড়ে ফেলল আরতি ।
ঘটনাবহুল এই উপন্যাসে রয়েছে পল্লিগ্রামের সাধারণ মেয়ে নেহার জীবনগাঁথা। নেহার চরম দুর্দশার কাহিনি পড়তে গিয়ে আরতি অনেকবার চোখের জলে ভেসে গেল।
আশ্চর্যজনক ভাবে নেহার জীবনের সাথে হুবুহু তার মিল । পড়ার সময় ভাবছিল , আমি কি আমার বায়োগ্রাফি পড়ছি?
নেহার জীবনের সাথে আমার জীবন এত মিলে যাচ্ছে কেন?
ঔপন্যাসিক বাস্তব ঘটনাকে একটু রঙ মাখিয়ে জীবন্ত করে লেখে জানি, কিন্তু
কীকরে আমার সাথে হুবহু মিল হলো?পরক্ষণে ভাবল-- হতে পারে আমার মতো কোনো অভাগীর জীবনেও এমন ঘটনা ঘটেছিল?
কারণ,বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তো শুধুমাত্র একজন আরতির জীবনেই এমন ঘটনা ঘটেনি, আমার মতো ঘটনা অনেক ঘটেছিল, হয়তো আমার মতো কমন ঘটনা নিয়েই লিখেছে লেখক।
তবে যাই হোক লেখা পড়ে মনে হয় যেন শরত চন্দ্রের লেখা পড়ছি; বড় সুন্দর রচনাশৈলী এই লেখকের।
চিন্তিত আরতি সকালবেলা বইটা নরেশকে ফেরত দিলো।
নরেশ হাসিমুখে বলল ---- কী রে ? কেমন লাগল পড়ে?
--- দাদা , খুব সুন্দর লেখেন এই অনীশ বাবু; একদম জীবনমুখী লেখা। আচ্ছা দাদা,
এই লেখকের আরো কোনো বই আছে তোর কাছে ?
-- আমার কাছে নেই , একটাই কিনেছিলাম?
--- ইনি তো শুধুমাত্র একটা বই'ই লেখেননি, বাজারে নিশ্চয়ই আছে দাদা।
---- কেন রে আরতি ? তুই একটা বই পড়েই লেখকের ফ্যান হয়ে গেলি?
---- হ্যাঁ রে দাদা , আমি সত্যিই লেখকের ফ্যান হয়ে গেলাম। এমন উপন্যাস পেলে আমি রোজই পড়ব। পারলে আরো এনে দিবি আমাকে, কী দারুণ লেখেন ইনি !।
---- আচ্ছা দেবো ।
নরেশ চিন্তিত হয়ে ভাবল, সনাতন আরো কোন বই প্রকাশ করেছে কি? যদি না করে, তাহলে আরতিকে দেবো কী করে? তাই সে আমতা আমতা করে স্কুলের বেলা হয়েছে বলে চলে গেল স্নানে ।
স্কুল থেকে ফিরে সনাতনকে খোঁজ করেও তার দেখা পেল না নরেশ। তার মা এসে নরেশকে বসতে দিয়ে বলল-- সে একটা জরুরী কাজে কলকাতা গেছে ; দুদিন পর নাকি ফিরে আসবে।
নরেশ অবাক হয়ে ভাবল, তাহলে ছেলেটি আজকাল কোলকাতা যাচ্ছে? তাহলে কী কোলকাতা থেকে ওর উপন্যাস প্রকাশিত হয়?
সে মাসিমার দিকে চেয়ে বলল -- ঠিক আছে মাসিমা, আমি যাই তাহলে।
-- একটু বোস বাবা,তোর সাথে আমার কথা আছে।
নরেশ মাসিমার দিকে তাকিয়ে বলল-- বলো কী বলবে মাসি।
-- বলছি,সনাতন ব্যবসা ট্যাবসা বন্ধ করে দিয়ে , ঘরে বসে শুধু কী যেন লেখে।
আচ্ছা বাবা , ও কি পড়াশোনা করল?
এই বয়সে পড়াশোনা করলে কি তোর মতো চাকরি জুটবে কপালে?
