প্রথম পরশ-১

Majharul Islam

ছুটির ঘন্টা বেজে-উঠতেই সুদর্শন তরুণ বি এস সি টিচার রফিক, চক-ডাস্টার হাতে নিয়ে ক্লাস-রুম থেকে বের হয়ে, টিচাদের জন্য নির্ধারিত রুমে গিয়ে একটি চেয়ার টেনে আয়েশে হেলান দিয়ে বসে। সিনিয়র অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকার সনে কিছুক্ষণ দু-চারটা কথা সেরে, সে তাঁর নিজ বাড়ী পানে হাঁটা শুরু করে। মনে ভাবনা তাড়া দেয়, বাড়ী গিয়ে গরু-গুলোকে পানি ও খড় দিতে হবে। তাই সে দেরি না করে দ্রুতই ছুটে চলে বাড়ী পানে। তখন দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়েছে। স্কুল থেকে এক দেড় কিলো-মিটার দূরেই তাঁর পৈতৃক বাড়ী। রফিকের বয়স ত্রিশ ছুঁই-ছুঁই করছে। সে এখনো বিয়ে করেনি। ঘরে আছে তাঁর বৃদ্ধা মা। রফিক যখন ক্লাস নাইনে আর ছোট বোন শরিফা প্রাইমারীতে পড়ে, তখন তাঁদের বাবা শফিউর রহমান হঠাৎ একদিন ইন্তেকাল করেন। সেই থেকে রফিকের উপরই এই সংসারের ভার এসে পড়ে। রফিক সংসার চালানোর জন্য বাবার রেখে যাওয়া যৎ সামান্য ফসলি জমিতে হালচাষ করে আর পাশাপাশি লেখা পড়াটাও সে চালিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর গাঁয়ে দু-একটা টিউশনিও করে। রফিক ছাত্র হিসেবে খু্বই মেধাবী। কৃষি কাজ পাইভেট পড়ানো ও লেখাপড়া এক সনে চালিয়ে কোন রকমে দিন চলে যাচ্ছিল তাঁদের ছোট সংসারের। ছোট বোন শরিফা যখন ক্লাস টেনে উঠলো তখন পার্শ্ববর্তী গাঁ থেকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব এলো। ছেলে রেলওয়েতে চাকুরী করে, বংশ মর্যাদায়ও ভালো। রফিক এতো সুন্দর একটি প্রস্তাব পেয়ে বেজায় খুশি। সে তাঁর মা রমিছা বানুর সনে পরামর্শ করে ছোট বোন শরিফাকে বিয়ে দিয়ে দেয় এক অনারম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। কিছুদিন পর রফিক বি এস সি-তে প্রসংশনীয় রেজাল্ট করে। তাঁর এতো ভালো রেজাল্টের কথা শোনে পার্শ্ববর্তী হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির প্রধান গাঁয়ের মাতুব্বর রুস্তম আলী ভূঁইয়া একদিন রফিকদের বাড়ী এসে বলে তাঁর স্কুলে বি এস সি টিচার পদে যোগদান করতে। রফিকও এমন অকল্পনীয় প্রস্তাবে তৎক্ষণাৎই রাজি হয়ে যায়। আর বলে দাদা ঠিক আছে আপনার কথা তো আর ফেলতে পারিনা? আমি দু-এক দিনের মধ্যেই স্কুলে গিয়ে জয়েন করবো ইনশাল্লাহ। রফিক যথা নিয়মে উক্ত হাই স্কুলে বি এস সি'র শিক্ষক পদে যোগদানের কাজ সমাধা করে। এর পর থেকেই রফিকের মা প্রায়ই রফিককে চাপ দিয়ে আসছে বিয়ে করে যেন সে ঘরে নতুন বৌ আনে। রফিক এতোদিন ছোট বোন শরিফার বিয়ের কথা বলে মাকে কোন-রকমে সান্ত্বনা দিয়েছে। রফিকের মা রমিছা বানু পুত্রের মুখে ছোট বোন ও সংসারের প্রতি গভীর দায়িত্ব-বোধ দেখে মনে মনে তৃপ্তি পায়। তাই ছেলের সিদ্ধান্ত রমিছা বানু মেনে নেয় নতশিরে। কিন্তু শরিফার বিয়ের হওয়ার-পর, রফিক মাকে এখন কি অজুহাত দেখাবে? এ-ভাবনাই তাঁর মগজে নীরবে বাসা বেঁধেছে।
চলবে--

Jun 01, 2022
1877
0
0
0

Majharul Islam

কবি ও সাহিত্যিক

4.0

  642 total
Category
গল্প
Story
Myisha Khatun
Jun 09, 2022
আপনার লেখা অনেক ভাল

সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি:

on test

SUPPORT
Copyright © 2017-2022 kobikotha.com. All rights reserved.
Power by: WanaApps
Members Faq Terms