--- মাসি, চাকরি পাওয়ার মতো যোগ্যতা ওর নেই।
-- তাহলে, সংসার কী করে চলবে বাবা?
তুই ওকে বুঝিয়ে লাইনে এনে দে বাবা।
নরেশ হেসে বলল ---- মাসিমা , আমি বুঝিয়ে বলব ওকে ।
" আমি আজ আসি " বলেই নরেশ বাড়ি ফিরে গেল ।
কয়েকদিন পরে সনাতন বাড়ি ফিরল। হাতে দুটি বই নিয়ে বিকেলে চলে এল নরেশের বাড়িতে।
নরেশকে বাড়ি না পেয়ে সনাতন চলে যাচ্ছে দেখে আরতি দৌড়ে এসে তাকে বসতে দিলো।
সে বলল ------ নাহ্ বসব না , নরেশ এলে আবার আসব নাহয় ।
----- কেন? বসো না সনাতন দা ।
----- না , চলি , ও এলে বোলো আমি এসেছিলাম ।
----- তোমার হাতে এগুলি কি বই দেখি ।
---- দুটো উপন্যাস ।
---- অনীশ বাবুর লেখা ?
---- হ্যাঁ , কিন্তু তুমি কিকরে বুঝলে ?
---- আমার প্রিয় লেখককে আমি চিনব না ?
তার লেখা পল্লির মেয়ে পড়েছি তো আমি ।
---- কেমন লেগেছে পড়তে ?
---- তুমি পড়নি সনাতন দা? অসাধারণ ! অসাধারণ উপন্যাস।
কয়েকবার পড়েও তৃপ্তি মেটেনি । ইচ্ছে করছে আরো পড়ি ।
সনাতন হেসে বলল-- পড়েছিলাম আমিও।
-- তোমার কেমন লেগেছে সনাতন দা?
-- ভালো ; আমার হাতে এদুটোও অনীশবাবুর উপন্যাস ; পড়বে তুমি?
--- পড়ব না মানে? দাও না আমাকে?
সনাতন রঙিন মলাট লাগানো উপন্যাস দুটি আরতির হাতে দিয়ে বলল ----- এই নাও, পড়ে নিও অবসরে।
আরতি বই দুটো লুফে নিয়ে কয়েকটা পাতা উল্টে নাম দুটো দেখেই বলল-- সনাতন দা আমাকে এখন রান্না করতে হবে। তুমি বোসো, আমি যাই?
সনাতন হেসে বলল-- আমিও ব্যস্ত, তাহলে চলি আমি।
রান্নাঘরের কাজ শেষ করে আরতি বই দুটো উল্টে দেখল খানিকক্ষণ , একটা উপন্যাস " ছন্নছাড়া " অপরটি " অসহায়া নারী "
রাতে একটা উপন্যাস ছন্নছাড়া পড়ে শেষ করল আরতি।
ছন্নছাড়া উপন্যাসে দেখল-- নায়ক অত্যন্ত প্রেমিক মানুষ। নায়িকাকে স্নানের ঘাটে নিখুঁতভাবে দেখে তার প্রেমে পড়ে , প্রেম নিবেদন করার সাহস নেই নায়কের; নায়িকাকে তার প্রতি আকৃষ্ট করাতে নিজেকে নতুন করে আকর্ষণীয় করে তোলার প্রচেষ্টা করে, নায়িকা তার দিকে চেয়েও দেখছে না; হাজার চেষ্টা করেও নায়িকাকে কাছে পেল না।
আরতি লক্ষ্য করল-- এটাও হুবহু তার জীবনের সাথে মিলে যাচ্ছে!
আরতির মনে পড়ল সনাতনের সেই দিনগুলো কথা ; সত্যিই তো সে আমাকে কাছে পেতে কতই না চেষ্টা করেছে! আমার জীবনের সাথে এটাও দেখি মিলে যাচ্ছে ।
লেখক অনীশ বাবু কি আমার জীবন নিয়েই সব লেখে ? অর্ধশিক্ষিত আরতি সারাদিন ভেবেই চলেছে।
সনাতনকে ইদানিং রাস্তা-ঘাটে একেবারেই দেখা যায় না । নরেশ একটু সময় পেলেই তাকে সঙ্গ দিতে চেষ্টা করে।
আসলে পাড়ায় বন্ধু বলতে তো তার সনাতন ।
নরেশ সনাতনকে জিজ্ঞেস করল-- তুই কী করে এসব লিখিস?
সনাতন হেসে বলল-- জানিস নরেশ, জীবনে পাওয়ার চেয়ে না পাওয়ার আনন্দটাই বেশি; যদি কেউ তার চাওয়া পাওয়ার সবই সহজে পেয়ে যায়, তাহলে সে কোনোদিন কবি বা সাহিত্যিক হতে পারে না।
নরেশ মাথায় নেড়ে সম্মতি জানাতে থাকল আর সনাতন তার আলোচনা চালিয়েই যাচ্ছে ।
সে বলে চলেছে বিভিন্ন সাহিত্যিকের জীবন কাহিনী ।
দ্যাখ নরেশ, সবার জীবনেই ছিল একজন নারী। কাছে পেতে চেয়েও পায়নি, অথচ সেই নারীর প্রেরণায় তৈরি করেছে বিপুল রচনা।
নরেশ হেসে বলল-- ঠিক বলেছিস, তোর জীবনে যেমন আরতি।
-- হ্যাঁ রে নরেশ; আরতিকে কাছে পেলে হয়তো আজ আমি এমন লিখতেই পারতাম না।
ইদানিং আরতিকে নিয়ে কোনো কথাই বলে না সনাতন ।
নরেশ অবাক হয়ে ভাবছে ---- কি হলো ছেলেটার ? দু'দিন আগেও যে আরতি ,আরতি বলে আমার মাথা খারাপ করে দিতো , আজ হঠাৎ কেন তার প্রেমিকার প্রতি এত আগ্রহহীনতা ?
যাক , বেচারা সাহিত্যজগতে ডুবেছে , ভালোই হয়েছে । লেখার হাত খুবই ভালো ওর । আমি ইচ্ছে করে আর কিছুই বলব না ওকে ।
অনীশের লেখা উপন্যাস মার্কেটে প্রচুর চলছে আজকাল । বাজারে সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে এই অজ্ঞাত লেখকের প্রতি ভীষণ কৌতুহল । লেখকের প্রতিটি লেখাই হচ্ছে জীবনমুখী, অতি সাধারণ মানুষের জীবনগাঁথা । তার লেখা কাহিনি পরিবারে সবাই একসাথে বসে পড়ার মতো ;নোংরামীভরা, পঙ্কিলতাপূর্ণ কোনো সাহিত্য নয় । প্রতিটি লেখাই হচ্ছে অসহায় নারীদের সপক্ষে , নারীর জীবনের অসহায়ত্ব এবং সমাজের নারীর প্রতি অবিচারের একটা পরিচ্ছন্ন জেহাদ ঘোষণা করে তার লেখা ।
কথা সাহিত্যিক শরৎ চন্দ্র যে আদলে লিখেছিলেন , অনেকটাই তেমনই ।
আরতি নিজেও এই লেখকের প্রতি অত্যন্ত অনুরক্ত ; কারণ, তার জীবনের সাথে অনেকটা ম্যাচ করে যায় ঘটনাবলী।
ক্রমশ- -'

Mar 01, 20
1
1
1
0
Manoranjan Das

Manoranjan Das

Star Point: 4.24 of 5.00

উপন্যাস

আরতী ( পর্ব ৩৪)


নিতাই কাকুকে নিয়ে গাওবুড়োর বাড়িতে আলোচনায় বসল নরেশ, সাথে শঙ্কর এবং সনাতন; বিষয় আরতিকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া।
গাওবুড়ো কৃষ্ণকান্তকে ডেকে বলল-- কৃষ্ণ তুমি নিজের বৌকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছ বারবার; এবার কী করবে বলো?
কৃষ্ণ রেগে বলল-- আমি আমার বৌকে কোথাও যেতে দেবো না,ও আমার কাছেই থাকবে।
" দেখো কৃষ্ণ, তুমি কোনো কথাই রাখতে পারনি এযাবত্; আমি তোমার পেছনে নেই" , এই কথা বলে গাওবুড়ো আরতির দিকে তাকাল।
আরতি কেঁদে কেঁদে বলতে থাকল-- আমি এখানে একটি ঘন্টাও থাকব না কাকু। আমি আমার দাদার সাথে চলে যাবো, আপনারা অনুমতি দিন।
--- সে তোমার ব্যপার মা, তুমি যদি যেতে চাও, আমি বাধা দিতে পারি না; তবে কিন্তু মাঝেমাঝে কেসের হাজিরা দিতে হবে একথা যেন মাথায় থাকে তোমার; তারপর তোমার যদি কোনোদিন ইচ্ছে করে সংসার করতে; তখন তুমি এসো; আমি জোর করব না।
--- কাকু, আপনারা ছিলেন বলেই আমি আজো বেঁচে আছি, আপনাদের ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না।
-- কী আর করতে পারলাম মা? পারলাম না তোমার সংসার রক্ষা করতে।
আরতি গাওবুড়োর দিকে তাকিয়ে বলল-- কাকু, তাহলে দাদার সাথে চলে যাচ্ছি আজ?
গাওবুড়ো নরেশের হাত ধরে বলল-- বাবা, বোন-ভাগনাকে তুমি দেখো, আর দেরি না করে আমার বাড়িতে সামান্য খাওয়া দাওয়া করে বেরিয়ে পরো তাহলে।
গাওবুড়োর অনুরোধে সবাই তার বাড়িতে খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়ল রাস্তায়।
আরতি বাচ্চা নিয়ে যখন বেরিয়ে যাচ্ছে, পাড়ার মহিলাদের ভিড় জমে গেল তার চারদিকে ।
তাকে ধরে রাখতে জড়পদার্থ স্বামী একবারও এগিয়ে এল না । আজ পাড়ার কারো সাহস নেই তাকে ধরে রাখতে
সকলের একটাই বক্তব্য ----- মেয়েটা কোন সাহসে থাকবে এখানে ? হায়রে অভাগী !তোর দিকে তাকালে দেবীও যেন হার মেনে যায় , এত সুন্দর রূপের বাহার তোর দেহে , অথচ কী দুঃখ তোর জীবনে ! কী ভাগ্য নিয়েই জন্মেছিলি রে তুই !
সে পাড়ার সবাইকে চোখের জলে প্রণাম করল, সবাই চোখের জল মুছে দৌড়ে পালাচ্ছে আড়ালে গিয়ে একটু কাঁদতে ।
প্রতিবেশীদের দিকে তাকিয়ে বলল ---- আমার বেঁচে থাকার আর ইচ্ছে হয় না , তবুও এই বাচ্চাটার জন্য বাঁচতে হবে আমাকে , আপনারা আমাকে আশির্বাদ করুন ।
গাওবুড়ো আবার আরতীর দিকে তাকিয়ে আবার বলল , " বৌমা , যাচ্ছ যাও , বাধা দেবোনা , তবে ওদের বিরুদ্ধে কেসের তুমি মুখ্য সাক্ষী; কেসের হাজিরার তারিখ পড়লেই ---- তুমি আসবে কোর্টের হাজিরা দিতে । এই কথা মাথায় রেখো কিন্তু ।
আরতী মাথা নেড়ে তাকে প্রণাম করতে গেলে বাধাদিয়ে বলল ----- আমি কি করে তোমার প্রণাম নিই মা ? পাড়ায় থেকেও আজ তোমার মতো লক্ষ্মীপ্রতীমার গ্রাম ছেড়ে যেতে হচ্ছে , এটা সত্যিই বেদনাদায়ক; যাও ভালো থেকো তুমি ।
আরতি রাস্তা চলতে শুরু করল, সাথে নিতাই কাকু, শঙ্কর এবং সনাতন । যতদূর তাদের চোখে পড়ে ততক্ষণ পাড়ার লোকেরা তাদের দিকে চেয়ে রইল।
বেচারা মাতৃভক্ত অবিবেচক কৃষ্ণ একটিবারও আরতির দিকে বা নিজের বাচ্চার দিকে তাকিয়েও দেখল না । কেন তার মাকে পুলিশের হাতে তুলে দিল ? এই ক্ষোভে সে আরতির দিকে তাকিয়েও দেখল না ।
কৃষ্ণের ব্যবহারে নরেশ আরো বেশী দুঃখ পেল । হায়রে বোনের স্বামী ! এমন একটা মানুষের সাথে এতগুলো দিন কী করে থাকলো আরতি ?

সবাই মিলে নিতাই কাকুর বাড়ি রাতটুকু থেকে সকালেই তারা রওনা হয়ে গেল।
বাড়ি পৌঁছেই আরতি মা , মা করে ডাকতেই মা বেরিয়ে এল । তাকে বিধবা বেশে দেখে চিৎকার করে উঠল আরতি ।
---- মা ! একি ! বাবা !
---- তুই জানিস না মা ?
---- না তো ! দাদা , তুমি বললে না কেন ?
নরেশ মনটা খারাপ করে বলল ---- তোর এই দুর্দশায় আমার মুখেই আসেনি বোন । যে দুঃখের সাগরে ভাসছিলিস , তার মধ্যে আরেকটা দুঃখ দিতে চাইনি রে বোন ।
মা সবিস্ময়ে বলল ---- হ্যাঁ রে মা , তোর এত কষ্ট ছিল !
---- মা , তোমার ছোঁয়ায় আমার সব কষ্ট দূর হয়ে গেল আজ।
বাচ্চাটাকে মায়ের কোলে দিয়ে আরতি কাঁদতে কাঁদতে বলল ---- মা , আজ আমি শুধু ওর দিকে তাকিয়ে বেঁচে আছি । মাগো ! এত কষ্টে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না কোনোদিন ।
এবার আমি তোমাদের বাড়ির সব কাজ করে দেবো , আমার শেষ আশ্রয় তোমরা । আজ যদি আমার জন্মদাতা বাবা এসেও আমাকে নিয়ে যেতে চায় , আমাকে তোমার বুক থেকে তুলে নিতে পারবে না। আমার জন্মদাতা সেই অধিকার হারিয়ে ফেলেছে মা।
নরেশ লক্ষ্য করল সনাতন পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে । আসাম থেকে ফেরার পথে সে কোনো কথাই বলছিল না । আরতির সাথে কোনো কথা বলা তো দূরের কথা , একটিবার তার মুখের দিকেও তাকিয়ে দেখেনি সে । বারবার বলছিল --- নরেশ , আরতির এই কষ্ট দেখার আগে আমার কেন মরণ হলো না । আমার ইচ্ছে করছে আমার জীবনের সমস্ত সুখ ওকে দিয়ে সুখী করি ।
নরেশ বারবার বলছিল ---- দুর্ বোকা ! আমি মাঝে মাঝে তোর কথাই বুঝি না । কী বলিস আর কি না বলিস .......
কয়েদিনের মধ্যে আরতির শারীরিক এবং মানসিক অনেক উন্নতি হলো । তার সুন্দর দেহের সৌন্দর্য যেন আরো বেড়ে গেল । আবার গ্রামের লোক তার সৌন্দর্যে যেন আকৃষ্ট হচ্ছে ।
একদিন নরেশ তার সাথে বসে ভবিষ্যত্ নিয়ে নানা কথা বোঝাতে চেষ্টা করল ।
আরতি বলল ----- আমাকে আবার তুই ভবিষ্যত্ বোঝাতে চাস কেন দাদা ?
---- তোর জীবনের অনেকগুলো দিন এখনো পড়ে রয়েছে বোন । আমার মনেহয় তোর আবার একটু চিন্তা করা দরকার ।
---- দাদারে ! পৃথিবীর কোনো সুখ আমার জন্য নয় । আমি পেটে দুমুঠো খেয়ে একটা নিরাপদ আশ্রয় চাই শুধু । যেখানে থাকবে না কারো লোলুপ দৃষ্টি , থাকবেনা কারো অনিষ্টচিন্তা । আমি আমার মনের মতো জায়গা পেয়েছি দাদা । আমাকে আর কোথাও তাড়িয়ে দিয়ে জীবনটা আবার তছনছ হতে দিস না ।
নরেশ একদিন আরতির সাথে একান্তে বসে সনাতনের ভালোবাসা সম্বন্ধে বলল।
আরতি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল ----- দাদা , আর তা হবার নয়।
-- কিন্তু সনাতন আজও তোকে ভালোবাসে। -- দাদা, সনাতন বাবুকে একদিন আমার সাথে কথা বলিয়ে দিবি ? আমি ওনাকে সব বুঝিয়ে বলব; লোকটা কেন আজও দুঃস্বপ্ন দেখবে বল? আমার জীবনে আর কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই।
" নিশ্চয়ই দেবো কথা বলিয়ে দেবো" বলে নরেশ অন্য কথায় চলে এল ।
নরেশ একদিন মাকে মামার বাড়িতে রেখে এল চালাকি করে । তার উদ্দেশ্য সনাতনের সাথে আরতিকে একান্তে কথা বলার সুযোগ করে দেবে । আরতি যদি চায় তাহলে মন্দ হবে না সনাতনের সাথে । রাজি হলে আসামে গিয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করে আসা যাবে নাহয় ।
স্কুল থেকে এসে নরেশ চুপ করে সনাতনের ঘরে গিয়ে উঁকি মারল একটু ।
সে সনাতনের কীর্তি দেখে অবাক বিস্ময়ে চেয়ে রইল ।
একি ! সনাতন টেবিলে কি করছে ? এত কাগজ কেন টেবিলে ।
চুপ করে লেখায় ডুবে যাওয়া সনাতনের একদম কাছে গিয়ে ডাকতেই সনাতন চমকে উঠল ।
---- সনাতন , কী এসব ?
--- নরেশ , তোকে বলিনি এখনো । আমি একটা উপন্যাস লিখছি ।
--- কী ? উপন্যাস ?
---- হ্যাঁ ভাই । শেষ অধ্যায়টা আজ লিখে ফেললাম । পড়বি ? অবশ্য প্রকাশক আমার লেখা দেখে পছন্দ করেছে ।
---- ছাপবি তুই ?
--- আমি কেন ? প্রকাশক ছাপবে
----আগের উপন্যাস তোর টেবিলে দেখলাম সেদিন । আমি ছদ্মনামে প্রকাশ করছি সব ।
---- আচ্ছা ! তুই তাহলে লেখক অনীশ ?
----হ্যাঁ নরেশ , আমি সেই অনীশ । আমার প্রথম উপন্যাস " পল্লিমেয়ে তোর টেবিলে দেখলাম সেদিন।
---- তাই? তারপর এই নতুন উপন্যাসের নাম ?
----- প্রকাশ হলেই দেখবি । আজ নয় ।
----আচ্ছা, তোর পল্লিমেয়ে বইটা বাজারে খুব চলছে তো , রয়াল্টি পাচ্ছিস ?
---- পাচ্ছি সামান্য ।
----আমার একটা কথা ছিলো সনাতন ।
---- কী বিষয়ে ?
---- আরতি সম্পর্কে ।
সনাতন হাত জোর করে বলল ---- নরেশ , আমি আরতির কাছে কৃতজ্ঞ ভাই । সে আমার উপন্যাসের প্রেরণা । কিন্তু আমি আর কয়েকটা দিন পরে দেখা করব তার সাথে ।
নরেশ আর কোন কথা বলতে পারল না । সে দৌড়ে বাড়ি গিয়ে উপন্যাসটা আবার পড়ে নিয়ে ভাবল ---- আরে বইটা তো আরতিকে ঘিরেই লিখেছে ! উপন্যাসের পল্লিমেয়ে স্নিগ্ধা মানেই তো দেখছি আরতি ।
সে উপন্যাসটা নিয়ে আরতিকে দিয়ে বলল --- সামান্যকিছু রান্না কর আজ ।
---- কেন ?
----- আজ খেতে ইচ্ছে করছে না ।
"সেকি রে ! দেখি জ্বর উঠল কিনা ! " বলেই নরেশের গায়ে হাত দিয়ে বলল , কই ? জ্বর তো নেই ? তাহলে পেট খারাপ নাকি তোর ?
---- না রে , কিছুই হয়নি আমার ।
নরেশ আরতির হাতে উপন্যাসটি দিয়ে বলল ---- এই বইটা একটু মন দিয়ে পড়বি রাতে ।
আরতি বইটি হাতে নিয়ে উপন্যাসের নাম এবং লেখকের নাম দেখে বলল ---- সুন্দর তো নামটা , পড়ে নেবো রাতে । দাদা , আমি শরত চন্দ্রের অনেক উপন্যাস পড়েছিলাম ছাত্রজীবনে । এদেশে আসার পর আর পড়া হয়নি কোনো বই ।
নরেশ আবার বলল রান্নাকরেই রাতে বইটা পড়ে শেষ করবি কিন্তু ।
-- অবশ্যই পড়ব দাদা, তুই জানিস না, আমি উপন্যাসের পোকা।
চলবে -------

Mar 01, 20
1
1
0
0
Date and Time
Notices
Categories
অণু ভৌতিক গল্প - Molecular Horror Story (34)
অনু কবিতা - Anukobita (398)
অনু-গল্প - Anu-Golpo (24)
অনুকাব্য - Anukabbo (9)
অনুবাদ সাহিত্য - Translation Literature (0)
আধুনিক কবিতা - Modern poetry (193)
আমার ডায়েরি - My Diary (14)
ইসলামী গজল - Islamic Ghazals (5)
ইসলামী গল্প - Islamic Story (1)
উপন্যাস - Novel (183)
এসো পাশে দাঁড়াই - Let's stand by (1)
কথোপকথন - Conversation (4)
কবিতা - Poem (6625)
কাব্য চিঠি - Poetry letter (23)
কৌতুক গল্প - Story of Joke (1)
কৌতুকধর্মী কবিতা - Comedian poetry (2)
খোলা ভাবনা - Open Thinking (44)
গদ্য কবিতা - Prose poetry (218)
গবেষণামূলক সাহিত্য - Dissertation literature (4)
গল্প - Story (149)
গীতি কবিতা - Lyric Poetry (108)
গ্রন্থ আলোচনা - Book discussion (9)
চতুর্দশপদী কবিতা - Sonnet poetry (28)
ছন্দের কবিতা - Rhyme Poetry (68)
ছোটগল্প - Short Story (58)
ছোটদের গল্প - Children's Story (8)
ছড়া - Rhyme (185)
জীবনী - Biography (15)
নাটক - Drama (2)
পঞ্চতন্ত্রের গল্প - Panchatantra’s Story (0)
পদ্য কবিতা - Verse poems (83)
প্রচলিত কাহিনী - Common myths (0)
প্রবন্ধ - Essay (41)
বিরচন - Formation (1)
ব্যঙ্গাত্মক কবিতা - Satire Poetry (1)
ভৌতিক-গল্প - Horror Stories (2)
ভ্রমণ কাহিনী - Travel Story (1)
রম্যরচনা - Comics (1)
রূপকথার গল্প - Fairy tale (0)
লিমেরিক কবিতা - Limerick poems (29)
শিশুতোষ ছড়া - Childish rhyme (4)
শ্যামাসঙ্গীতঃ - Shyama Sangeet (1)
হাইকু কবিতা - Haiku Poem (11)
New Members
Video Gallery
Visitors Statistics
Online
Members 0
Guests 1
Visitors Counter
Total 465012
Today 92
Yesterday 375
This Week 9544
This Month 24241
Top 10 countries of this month
United States 4913
France 1331
Ireland 24
Bangladesh 9
Russia 3
SUPPORT
Copyright © 2017-2020 kobikotha.com. All rights reserved.
Power by: WanaApps
Advertisement Members Faq Terms and Condition